পরিস্থিতি কারোর প্রকৃতি নির্ধারণ করে থাকে-

22nd November, 2023
233




অনাকাঙ্ক্ষিত বিষয়বস্তুঃ

শান্তিপূর্ণ জীবন কাউকে যেকোনো কিছু বুঝতে প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত সময় নেওয়ায়। কিন্তু ভিতরের চাপে প্রকাশ্যের শান্তির জীবন কাউকে সময়ের আগে যেকোনো কিছু বুঝিয়ে দেয়। কিন্তু এই ধরনের ব্যক্তিগুলো কখনোই প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত বুঝতে চায় না। কারণ তারা নিজেদের প্রতি বেশি যত্নবান হয়ে থাকে। যেজন্য তারা যেকোনো ব্যক্তির সাথে সীমিত পরিচয়ে স্বার্থপর হিসেবে বিবেচিত হয় তাদের কাছে। যা তাকে বিষয়টা থেকে দূরত্ব রেখে সামনে এগোতে শেখায়। কারণ ব্যক্তিগত ছাড়া যেকোনো চাপ তাদের ভিতরে দায় অনুভব করায়। আর এই প্রকৃতির মানুষগুলো সবসময় অন্যত্রের দায় এড়ানোর চেষ্টা করে। কারণ তারা পরিবারের দায়িত্ব বোঝে। যার কারনে জীবনের একটা অংশ তারা পরিবারের জন্য উৎসর্গ করে। সুতরাং তারা কাউকে বিপদে সাহায্য করলেও তাদের দায় কখনোই গ্রহণ করে না। কারণ উৎসর্গের জীবন একটা হলেও তার পরিচালনায় পরিবারের সিদ্ধান্তের গুরুত্ব অপরিসীম।

একটা মানুষ আর পশুর প্রতি পার্থক্য থাকে সাধারণ কিছু বিষয়ে। কিন্তু শ্রেষ্ঠত্ব নিয়ে পৃথিবীতে ভূমিষ্ঠ হয় মানুষ। তারপরও কেউ কাউকে জীবনের সবটুকু উজাড় করে দিলেও, বেশিরভাগ ব্যক্তিই বিপদের দিনে নিজের পথ আলাদা করতে সময় নেবে না। কিন্তু একটু যত্ন আর ভালোবাসায় সেই ব্যক্তির প্রতি একটা পশু তার জীবন উৎসর্গ করতে দ্বিতীয়বার ভাববে না। কারণ পশুরা প্রকৃতির হাজার পরিবর্তনে একটা রূপ বজায় রাখে। আর শ্রেষ্ঠত্ব অর্জিত মানুষ প্রকৃতির পরিবর্তনের পূর্বেই নিজেদের পরিবর্তন নিশ্চিত করে। মানুষ বোধশক্তির কারণে নিজেদের দ্রুত পরিবর্তন করায়, স্বার্থে কাছের ব্যক্তি থেকে দূরত্ব বাড়াতে সময় নেয় না। যার কারনে একটা সময়ের পর জীবনের হিসাব চোখের পাতায় ভাসলে, শ্রেষ্ঠত্ব অর্জিত মানুষ হয়েও অনেকেই একটা নির্বোধ প্রাণীর কাছে হেরে যায়। তখন বুঝেও কোনো কিছু সংশোধনের সুযোগ, সময় দুটোই বিলুপ্ত হয়ে যায়। যার জন্য বোধশক্তির মধ্যে কিছু সময় অনুতাপের আবির্ভাব ঘটানো উচিত। যা কাউকে শেষের আত্মসমর্পণে কোনো কিছুর অবশিষ্টতায় তা অনুভব করাবে না।

কোনো বিষয়ে আত্মসমর্পণ করার পূর্বে ভুলগুলো ভালোভাবে যাচাই করা উচিত। অনেক সময় বিবেচনার ভুলে অনেকেই নিজেকে এমন বিষয়ে আবদ্ধ করে। যেখানে শুধু প্রবেশের রাস্তা থাকে আর বেরোনোর রাস্তা জীবনের সমাপ্তিতে। তাই কোনো বিষয়ের কারণ বা সমাধান খুঁজে না পেলে পরিস্থিতি এড়িয়ে, বিষয়টা সময়ের সাথে ত্যাগ করা উচিত। যাতে তার দোষ-গুণ নিজের মধ্যে আবদ্ধ থাকে। তাহলে হয়তো বড় সমস্যা উদ্ভব হওয়ার পূর্বেই তার সমাপ্তি ঘটে। সবসময় হাতে একটু অতিরিক্ত সময় রাখা উচিত। দ্বিধার অবসান ঘটিয়ে যেকোনো বিষয়ের কল্পণশক্তিকে প্রখর রাখার জন্য। যখন সিদ্ধান্ত নিতে সময় লাগলেও বিশেষ কোনো প্রভাব ছাড়াই সঠিকটা বেছে নেওয়া সম্ভব হবে। তখন জীবনের অনেকটা সময় বাঁচিয়ে নতুন চিন্তার মাধ্যমে কল্পনাশক্তির গাঢ়ত্ব বাড়তে থাকবে। যা কারোর জীবনের প্রতি অসীম ইতিবাচক প্রভাব বিস্তার করবে।

