নিখুঁত চিন্তার চেয়ে নিজেকে নির্ভুল রাখা উত্তম-

18th November, 2023
241




মানবজীবনের বিশিষ্টতাঃ

প্রত্যেকের সৌন্দর্য প্রকাশ পায় তার চরিত্রে। কারণ একটা ব্যক্তির চরিত্রই তার প্রত্যেকটা দিক নিয়ন্ত্রণ করে। কাউকে বুঝতে সময় লাগে না, যখন তুমি নিজের কাছে সহজ। তাই কোনো কিছু প্রকাশ না করেও এই বিষয়গুলো সহজে অনুধাবন করা যায়। কেউ হয়তো কাউকে বুঝতে পছন্দ করে না। কিন্তু কারোর প্রতি কেউ আগ্রহ দেখালে তখন বিষয়টা তার কাছে অপ্রকাশ্যে অনেকটা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে থাকে। যা তাকে প্রত্যেকটা মূহুর্তে তার প্রতি তাকে অনুভব করাতে থাকে। এইভাবেই হয়তো ভালোলাগার শুরু হয়। যা সেই ব্যক্তিকে পরিবর্তন করতে বেশি সময় নেয় না, যে প্রথমে গুরুত্ব দিয়েছিল। শুরুর গুরুত্ব কাউকে সহজে সবকিছু ভোলায়। তবে ভুলে যাওয়া ব্যক্তির হঠাৎ উদ্ভব তাকে ততটাই দ্বিধাগ্রস্ত করে। যা হয়তো সে কখনোই চাইতো না। কিন্তু সময়টাই এমন যে, সে না চাইলেও অনুভব করতে বাধ্য। তাই কোনো কিছুর প্রতি গুরুত্ব দেওয়ার আগে ভেবে নেওয়া উচিত। যাতে কাউকে দ্বিধাগ্রস্ত না হতে হয়।

​​​​​​কেউ হয়তো কখনো ভাবতে পারে যে, তুমি তার জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কিন্তু সবসময় তোমাকে এইটা মাথায় রাখতে হবে যে, সবার প্রথমে তুমি নিজের জন্য। তারপর নিরাপত্তামূলক পরিবার। কারণ এই দুইটা বিষয় বাদে সবকিছুই মোহ। যা ক্ষণিকের পৃথিবী তোমার সামনে উপস্থাপন করবে। কিন্তু পরবর্তীর বাস্তবতা তোমাকে খুঁজে নিতে হবে নিজের জন্য। না হলে তৈরিকৃত পৃথিবীর অনুভব তোমাকে যেকোনো কিছুর প্রতি সময়ের সাথে কঠিন করতে থাকবে। কঠিনের মাঝে অনুশোচনার ভার কাউকে মৃতপ্রায় অবস্থায় বাঁচিয়ে রাখে। মানুষ হয়ে জন্ম নিলে পৃথিবীর যে কোনো কিছুর তুলনায় যেমন নিজের শ্রেষ্ঠত্ব দাবি করা যায়। তেমনি সময়ের সাথে নিজের সঠিক বোধশক্তির উদ্ভব না করতে পারলে, কারোর মধ্যে পৃথিবীর উদ্বৃত্ত জিনিস মতো অনুভব হতে থাকে নিজের কাছে।

সময় নিরপেক্ষ হওয়ায় প্রত্যেকের জন্যই সমান এবং নির্ধারিত। কিন্তু মানুষের জীবনের কিছু নির্ধারিত জিনিস না চাইতেও তাকে কিছু সময় বিব্রত করে থমকে দেয়। যে সময়টা কাউকে দুর্বলতার মাঝে অভিজ্ঞতা অর্জনের মাধ্যমে তাদের জীবনের শ্রেষ্ঠত্ব অনুভব করায়। যা কারোর পুরোনো দিনকে পেছনে ফেলে নতুন শুরুর উদ্ভব হতে সহায়তা করে। তখন কারোর সরাসরি পরিবর্তিত রূপ অপ্রকাশিত থাকায় তার ভিতরে অপ্রত্যাশিত পরিবর্তন করে। যেজন্য সময়ের সাথে মানুষের স্বভাব পরিবর্তন হয়। আর বিবেচনার ভিত্তিতে ব্যক্তিত্ব মজবুত হয়। মানুষের সবচেয়ে বড় শক্তি হচ্ছে অনুভব। যা কাউকে আত্মবিশ্বাসী বা দুর্বল করে থাকে। সময়ের সাথে ব্যবহৃত বিষয়টার রূপ জীবনে প্রকাশিত হয়। যেজন্য কিছু বিষয় আমরা চাইলেও এড়াতে পারি না।

