প্রকৃতির স্বচ্ছতা বর্ষায় আর মানুষের স্বচ্ছতা তার চরিত্রে-

20th November, 2023
251




বর্ষার আবির্ভাবঃ

বর্ষার ছোঁয়া যেকোনো কিছুর নতুন রূপ ধারণ করায়। হোক সে মানুষ বা প্রকৃতি। তৈরি করার ক্ষমতা দুইটা বিষয়েই বিদ্যমান। যা সময়ের সাথে সবকিছু আগলাতে সহায়তা করে। প্রকৃতি নিজের মায়ায় সবকিছুর পরিবর্তন আনে সময়ের সাথে। আর মানুষের বিবেচনায় বোধশক্তি উদ্ভবের সাথে, তাদের সবকিছুতে পরিবর্তন হয় অভিজ্ঞতা অর্জনের মাধ্যমে। ধারণক্ষমতা যেকোনো কিছুতেই আছে। কিন্তু সময়ের সাথে তা বজায় রাখা কিছুটা কঠিন হয় অনেকের ক্ষেত্রে। মানুষ হয়ে জন্মালেই শ্রেষ্ঠত্ব অর্জিত হয় না। আশেপাশের প্রত্যেকটা বিষয়, পরিস্থিতির বিবেচনায় নিজের বা কারোর ভালোর জন্য কিছুটা ত্যাগ করা। নিজের সীমা বজায় রেখে কারোর শেষ ভরসার কারণ হওয়া নিঃস্বার্থভাবে। কাউকে কোনো কিছুর জন্য দোষ না দিয়ে নিশ্চুপে প্রত্যেকটা বিষয়ের কারণ খোঁজা। কারণ কোনো বিষয়ের সত্যতা তখনই প্রকাশ করে। যখন তা কেউ নিজের সত্যতায় বিবেচনা করতে সক্ষম হয়। যার সাহায্যে পরিত্যাক্ততায়ও নতুন কিছু সৃষ্টি করা যায়।

যেকোনো কিছুতেই কারন থাকা যেমন সাধারণ বিষয়। তেমনি কারণ ছাড়া যেকোনো কিছুই অন্তিমে সেই বিষয় সংক্রান্ত সবকিছুর অস্বাভাবিকতা প্রকাশ করে। কোনো কিছুর সীমাবদ্ধতা কারোর জড়তা তৈরি করে না। মানে ছাড়া কোনো কিছুর নেতিবাচক প্রভাব জেনেও জীবনের সীমিত জায়গায় দেওয়াটা কাউকে ভেতর থেকে জড় করে রাখে। যার কারণে প্রভাব জেনে কোনো বিষয়ের আলগা নির্দিষ্টতা তাকে মন খুলে বাঁচতে শেখাবে। যা পরবর্তীর অনির্দষ্টতায়ও আত্মবিশ্বাসের মাধ্যমে যেকোনো কিছুর প্রতি কারোর পরিপাট্যতা ধরে রাখতে সহায়তা করে। যেকোনো মৌসুমে প্রত্যেকের পরিবর্তিত রূপ দেখা যায়। কিন্তু বর্ষার একটু ছোঁয়া কাউকে তা থেমে যাওয়ার পর মূহুর্তের আবছা আলোয় হিমেল পরিবেশকে গভীর থেকে অনুভব করায়। যা কারোর ভিতরে নতুন অনুভব সৃষ্টি করে। যেই অনুভব থেকে কেউ নিজেকে বেশিরভাগ পরিস্থিতিতে শান্ত রাখতে পারে।