মানুষ যা করতে চায়। আর সময়ের সাথে তাকে যা করতে হয়। বিষয়টার পূর্ব পরিকল্পনা  আর পরে সংঘটিত কাজের মধ্যে সীমিত পার্থক্য থাকলেও অনেক বেশি অনুভব করায়। যা কাউকে অনেকসময় এমন কিছু ত্যাগ করতে বাধ্য করায়। যা হয়তো তার বেঁচে থাকার কারন ছিল। তাই কোনো কিছুর জন্য ত্যাগ করার বা করানোর আগে নিজের বা তার সংবেদনশীল বিষয়গুলো বিবেচনা করা উচিত। কারণ অজান্তেই কারোর দুর্বলতায় আঘাত পর মূহুর্তে তার সামান্য উপস্থিতি কারোর অপ্রকাশ্যের বিরক্তির কারন হয়। যা সবসময় সেই ব্যাক্তি থেকে তাকে নিশ্চুপে দূরে রাখে। তখন সেই বিষয়ের সমাধান প্রকাশ্যে সম্ভব। কিন্তু ভেতর থেকে এই সমাধান তাকে তত বেশি করে দূরে নিতে থাকবে। কারণ ব্যক্তিত্বসমপন্ন মানুষ সবকিছু মানতে পারলেও তাদের দুর্বলতার আঘাতকে কখনোই উপেক্ষা করে না। যা সময়ের সাথে তাদের কাছে তার কঠিন রূপ প্রকাশ করে।

সময় মানুষকে শেখাবে। কিন্তু সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে দায়ভার প্রত্যেকেরটা প্রত্যেককে গ্রহণ করতে হয়। সবকিছু থেকে ঘুরে দাঁড়ানো গেলেও দায়ভার কারোর মনে বোঝার রূপ ধারণ করে থাকে। যার কারণে দায়ভারের চাপ কারোর ভিতরকে নির্বিশেষ করলেও জীবনের অজানা অনেক বিষয়ের পরিচিতি করায়। যা কাউকে চাপের মাঝে দ্বিধাগ্রস্ত করার জায়গায় মজবুত করে।

রিলেটেড পোস্ট


ক্ষুদ্র প্রতাপ সাময়িক সময়ে প্রভাব বিস্তার করে-
পড়া হয়েছে: ৩৬১ বার

অমর চিত্তে স্থগিত প্রয়াসের একটি নতুন সম্ভাবনা-
পড়া হয়েছে: ৫১০ বার

সর্বোত্তম মূহুর্তের যেকোনো বিবেচনা মন থেকে আসে-
পড়া হয়েছে: ৩২২ বার

জীবনের সান্নিধ্যে সবকিছুর নির্ধারিত মাত্রা বজায় রাখা উচিত-
পড়া হয়েছে: ৮০৫ বার

স্বাভাবিক মাত্রায় যেকোনো কিছুর তারতম্য বজায় রাখা সম্ভব-
পড়া হয়েছে: ৪৪২ বার

মনঃস্তাত্বিক বিষয়গুলো যত্নের সহিত রাখা উচিত-
পড়া হয়েছে: ২৪৯ বার

শুরু থেকে শেষের অপেক্ষায় থাকা জীবন-
পড়া হয়েছে: ২১৮ বার

কোনো কিছু উপলব্ধি করতে ইতিবাচক চিন্তার প্রভাব-
পড়া হয়েছে: ২৫২ বার

জীবনের প্রথম জিনিস কখনই পরিবর্তন হয় না-
পড়া হয়েছে: ২৫৩ বার

পূর্ণ সমীক্ষায় সময়ের সঠিক মূল্যায়ন করা উচিত-
পড়া হয়েছে: ৪১৭ বার


আরো নিবন্ধন পড়ুন



মানুষ নির্ভীক মনোভাবে যেকোনো কিছু শক্তভাবে অনুধাবন করে- Friday, 15th December, 2023