সময়ের সাথে এড়িয়ে যাওয়া বিষয়গুলোর ফিরে আসা যেমন অস্বাভাবিক। তেমনি কিছু বিষয়ের নির্ধারিত সফলতার অপ্রত্যাশিত ব্যার্থতা কাউকে পরবর্তীর সত্যতা অনুভব করায়। যা বাস্তবতা নামে প্রত্যেকের জীবনের প্রত্যাশিত রূপ।

রিলেটেড পোস্ট


মনঃস্তাত্বিক বিষয়গুলো যত্নের সহিত রাখা উচিত-
পড়া হয়েছে: ২৪২ বার

কিছু বিষয়ের উৎকৃষ্টতা মানুষকে অস্বাভাবিকভাবে গড়ে তোলে-
পড়া হয়েছে: ৪১৫ বার

অর্জিত আস্থাই মানুষের মনে বিশ্বাস তৈরি করে-
পড়া হয়েছে: ৩৪০ বার

বেলা শেষে-
পড়া হয়েছে: ২১১ বার

মানসিক শান্তি বজায় রাখার সর্বোত্তম প্রক্রিয়া-
পড়া হয়েছে: ২৩৪ বার

প্রকৃতির স্বচ্ছতা বর্ষায় আর মানুষের স্বচ্ছতা তার চরিত্রে-
পড়া হয়েছে: ২৩৫ বার

মানুষ নির্ভীক মনোভাবে যেকোনো কিছু শক্তভাবে অনুধাবন করে-
পড়া হয়েছে: ৮৯৯ বার

চার দিনের ব্যবধানে ফের কমল সোনার দাম
পড়া হয়েছে: ৭৬ বার

চিরন্তন সত্য-
পড়া হয়েছে: ৩৫৯ বার

সুন্দর মন সবকিছু পরিবর্তন করতে পারে-
পড়া হয়েছে: ৫৩ বার


আরো নিবন্ধন পড়ুন



কারোর ব্যক্তিত্ব যেকোনো পরিস্থিতির প্রভাব থেকে তাকে মুক্ত রাখে- Tuesday, 05th December, 2023

ব্যক্তিত্ব মানুষের অস্তিত্বঃ

অনেকে ব্যক্তিত্ব একটা শব্দ মনে করে। যা কোনো কিছুর সাথে জোড়া দেওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু উপরিভাগে নিজেকে ব্যক্তিত্বের শব্দে আবদ্ধ করা জীবনের মূর্খতা। কারণ ব্যক্তিত্ব মানুষের অস্তিত্ব, কোনো শব্দ না। যখন সেইসব ব্যক্তি বোধশক্তির দুর্বলতায় যেকোনো মানুষের কাছে নিঃশব্দে তার মূল্যহীনতা প্রকাশ করে থাকে। যা সেই মূহুর্তে তার চিন্তাধারার বাইরে থাকে। যে কারণে সেইসব ব্যক্তির জীবন গঠনের শুরুর পর্যায়ের নির্বোধ মনোভাব পোষণে, যেকোনো মানুষের কাছে তাকে ব্যক্তিত্বহীনভাবে প্রকাশ করে। কারোর জীবনের ভুলগুলো সঠিকভাবে বুঝতে হয়তো বয়স ৩০+ হয়ে যায়। তখন ব্যক্তিগুলো নিজেই নিজের কাছে উপহাসের খোরাক হয়। কারণ যেই সময় কারোর নিজেকে নিজের জন্য সংশোধন করা প্রয়োজন হয়। তখন ব্যক্তিত্বহীনতায় তার ভিতরের নির্বোধ মনোভাব সবকিছু থেকে তাকে দূর করে থাকে। যেজন্য ভবিষ্যতে সেইসব ব্যক্তি নিজের কাছে বিদ্রুপ হয়ে থাকে।