রিলেটেড পোস্ট


পরাক্রমশালী মনোভাবে তৈরিকৃত জীবন-
পড়া হয়েছে: ৫৫৬ বার

বেলা শেষে-
পড়া হয়েছে: ২৩৮ বার

পরিস্থিতি কারোর প্রকৃতি নির্ধারণ করে থাকে-
পড়া হয়েছে: ২৩৪ বার

আত্মপ্রকাশের অনুভবে স্মৃতির পাতায় গাঁথা ভেজা মুহুর্তগুলো-
পড়া হয়েছে: ৪১৩ বার

প্রত্যেকটা নারীর প্রকৃতির সাথে আলাদা একটা সম্পর্ক থাকে-
পড়া হয়েছে: ২৯০ বার

আবছা বিষয়গুলোর প্রতি মানুষের প্রয়োজন বেশি-
পড়া হয়েছে: ৩৫২ বার

পূর্ণ সমীক্ষায় সময়ের সঠিক মূল্যায়ন করা উচিত-
পড়া হয়েছে: ৪১৭ বার

বিব্রতকর পরিস্থিতির অনাকাঙ্খিত চিন্তার প্রভাব-
পড়া হয়েছে: ২৫১ বার

সমাজের বিপরীত প্রতিক্রিয়ায় নিজেকে পরিবর্তনের সময়-
পড়া হয়েছে: ২৬১ বার

জীবনের প্রথম জিনিস কখনই পরিবর্তন হয় না-
পড়া হয়েছে: ২৫৩ বার


আরো নিবন্ধন পড়ুন



সর্বোত্তম মূহুর্তের যেকোনো বিবেচনা মন থেকে আসে- Thursday, 30th November, 2023

বিবেচনার প্রেক্ষিতেঃ

কিছু শব্দ যখন ভাবনায় আটকে থাকে। তখন পর্যায়ক্রমে মানুষের চিন্তার খুব দ্রুত পরিবর্তন হয়। কিন্তু আবেগ থমকে থাকে। যার কারনে মানুষ অনুভব করা ভুলে যায়। এখন বিষয়টা হলো যে, এমনটা কখন হয়? সত্যিকার অর্থে যেই ব্যক্তিগুলো কোনো কিছুর প্রতি নিজের চেয়েও বেশি মূল্য দিয়ে থাকে। সেই বিষয়টার সামান্য আঘাতও ওই ব্যক্তিকে ভেতর দিয়ে অনুভব করায়। যার কারণে সেই বিষয়ের সাথে কেউ মানায় নিতে গেলে, মনঃস্তাত্বিক কষ্ট তাকে বিষয়টার প্রতি অভিমানের অনীহা তৈরি করায়। যার কারনে সবকিছুর পরিবর্তনের মাত্রা বাড়লেও সেই বিষয়ের নিস্তব্ধতা ওই মূহুর্তেই সবকিছুর পরিসমাপ্তি ঘটায়। নতুন করে বিষয়টা পুনরুজ্জীবিত হলেও হয়তো পূর্বের মতো কোনো কিছুই থাকে না। যার কারনে সেই বিষয় সম্পর্কিত যেকোনো কিছুই তার জীবনের প্রতি মূল্যহীনতা প্রকাশ করতে থাকে।

মানুষ তার জীবনের কিছু সময়ে সবকিছুর চিন্তা ভুলে একটু শান্তির নিঃশ্বাস নিতে চায়। কিন্তু পরবর্তীর বাস্তবতার কথা চিন্তা করলেই তখন বিষয়টাকে স্বপ্নে বেঁধে ক্লান্তির নিঃশ্বাসে নতুন সময়ের পথচলা শুরু করে। যেখানে কোনো কিছুর মানে না থাকলেও প্রত্যেকটা জিনিসের কারন খুঁজে জীবন পরিচালনা করতে হয়। কিন্তু আত্মিক বিবেচনাগুলো সবসময় ভেতরে স্বপ্নের বাসা বেঁধে পূর্ণতার অপেক্ষায় থাকে। যা কাউকে অনুভবে ভালো থাকতে সহায়তা করে। তার স্বপ্নগুলো পূরণ হোক বা না হোক। তাই প্রত্যেকের উচিত সবার সাফল্যের অনুপ্রেরণা নিয়ে নিঃস্বার্থভাবে পরিশ্রমের সাথে সৎভাবে এগোতে চেষ্টা করা। তাহলে তার জন্য কোনো না কোনো সময় ভালো কিছু অবশ্যই থাকবে। যা কল্পনার বিষয়গুলো থেকে অতিরিক্ত সুন্দর হবে। তখন হয়তো তার জীবনের সরলতার জন্য বিষয়গুলোর অপব্যবহার করার চিন্তা-ভাবনা আসবে না জীবনে। যার কারনে কষ্ট হলেও আস্তে আস্তে নিজেকে বদলানোর চেষ্টা করা উচিত। যা পরিবর্তন করার ক্ষমতা একমাত্র সৃষ্টিকর্তার কাছে থাকবে।