উদ্বৃত্তের সমতাঃ

মানুষের মনোভাব তার জীবনের অংশবিশেষ হিসেবে সবকিছু নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। যেজন্য কম-বেশির মাঝেও কোনো কিছুর প্রতি সমতা কাজ করতে থাকে অনেকের মধ্যে। সব বিষয়ের সুষ্ঠ পরিচালনায় মাঝে মাঝে হালকাভাবে একান্তে কিছুটা সময় কাটানো উচিত। যাতে কেউ নিজের দুর্বলতাগুলো নিজের সাথে ভাগ করে নিতে পারে। কারণ পৃথিবীর যেকোনো কিছু বুঝতে গেলে নিজের দুর্বলতা আর সরলতার প্রতি সময় দেওয়ার মাধ্যমে জীবনের সংবেদনশীলতা বজায় রাখা সম্ভব। যখন অনেকেই তার প্রত্যেকটা বিষয়ের সুষ্ঠ সম্পাদনা করতে সক্ষম হয়। সময়ের সাথে প্রত্যেকের মাঝে হয়তো, তখন তার কঠিনত্বতা প্রকাশ হতে থাকে। কারণ কারোর বিবেচনার ভিন্নতায় তার মনোভাব তৈরি হয়। যে কারণে বেশিরভাগ মানুষ কোনো কিছু সহজভাবে নিতে পারে না। তখন অন্যান্য কিছু ব্যক্তি পরিস্থিতির চাপে ভেতরের বিষন্নতায় ভীত হতে থাকে। যেজন্য কারোর নিজের মধ্যে সরলতার অস্তিত্ব তৈরি করা উচিত। যা কাউকে যেকোনো কিছুর সমতা বজায় রাখার মাধ্যমে নির্ভয়ে সময়ের সাথে এগোতে সাহায্য করবে।

জীবনের পথচলায় অন্যকে অনুসরণের জায়গায় কারোর ভালো দিকগুলো অনুপ্রেরণা হিসেবে নেওয়া উচিত। কারণ অনুসরণে ব্যক্তিত্বহীনতার শিকার হতে হয়। যখন কেউ তার করণীয় সম্বন্ধে অবগত হতে প্রয়োজনের চেয়ে অতিরিক্ত সময় নিয়ে থাকে। কিন্তু ত্যাগের মাধ্যমে যে কেউ হয়তো তার অস্তিত্ব তৈরি করতে পারে। যখন ব্যক্তিগুলো সবার মাঝে ভিন্ন। কিন্তু ত্যাগের মূহুর্ত থেকে তারা মনুষ্যত্ববোধসম্পন্ন মানুষ। তখন সেইসব ব্যক্তির রাগ, অহংকার নিঃশেষ হয়ে তাদের ভিতরে অনুতাপ তৈরি হতে থাকে। যার মাধ্যমে ব্যক্তিগুলো সম্পূর্ণরূপে বদলে মনুষ্যত্ববোধসম্পন্ন মানুষ হিসেবে জীবনের স্বার্থকতা অর্জন করে থাকে। নিঃস্বার্থ জীবন-যাপনে প্রতিনিয়ত যেমন বাঁধার সম্মুখীন হতে হয়। তেমনি সমস্ত বাঁধা পেরোনোর পর তার প্রতিষ্ঠিত জায়গা সবসময় নির্ধারিত থাকে। যখন কেউ চাইলেও তার জায়গার ছোট পরিবর্তন করতেও অসক্ষম রয়ে যায়। ব্যক্তিতভেদে মানুষ পরিবর্তনশীল। তবে নিজের সত্তা তৈরিতে অতিরিক্ত ইচ্ছাশক্তি ত্যাগের মাধ্যমে সমস্ত বাঁধা পারকৃত ব্যক্তিগুলো সবার মাঝে নিজের অস্তিত্ব স্থাপনের মাধ্যমে অমর হয়ে থাকে।

মানুষের অনুভবের ভিত্তিতে তার বিবেচনার গাঢ়ত্ব বাড়ে- Friday, 17th November, 2023

সময়ের প্রভাবঃ

কিছু সময় আবছা বিষয়ের প্রতি অনুভবের গাঢ়ত্ব পরিলক্ষিত হয় অনেকের মধ্যে। যা কাউকে সরাসরি অনুভব প্রকাশ না করালেও বিষয়টার প্রভাব তাদের চোখে জলজল করতে থাকে। প্রকাশ্যে যেকোনো কিছুর প্রভাব লুকানো গেলেও অনুভবে অসম্ভব। আবার মানুষের কল্পনায় এমন অনেক কিছুই সম্ভব যা বাস্তবে অসম্ভব। সময় মানুষকে জীবনের সীমান্তে অভিজ্ঞতার চূড়ায় পৌঁছে দেয়। যা কাউকে সমর্পণের মাধ্যমে মানুষ তার জীবনের পূর্ণতা অর্জন করে। কিন্তু কোনো কিছু পেয়েও যদি তার ব্যবহার অনিশ্চিত থেকে যায় কারোর জীবনের প্রতি। তাহলে সময়ের সাথে জীবনের অনুভব কঠিন হতে থাকে সেই ব্যক্তিগুলোর কাছে। কারণ সে বিশেষ কিছু পেয়েও সঠিক মূল্যায়ন করতে পারেনি। তাই কোনো কিছু পেয়ে সময়ের সাথে তার গুরুত্ব বজায় রাখলে সবকিছু্ই সহজ।