বেশকিছু বিষয় কারোর ব্যক্তিত্ব গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। যেমন- জীবনের প্রতি আশার জায়গায় ভরসার মনোভাব পোষণ করা। ভালোলাগার জায়গায় ভালো কাজের মাঝে নিজেকে লিপ্ত রাখতে চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া। যেকোনো বিষয়ে নিজেকে ইতিবাচকভাবে ভাবতে শেখানো। পরিপূরক জীবন পেতে সংক্ষিপ্ত রাস্তা পরিত্যাগ করা। প্রত্যেকটা মূহুর্তে সৃষ্টিকর্তার অনুদানের কথা মাথায় রেখে কোনো কিছুর প্রতি অতিরিক্ত গুরুত্ব ত্যাগ করা। কারণ জীবনের সাথে জড়িত অতিরিক্ত বিষয়গুলো ত্যাগেই মানুষ নিজের সাথে পরিচিত হয়ে থাকে। যখন কারোর মধ্যে মরীচিকার মোহ নিঃশেষ হওয়ায় অনেকেই জীবনের বাস্তবতায় নিজেকে উজ্জীবিত করতে সক্ষম হয়। তখন জীবনের সত্যতায় অনেকে নিজের ভিতরে ব্যক্তিত্বের অভিজ্ঞতা অনুভব করতে থাকে। কারণ যেকোনো মানুষের ব্যক্তিত্ব জীবনের সামঞ্জস্যতা বজায় প্রত্যেকটা বিষয়ের প্রতি প্রতিরক্ষার্থী মনোভাব তৈরি করে।

মানুষের জীবনে যেকোনো কিছু চিন্তাধারার মাধ্যমে অর্জন করতে হয়। তাই জীবনে আগাছার মতো বিষয়গুলোকে পরিত্যাগ করে কেউ যখন পরিবারের প্রতি অনুগত হতে শেখে। তখন জীবনের কোমলতায় তার বিশেষত্ব তৈরি হতে থাকে। যা প্রত্যেকের কাছে তার বিভিন্ন দিকদর্শনেও পরিবারের কর্তব্যে সবসময় তাকে নির্ধারিত রাখে। যখন কেউ পথভ্রষ্ট ব্যক্তিকে জীবনের পর্যালোচনা শেখানোর মাধ্যমে নিজের অস্তিত্বের পরিধি বৃদ্ধি করে থাকে। একটা মানুষ কখনোই কোনো কিছুর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। কারণ জীবন অল্প সময়ের হলেও তার পরিধি বিশাল। তাই কেউ যদি মনে করে যে, সমাজের প্রতি তার অবদানের পরিবর্তে অপ্রকাশ্যে প্রত্যেকটা বিষয়ে মনুষ্যত্ববোধ প্রতিষ্ঠা করে যাবে। তখন পৃথিবীর শেষ অবধি মানুষ হিসেবে কিছুটা হলেও জীবনের দায়ভার কমাতে পারে। 

ভোরের শুভ্রতা- Friday, 27th October, 2023

কুয়াশায় ঢাকা ভোরঃ

শীতের সকালে কুয়াশায় ঢাকা প্রকৃতি সূর্যের এক টুকরো আলোয় নিজের সৌন্দর্য ফুটিয়ে তোলে। নিস্তব্ধ প্রকৃতি শীতের ঠান্ডা হিমে তার মিষ্টি সুগন্ধ চারদিকে নতুন পরিবেশ সৃষ্টি করতে থাকে। প্রকৃতির সীমাহীন ভালোবাসা সময়ের পরিবর্তনে প্রত্যেকটা মানুষকে নতুনভাবে নিজেদের তৈরি করা শেখায়। কিন্তু যে যার ব্যক্তিত্বের মতো করে নিজেদের তৈরি করে।