প্রশ্ন মানুষ তখনই করে যখন কোনো বিষয়ের প্রতি সে সম্পূর্ণ অজ্ঞাত না হচ্ছে। কিন্তু প্রত্যেকেটা মানুষের জানার ধরণ আর ইচ্ছাশক্তি হয়তো একরকম হয় না। অনেকে আছে, দ্বিধাবোধের মাধ্যমে প্রশ্ন করে থাকে। আবার অনেকে সবাইকে দেখে প্রশ্ন করে। আর কিছু প্রকৃতি আছে, যারা অন্যকে প্রশ্ন করার জায়গায় নিজেকে ভেতর দিয়ে সবসময় প্রশ্ন করে। আর নিজেই নিজের প্রশ্নের উত্তর খুঁজে বের করে। প্রশ্ন/কৌতুহলের এমন অনেক ধরন আছে যা হয়তো লেখা বা বলায় সীমাবদ্ধ নয়। কিন্তু উল্লেখিত প্রশ্নের ধরনের মধ্যে বিভিন্ন পার্থক্য সময়ের সাথে ব্যক্তিগুলোকে পরিবর্তিত বা অপরিবর্তিত রাখে। যে ব্যক্তিগুলো দ্বিধাবোধে কোনো প্রশ্ন করে, সেই ব্যক্তিগুলো তার অজান্তে পরিস্থিতি আর সময়কে খুব ভয় করে। তখন তার পরিবর্তনের জন্য সময়ের সাথে নিজের দ্বিধাবোধের পরিসমাপ্তি ঘটানো শ্রেয়। আর যে ব্যক্তিগুলো সবাইকে দেখে প্রশ্ন করে, তারা অন্যের বিচার-বিশ্লেষণেও অপরিবর্তিত থাকে। যার জন্য সময়ের সাথে তাদের পরিবর্তন হলেও ব্যক্তিত্বের দুর্বলতায় বিবেচনা, চিন্তা-ভাবনা, বোধশক্তির কোনো প্রভাব থাকে না জীবনের প্রতি। আর যে প্রকৃতির ব্যক্তিগুলো নিজেই নিজেদের প্রশ্নের সমাধান করে থাকে, তারা সবসময় পরিস্থিতির চেয়ে অন্যের বিচার-বিশ্লষণকে এড়িয়ে চলার চেষ্টা করে। কারণ বাস্তবেও তাদের ভেতরে একটা আলাদা জায়গা থাকে নিজের জন্য। যেখানে দোষ ধরে অপমান করার মতো কেউ না থাকায় সঠিকভাবে যেকোনো কিছু বিবেচনা করতে সক্ষম হয়। সেখানে ভুল হলেও সংশোধনে কোনো বিষয়ের জন্য দ্বিধাগ্রস্ততার স্বীকার হতে হয় না।

আত্মপ্রকাশের অনুভবে স্মৃতির পাতায় গাঁথা ভেজা মুহুর্তগুলো- Wednesday, 13th December, 2023

নির্বিশেষের অনুভবকৃত বিষয়ের আত্মপ্রকাশঃ

মানুষ সেইসব বিষয় কখনোই ভুলতে পারে না। যেই বিষয়গুলো কেউ নিজে থেকে অনুভব করে। কারণ একটা মানুষ পরিস্থিতির মায়া কাটাতে পারে। কিন্তু কিছু বিষয়ের ক্ষণস্থায়িত্ব জেনেও যদি কেউ অনুভব করতে থাকে। তখন হয়তো সেইসব ব্যক্তি তার অনুভবগুলোকে কখনোই ছাড়তে পারে না। কারণ বিষয়টাকে কেউ নিজের আরেকটা অংশ হিসেবে জীবনে জায়গা করে দেয়। যখন বিষয়টার প্রতি কারোর চাওয়া-পাওয়া থাকে না। কিন্তু বিষয়টার একটু অনুভবও তাকে শান্ত করে দেয় যেকোনো পরিস্থিতিতে। এইজন্য নিজ অনুভবকৃত বিষয়গুলো কাউকে এমনভাবে জড়িয়ে রাখে। যখন কেউ বিষয়টাকে মনে না রাখলেও সেই সম্পর্কিত যেকোনো কিছু কারোর মধ্যে পুরোনো অনুভব নতুন করে জাগায়। তখন হয়তো কেউ দায় থেকে মুক্ত থাকে। কিন্তু ভেতরের অনুভবগুলোর স্থায়িত্বে সবসময় কিছু ব্যক্তি জীবনের চাপে নিজের মধ্যে আবদ্ধ থাকে।

মানুষ বিভোর হয়ে থাকে সেইসব মূহুর্তে। যেই মূহুর্তগুলোকে ভেতরের জড়তার কারণে বদলাতে অসক্ষম রয়ে যায়। কারণ একটা ব্যক্তি তখনই থমকে যায়, যখন সবকিছু বুঝেও পরিস্থিতির দায়ভারে নিজেকে নির্বোধভাবে পরিচালনা করতে হয়। মানুষ সবকিছু পারলেও তার ভেতরের অনুভবগুলো কাউকে নিজের মতো অনুভব করাতে পারে না। যার কারনে অপ্রকাশ্যের অনুভবে কেউ নিজেকে ভাঙা গড়ার মাঝে আবদ্ধ করে রাখে। যখন সময়ের সাথে প্রত্যেকটা বিষয়ের স্পষ্টতা বাড়তে থাকে সেইসব ব্যক্তির মধ্যে। বর্তমানে মানুষ কাউকে শেখায় না। কারণ সময়ের অভাবে বেশিরভাগ মানুষ ভালো থাকার তাগিদে নিজের থেকে শিখতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। যখন কাজের মাঝেও অনেকে নিজের ভেতরকার বিষয়গুলো অপরিবর্তিতভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম হয়। কারণ কারোর জীবনের মূল উদ্দেশ্য হয়ে থাকে সবকিছুর মাঝেও নিজেকে ভালো রাখা।

পৃথিবীর যত সুখ..............,...... Sunday, 07th January, 2024

অ্যাই, শুনছো? অ্যাই! ঘুম ভাঙছে না বুঝি?