কারোর জীবনের অনুভব তাকে সফল বা অসফল করে থাকে। তাই অনুভবেও বিবেচনার গুরুত্ব অপরিসীম। মানুষ যেমন বদলাতে জানে। তেমনি কোনো পরিস্থিতিতে নিজেকে ধরে রাখতেও জানে, যদি ব্যক্তিত্ব মজবুত আর বিবেচনা শক্তি প্রখর হয়। তাই কেউ জানে না যে, সময় কখন কাকে কোন পরিস্থিতিতে রাখবে। যেজন্য সময়ের সাথে সবাইকে বিবেচনার সাথে মানবিকতা বজায় রেখে চলা উচিত। যা তাকে সহজেই সামনের দিনের সমস্যার সমাধান দিবে। অনেকেই যেকোনো কিছু সময়ের সাথে তুলনা করতে থাকে। কিন্তু তারা জানে না যে, তুলনা কাউকে সবসময় একরকম রাখে। যার কারণে তার প্রতি পরিস্থিতিও একঘেয়েমি প্রকাশ করে। তাই যে কারোরই তুলনার জায়গায় মানায় নেওয়ার চেষ্টা করা উচিত। তাহলে একসময় হয়তো জীবনে জটিলের সরলতা খুঁজে পাবে।

প্রত্যেকে মানুষ হয়ে জন্মালেও অনেকের মধ্যে মনুষ্যত্ববোধ থাকে না। যার কারনে সেসব ব্যক্তি মানুষ হিসেবে জীবন-যাপন করলেও তাদের যেকোনো কিছুই অর্থহীন। যা কাউকে সমাপ্তিতেও অসম্পূর্ণ রাখে। অনেকের কোনো কিছুর প্রতি আকৃষ্টতা কাজ করলেও সময়ের প্রতি দুর্বলতা কাজ করতে থাকে। যা কারোর জীবন অতিবাহিত করলেও তাকে ভেতর থেকে কিছু বিষয়ে জড়তা অনুভব করায়। সময়ের সাথে বিষয়টা তাকে যেকোনো কিছুর থেকে দূরে রাখে, অনুভূতি হারানোর ভয়ে। অনেকের ভেতরে বোধ কম মানবিকতা বেশি। যেজন্য তারা না বুঝলেও সময়ের অনুভব করতে জানে। যা কারোর অবুঝ জীবনকেও সম্পূর্ণতা দান করে। সময়ের সাথে নিজের মধ্যে শান্তি তৈরি করা উচিত। কোনো কিছুর সীমাবদ্ধতা বজায় রাখার জন্য। যা কাউকে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ শেখায়।

অনেকের জীবনে শুরুর নিঃশেষে সবকিছু লুকিয়ে থাকে। যা কাউকে একবার পেতে শুরু করালে কোনো কিছুর অপূর্ণতা রাখে না। স্বার্থের জীবনের নিঃস্বার্থ কিছু না খুঁজে নিজের গতি তৈরি করা উচিত। যা কাউকে যেকোনো পরিবেশে মানানসই করে তোলে। তখন কোনো কিছুর মাঝেও নিজের মূল্য বজায় রাখতে সক্ষম হবে। সীমাবদ্ধতা কাউকে আটকায় না। প্রত্যেকের ভারসাম্য বজায় রাখে। যা অসীম কষ্টেও কাউকে নিস্তব্ধভাবে চলতে শেখায়। কেউ যখন নিজের দিক দিয়ে বিবেচনা করে, তখন মানুষ সুবিধাবাদী। আর যখন কেউ অন্যের দিক দিয়ে বিবেচনা করে, তখন মানুষ সুবিধাবাদী। বিষয়টা এক হলেও পার্থক্য ব্যক্তিভেদে চিন্তাধারার।

সময় মানুষকে ভাবনার মাঝেও শেখায়। কিন্তু নিজের পরিচালনা বিবেচনা দিয়েই করতে হয়। কষ্ট কাউকে মজবুত জীবন-যাপন করায়। কিন্তু মানবিকতা বজায় রাখলে জীবন প্রয়োজনের চেয়ে তুলনায় সুন্দর হয়।