কেউ কারোর উপর নির্ভর করে না। কিন্তু প্রকৃতির উপর পুরো পৃথিবীর মানুষ নির্ভর করে। প্রকৃতি এতটাই শক্তিশালী যে, পুরো মানবজাতিকে নিজের আদলে আগলে রাখে। নিঃস্বার্থ প্রকৃতির মায়া বোঝার ক্ষমতা অনেকের মধ্যে থাকে না। কিন্তু মানবজাতি হিসেবে প্রকৃতির থেকে ভোগ করে প্রত্যেকে নিজেদের অধিকার দাবি করি। কোনো কিছু বলে নিজেকে অনুপ্রাণিত রাখা যায়, অল্প সময়ের জন্য। কিন্তু কোন কিছু না বলে অনুভব করে নিজেকে সারাজীবনের জন্য অটুট রাখা যায় পবিত্র চিন্তা-ভাবনায়। ভালো কিছু করার চিন্তায় অনেক সময় সৎ অসৎ এর পার্থক্য করতে ভুলে যায় অনেকেই। এইটা সময়ের পরীক্ষা তোমার জন্য। যা বুঝে পথ চললে দেরিতে সফলতা আসলেও তোমার। কিন্তু লোভে পড়ে সাময়িকের সফলতায় ভবিষ্যতে প্রাশ্চিত্যের জীবন তোমার। যা বোঝার চেয়ে অনুভব করবা বেশি।

শীতের প্রত্যেকটা মুহুর্ত স্নীগ্ধতার। হালকাভাবে প্রত্যেকটা মুহুর্ত অনুভব করা সম্ভব। কারণ যেকোনো কিছুর প্রতি অনুভবের গাঢ়ত্ব প্রত্যেকের জীবনেই দাগ ফেলে যায়। ভালোবাসা শব্দটা সুন্দর মানে বোঝালেও এর অসৎ ব্যবহারের জন্য উচ্চারণেই প্রত্যেকটা ব্যক্তির বিস্মিত চাহনির সম্মুখীন হতে হয়। আগলে সবকিছু আপন করা যায়। সময় নিয়ে সবকিছুর সমাধান করা যায়। অতিরিক্ত চাওয়া কোন কিছুর প্রতি নিজেকে আকৃষ্ট করায়। কিন্তু প্রকৃতি বুঝে পরিবেশ পরিচালনার মাধ্যমে নিজের দায়িত্ব বোঝা সম্ভব। কোনো কিছু এড়িয়ে যাওয়া আর মুখ ফিরিয়ে নেওয়া সম্পূর্ণই আলাদা। স্বার্থে আঘাত পড়লে যে কেউ মুখ ফিরিয়ে নেয়। আর কোন কিছুর জন্য ভেতরের চাপ নিতে না পারলে সেই পরিস্থিতি থেকে যে কেউই এড়িয়ে যাবে। কারণ সেখানে চাইলেও কোন কিছু বলা যায় না।

শীতের সময়টা মানুষকে যেমন অনুভব করায় বেশি। তেমনি ভোরের কুয়াশায় প্রকৃতির রূপ প্রকাশে সূর্যের আলোর প্রাদূর্ভাব মানুষের জীবনকে এককথায় প্রকাশ করে যায়। যেমন- তুমি যদি মনে যদি মনে করো তোমার জীবনটা শূণ্যতায় পূর্ণ, সেটা ভুল। কারণ শূন্য থেকেই বিষাক্ত অনুভবের মাধ্যমেই একসময় জীবনের অর্জন শুরু হতে থাকে। যার অবদান মৃত্যুর পরেও তোমার ছাপ রেখে যায় পৃথিবীর বুকে। কিছু সময় এই পাওয়াটা শেষ সময়ের সফলতার কারণ হওয়ায় হালকা বিষন্নতায় পরিণত হয়। কারণ সবাই সফলতা চায় ভোগের জন্য। এইজন্য শেষ সময়ের পাওয়াটায় হালকা বিষন্নতা স্বাভাবিক। কিন্তু উপভোগ করতে জানলে অল্প সময়েও পুরো জীবনের ভোগ করে নেওয়া সম্ভব।

প্রত্যেকটা মুহুর্তের মূল্য বুঝলে জীবনে সাধারণ কিছুরও অসাধারণ পরিচর্যা সম্ভব। পরিবারের জন্য আত্মত্যাগ করলে সহজে জীবনের পরিবর্তন আনা সম্ভব।