নীলার কানের কাছে প্রায় ফিসফিস

করে পাঁচ মিনিট ধরে ডেকে যাচ্ছে অনিক।

কিন্তু ভালোবাসা মাখা সেই ডাক যেন

কানেই যাচ্ছে না নীলার।

শরীরটা ভালো না তার। তাই হঠাৎ

করে তাকে ডেকে তুলতে চাচ্ছে না অনিক।

মাথায় হাত বুলাতে বুলাতে আরেকবার

ডাকায় আস্তে করে চোখ মেললো নীলা।

অনিকের মুখে হাসি ফুটলো। প্রতিদিন

সকালে নীলার ঘুম থেকে ওঠার

দৃশ্যটা সে কখনোই মিস করে না। কেন যেন

এই দৃশ্যের মাঝেও অনেক মানসিক

শান্তি খুঁজে পায় সে।

আমাকে যে অফিসে যেতে হবে! বলল

অনিক।

ওহ! কয়টা বাজে?

প্রায় সাতটা।

ও।

মনটা আবার খারাপ হয়ে গেল অনিকের।

নীলা কিছুই বললো না। ওর শরীরটা আসলেই

ভালো না। অন্যান্য দিন এমন সময়

নীলা ব্যস্ত

হয়ে দৌড়াদৌড়ি করে অনিকের জন্য

নাস্তা রেডি করে। অনিকও যতোটা সম্ভব

নীলাকে কাজে সাহায্য করে। কিন্তু আজ

নীলার শরীর খারাপ বলে তাকে আর

ডাকেনি অনিক। যাবার

মূহুর্তে বলে যাওয়ার জন্যই

ঘুমটা ভেঙ্গেছে নীলার।

আমার আজকে অফিসে যাওয়া একদমই উচিৎ

নয়, কিন্তু আজ এমনই কিছু কাজ

আছে যে না গিয়েও পারছি না, মন খারাপ

করে কৈফিয়তের সুরে নীলার কানের

কাছে বললো অনিক।

নীলা তার দিকে না তাকিয়েই ক্ষীণ

কণ্ঠে বললো, সমস্যা নেই, তুমি যাও।

তার দিকে কিছুক্ষণ

তাকিয়ে থাকলো অনিক। আর দুই-এক মিনিট,

তারপরই নীলা পুরোপুরি সজাগ হয়ে উঠবে।

সেই দুই মিনিট সময় পার করলো সে নীলার

মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে।

শোনো, আমি নাস্তা তৈরি করে গেছি,

তুমি ঠিক এক ঘণ্টা পর আটটায়

বিছানা থেকে উঠবে। ফ্রিজে ব্রেড

রাখা আছে। আমি জেলি দিয়ে রেখেছি,

তুমি খেয়ে নিও। আর খাওয়া শেষে পুরো দুই

গ্লাস পানি খাবে।

পানি খেয়ে সোজা বিছানায় যাবে।

কোনো কাজের বাহাদুরি দেখাতে হবে না,

বুঝেছো? প্রায় যেন আদুরে ধমক

দিলো অনিক।

তার এই আচরণের সঙ্গে পরিচিত নীলা।

সে একটু হেসে বললো, আচ্ছা ঠিক আছে।

অনিক বলে চললো, দুপুরের ভাতও

আমি রান্না করে রেখেছি। তরকারি কাল

রাতেরটাই আছে, আর রান্নার দরকার

হবে না। আমি ফোন

করে তোমাকে ডেকে দিবো যদি ঘুমিয়ে

থাকো। দুপুরে কিন্তু অবশ্যই

খেয়ে নিবে সোনা। তোমার

শরীরটা ভালো না। না খেলে কিন্তু শরীর

আরো খারাপ হবে।

খাওয়া নিয়ে বরাবরই নীলার উপর

জবরদস্তি করতে হয় অনিককে। আজ

সে বাসায় থাকতে পারছে না, নীলার

শরীরও খারাপ, তাই

নীলাকে বুঝিয়ে বলছে অনিক

যাতে মেয়েটা খাবার ফাঁকি না দেয়

কোনোভাবেই।

আর শোনো, তোমার ঘুম না আসলে টিভির

রিমোট তোমার কাছে রেখে গেলাম,

টিভি দেখো। গান

শুনতে ইচ্ছে করলে ল্যাপটপও

রেখেছি খাটের পাশেই। স্পিকারে লাইন

দেয়া আছে ল্যাপটপ থেকেই গান

চালাতে পারো। তবে কম্পিউটারের

সামনে বসে থাকবে না কিন্ত।

তাহলে শরীর আরও খারাপ করতে পারে।

আর কোনো কাজ করতে যাবে না।

এমনকি খাওয়ার পর

মাতব্বরি করে প্লেটটাও

ধুয়ে রাখতে হবে না।

নীলা বললো, আমাদের কি আর কাজের

লোক আছে নাকি যে সে এসে ধুয়ে রাখবে?

কাজের লোক থাকা লাগবে না। আমিই

এসে ধুয়ে রাখবো। তোমার শরীর খারাপ

তুমি এগুলো ছোঁবেও না। ঠিক আছে?

মাথা নাড়লো নীলা। অনিক বলে চললো,

তোমার খরগোশগুলোকে খাবার

দিয়ে রেখেছি। ওগুলো নিয়েও আপাতত

চিন্তা করতে হবে না। কেউ

এলে দরজা খোলার দরকার নেই। কেউ

আসবে না আজ। পরিচিত কেউ

আসলে দরজা না খুললে ফোনই করবে। ফোন

রিসিভ করলেই বুঝতে পারবে। বেল শুনেই

দরজার দিকে দৌড় দেবে না। বুঝেছো?

এবারও মাথা নাড়লো নীলা। তার ঠোঁটের

হাসিটা নজর এড়ালো না অনিকের। অনিক

নীলার গালে ছোট্ট একটা চুমু খেয়ে বললো,

এবার তাহলে আমি যাই সোনামণি।


তুমি কিন্তু ঠিক

যেভাবে বলেছি সেভাবে থাকবে।

কোনো কাজে হাত দেবে না। খুব

সাবধানে থাকবে। ঠিক আছে?

নীলার ঠোঁটটা নড়লো। কী বললো ঠিক

শুনতে পেলো না অনিক। তার ঠোঁটের

সামনে কান পেতে নীলাকে আবার

জিজ্ঞেস করতেই নীলা বললো, যাই না,

বলো আসি।

হাসলো অনিক। মেয়েটা সবসময়ই তার এই

ভুলটা ধরে। আচ্ছা জান আসি। এবার

হয়েছে?

হাসিমুখেই এবার মাথা নাড়লো নীলা।

অনিক তার কপালে একটা চুমু

খেয়ে উঠে দাঁড়ালো। তার সত্যিই আজ মন

সায়

দিচ্ছে না নীলাকে এভাবে একা রেখে

অফিসে যেতে। কিন্তু কিছু করার নেই, আজ

তাকে যেতেই হবে। ভয়াবহ

কোনো দুর্ঘটনা না ঘটলে আজকের অফিস

এড়ানোর কোনো সুযোগ নেই।

শেষবারের মতো নীলার

দিকে তাকিয়ে বিষণ্ন

মনে বাসা থেকে বের হলো অনিক।

*

সকাল ৮টা।

নীলার ফোনটা বাজছে। তিনবার

রিং হওয়ার পর রিসিভ করলো নীলা।

ওপাশ থেকে রাস্তার গাড়ি আর হর্নের শব্দ

ভেসে এলো প্রথমেই। তারপর

শোনা গেলো অনিকের গলা, নীলা,

উঠেছো সোনা?

উমম, স্পষ্ট করে কিছু বললো না নীলা।

তবে অনিকের

বুঝে নিতে অসুবিধা হলো না।

শোনো জান, এক্ষুণি উঠে পড়ো। মুখ

ধুয়ে ফ্রিজ থেকে ব্রেড খাও কয়েকটা।

তারপর দুগ্লাস পানি খাও। তারপর

ওষুধটা খেয়ে নেও। আমি তোমার বালিশের

নিচেই ওষুধের পাতাটা রেখে এসেছি।

আচ্ছা উঠছি, ঘুম জড়ানো কণ্ঠে বলল

নীলা।

আচ্ছা উঠছি না সোনা, এক্ষুণি উঠো।

ওষুধটা সময়মতো খেতে হবে না? উঠে পড়ো।

আমি থাকলে তো আমিই খাইয়ে দিতাম।

আমি নেই বলে কি একটু কষ্ট

করে ওষুধটা খাবে না?

আচ্ছা যাচ্ছি।

অনিকের খুশি হওয়াটাও যেন

শুনতে পেলো নীলা। খুব ছোট্ট ছোট্ট

ব্যাপারে অনিক খুব খুশি হয়। এগুলো নীলার

ভালো লাগে, অবাকও লাগে। তবে ভালোই

বোধহয় বেশি লাগে। তাই

খুশি হওয়াটা বুঝতে পেরেই যেন

শোয়া থেকে উঠলো নাস্তা করতে।

মুখ ধুয়ে ফ্রিজ

খুলে ব্রেডগুলো দেখতে পেলো নীলা।

হাতে নিয়ে আনমনেই হেসে উঠলো।

পাউরুটিগুলোর উপর

জেলি এতো মসৃণভাবে মাখিয়েছে অনিক

যেন কোনো মেশিন দিয়ে লাগানো। অথচ

নিজে খায় সময় যে কীভাবে জেলি লাগায়

অনিক!

খাওয়ার সময় খুব একা লাগলো নীলার।

প্রতিদিন সে আর অনিক

একসঙ্গে নাস্তা করে। প্রতিদিনই অনিক

একশো একটা বাহানা দেখিয়ে নিজের শেষ

পিসটা নীলাকে খাইয়ে দেয়।

ভাবটা দেখায় সে অনেক

ভালোবাসে বলে নীলাকে এভাবে খাওয়ায়।

কিন্তু নীলার মনে হয় অনিক

খাওয়া ফাঁকি দেয়ার জন্যই এটা করে।

অনেকবার প্রতিবাদ করেও কোনো লাভ

হয়নি। ছেলেটা এতো আদর করে সাধে,

না খেয়েও পারে না নীলা। অথচ অন্য

কারো সাথে এতোটা মিশে কথা বলতে পারে

না সে। যেন কেবল নীলার সাথেই

সে এতো দুষ্টুমি করে, অন্য কারো সঙ্গেই

পারে না।

ফোনের দিকে চোখ পড়তেই ভাবলো,

কী ঝামেলার মধ্যে থেকে ফোন

করেছে অনিক কে জানে।

হয়তো বাসে ঝুলে দাঁড়িয়ে ছিলো।

গাড়ি কেনার ইচ্ছে থাকলেও সামর্থ্য

হয়নি। তাই আর দশজন মানুষের মতোই

তাকে যাতায়াত করতে হয়।

তা যে কী ভয়াবহ অবস্থা সেটা নীলার

অজানা নয়। এতোকিছুর মাঝেও

কীভাবে অনিক ফোন করলো, কে জানে!

*

দুপুর ১টা।

এরই মাঝে আরও দুবার ফোন করেছে অনিক।

একবার নীলা ঘুমিয়ে ছিল। আরেকবার

টিভি দেখছিল। কিন্তু ঠিক ১টায় অনিক

ফোন করলো যখন নীলা রান্নাঘরে সিঙ্কের

সামনে দাঁড়িয়ে ভাবছে প্লেটগুলো ধুয়ে

ফেলবে কি না।

নীলার শরীরটা খারাপ লাগছিল

বলে রাতে খাওয়ার পর প্লেটগুলো আর

ধুয়ে রাখা হয়নি। নীলা না করলে অনিকই

সাধারণত এসব কাজ করে ফেলে। কিন্তু

নীলার শরীর রাতে আরও বেশি খারাপ

ছিল বলে অনিক অন্য কাজ বাদ

দিয়ে নীলার পাশেই বসে ছিল। কখন

ঘুমিয়েছে জানে না, মাঝরাতে কেবল

একবার ঘুম ভেঙ্গে নীলা দেখেছে অনিক

নীলার একটা হাত

জড়িয়ে ধরে ঘুমিয়ে আছে।

কী করছো নীলা?

কিছু না।

শুয়ে আছো?

না।

তাহলে কোথায়?

রান্নাঘরে।

খিদে পেয়েছে?

হ্যাঁ, আমি খেয়ে নিয়েছি। তুমি কিন্তু

ভাত নরম করে ফেলেছো।

ওহ তাই নাকি? সরি! খেতে পেরেছো?

নাকি বেশি নরম হয়ে গিয়েছিলো? আমিও

যে কেন ভাত

বসিয়ে ব্রেডে জেলি লাগাতে গিয়েছিলাম!

অনিককে অপ্রস্তুত

হতে দেখে হাসতে লাগলো নীলা।

আরে বোকা ভাত ঠিকই আছে।

আমি মজা করছিলাম তোমার সাথে। কিচ্ছু

বুঝে না। বুদ্ধু।

অনিকও লাজুক হাসি হাসলো।

নীলাকে হাসতে শুনে তার খুবই

ভালো লাগছে। মেয়েটার শরীরের অবস্থার

উন্নতি ঘটেছে তাহলে।

*

দুপুরের পর থেকে আরও পাঁচবার ফোন দেয়ার

পর ছয়বারের বেলায় নিজেই

ঘরে এসে উপস্থিত হলো অনিক।

দরজা খুলে দিলো নীলা। প্রথমেই

তাকে জিজ্ঞেস করলো অনিক, কেমন

আছো? তোমার শরীরটা কেমন এখন?

গায়ে হাত দিয়ে দেখলো জ্বর আছে কি না।

নীলা বললো, তুমি যা শুরু করেছো, রোগ

এসে শান্তি পায় নাকি? চলে গেছে।

হাসলো অনিক। বলল, ভালো হয়েছে। রোগ

দুনিয়ার আর মানুষ পেলো না, না? আমার

নীলামণিকেই ধরতে হবে? ঝেঁটিয়ে বিদায়

করে দিবো রোগকে!

তুমি আমাকে ঝেঁটিয়ে বিদায় করবে?

প্রায় কাঁদো কাঁদো ভঙ্গিতে বললো নীলা।

আরে না জান,

তোমাকে কি আমি ঝেঁটিয়ে বিদায়

করতে পারি? রোগকে বিদায় করবো।

তুমি তো আমার কাছেই থাকবে।

তুমি আবার কই যাবে?

যেমনি হঠাৎ করে কাঁদার ভঙ্গি করেছিল,

তেমনি হঠাৎ করেই হেসে নীলা বললো,

কোথাও না।

নীলার এই ছেলেমানুষী অনিকের অনেক

ভালো লাগে।

*

রাতে খাওয়ার পর।

বিছানায় এসে শুয়ে পড়েছে নীলা। অনিক

কিছুক্ষণ ল্যাপটপে কাজ করলো।

নীলা শুতেই সে ল্যাপটপ রেখে নীলার

দিকে মনোযোগ দিলো। জিজ্ঞেস করলো,

এখন তোমার শরীর কেমন? ভালো লাগছে?

হ্যাঁ, মনে হচ্ছে এখন আমি সুস্থ।

মনে হলেই চলবে না। ওষুধ

দিয়েছে ডাক্তার, কোর্স শেষ করতে হবে।

অ্যাঁ, আমি ওষুধ খাবো না।

খাবে সোনা, হাঁ করো।

না করবো না।

না করলে কিন্তু আজ আমি নিচে ঘুমাবো।

আমিও নিচে ঘুমোবো।

জ্বী না, তুমি আমার

সাথে শুতে পারবে না।

আমি ছাদে গিয়ে ঘুমাবো।

আমিও তোমার

সাথে ছাদে গিয়ে ঘুমাবো,

খুশি খুশি গলায় বললো নীলা।

ছাদে গেলে তোমাকে ভতে ধরবে।

ইশ, ধরবে না। ভত

ধরতে আসলে তুমি আছো না?

আমি কী করবো?

তুমি আমাকে ভত থেকে বাঁচাবে,

বলে অনিককে জড়িয়ে ধরলো নীলা।

সেটাই তো করছি। নাও ওষুধটা খাও।

হেরে গিয়ে চুপচাপ কিছুক্ষণ অনিকের

দিকে তাকিয়ে রইলো নীলা। চুপচাপ

ওষুধটা খেয়ে নিয়ে অনিকের

বুকে মাথা রাখলো। অনিক,

তুমি আমাকে এতো ভালোবাসো কেন?

কারণ, তুমি শুধু আমার।

তুমি এতো চিন্তা করো কেন

আমাকে নিয়ে?

তাহলে কাকে নিয়ে চিন্তা করবো? আমার

তুমি ছাড়া আর কেউ তো নেই। যারা আছে,

তারা তো আমাকে তোমার

মতো করে বুঝে না।

হুম।

আর তোমার শরীর খারাপ।

আমি তো অফিসে গিয়েছিই, কিন্তু

মনটা সারাদিন পড়ে ছিল তোমার কাছে।

কেবলই মনে হচ্ছিল কখন তোমাকে দেখবো।

নীলার চুলে বিলি কাটতে শুরু করলো অনিক।

নীলা বললো, আজ আমাদের বিয়ের

কতোদিন হয়ে গেছে, তাই না?

হুম। অনেক বছর।

তুমি কি আজও আমাকে আমাদের সেই

স্টুডেন্ট লাইফে যেমন ভালোবাসতে, তেমন

ভালোবাসো অনিক?

তোমার কী মনে হয়?

জবাব দিলো না নীলা। সে জানে, অনিক

তাকে খুব ভালোবাসে। বিয়ের

এতোগুলো বছর পরও আজ তাদের

কোনো সন্তান নেই। ভবিষ্যতেও না হওয়ারই

সম্ভাবনা বেশি। অবশ্য আর ভবিষ্যত

কীসের। তাদের জীবনকালও প্রায় শেষই

হয়ে আসছে। অনিক সবসময়ই বলে, তার

জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি এই নীলা।

কথাটা যে সত্যি তা নীলা জানে।

হয়তো তার জীবনেরও শ্রেষ্ঠ প্রাপ্তি তার

স্বামী, অনিক। কিন্তু

সে কখনো এটা বলেনি। মেয়েরা কেন যেন

মনের কথা চেপে রাখতেই বেশি পছন্দ

করে।

নীলা জানে অনিক তাকে ভালোবাসে।

তারা বিবাহিত দম্পতি। এতোগুলো বছর পর

এখনো নীলার প্রায়ই মনে হয় যেন

তারা সবে প্রেমে পড়েছে। যেমনটা ঠিক

এখন তার মনে হচ্ছে। অনিকের মনের

কথা শুনতেই যেন তার বুকে নিজের কান

আরও চেপে ধরলো নীলা।

আর অনিক তখন

ভাবলো নীলা ঘুমিয়ে পড়েছে।

সে হেডফোন কানে লাগিয়ে তার প্রিয়

গানগুলোর একটা শুনতে শুরু করলো।

গানটা তার প্রিয়, কারণ কথাগুলো যেন

ঠিক তার মন থেকে আসা। নীলার মাথায়

হাত বুলাতে বুলাতে চোখ বন্ধ করে নিজের

মনের কথাগুলো নিজেই

শুনতে থাকলো অনিক।

পৃথিবীর যত সুখ, যত ভালোবাসা,

সবই যে তোমায় দেব, একটাই এই আশা,

তুমি ভুলে যেও না আমাকে,

আমি ভালোবাসি তোমাকে।

ভাবিনি কখনো, এ হৃদয়ে রাঙানো

ভালোবাসা নেবে তুমি,

দুয়ারে দাঁড়িয়ে, দুবাহু বাড়িয়ে,

সুখেতে জড়াবো আমি।

সেই সুখেরই ভেলায়

ভেসে স্বপ্ন ডানা মেলব হেসে,

এক পলকে পৌঁছে যাব,

রুপকথারই দেশে।

তুমি ভুলে যেও না আমাকে

আমি ভালবাসি তোমাকে ।।
 

মাথার পাশে ভুলেও মোবাইল চার্জে দিয়ে ঘুমাবেন না Monday, 28th August, 2023

গভীর রাত পর্যন্ত মোবাইল স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকা। আর তারপর তা চার্জে বসিয়ে ঠিক মাথার পাশে রেখে ঘুমিয়ে পড়া। এ স্বভাব অনেকেরই আছে। কিন্তু এই অভ্যাস অত্যন্ত ক্ষতিকর। ইউজারদের এবার এ নিয়েই সতর্ক করল অ্যাপেল। 

অ্যাপেলের তরফ থেকে এবার অনলাইন ইউজার গাইডে এ নিয়ে সতর্ক করা হবে। মার্কিন সংস্থাটির দাবি, বর্তমানে রাত জেগে মোবাইলে অনলাইন গেম খেলা কিংবা ওটিটি প্ল্যাটফর্ম দেখার প্রবণতা বাড়ছে। যার জেরে মোবাইলের ব্যাটারিও দ্রুত কমতে থাকে। সমাধান হিসেবে তাই স্মার্টফোনটি চার্জ করতে করতেই হাতে ফোন ধরে থাকেন। আর অনেক সময় সেভাবেই মোবাইল হাতে ঘুমিয়ে পড়েন। যা শরীরের পক্ষে অত্যন্ত ক্ষতিকর।

অ্যাপেলের তরফ থেকে বলা হয়, মোবাইল চার্জে দিয়ে কোনো সমতল স্থানে রাখা উচিত। যেমন টেবিল কিংবা আলমারির মাথা। কম্বল, বালিশ কিংবা আপনার শরীরের ওপর রেখে চার্জ করা একেবারেই সঠিক পদ্ধতি নয়।

ইউজার গাইডে আরো বলা হয়েছে, আইফোন চার্জ হওয়ার সময়, তা থেকে তাপ নির্গত হয়। যে কারণে সঠিক পরিবেশ ও খোলা জায়গা না পেলে তাতে আগুন ধরে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। একই কারণে ফোন চার্জে বসিয়ে বালিশের নিচে চাপা রেখে দেয়ার বিষয়টিও অত্যন্ত বিপজ্জনক।

এমনিতেই টেক কোম্পানিগুলি সতর্ক করে জানিয়ে দেয় যে পাওয়ার ব্যাংক, ওয়্যারলেস চার্জার কিংবা মোবাইলের মতো ডিভাইসের ওপর শুয়ে পড়বেন না। পাশাপাশি কম্বল, বালিশের নিচেও এই ধরনের ডিভাইস রাখবেন না। এতে শরীরের যেমন ক্ষতি হয় না, তেমনই ব্যাটারি পুড়ে যাওয়া কিংবা ডিভাইসে আগুন লাগার ঝুঁকিও এড়ানো যায়।