প্রত্যেকটা নারীর প্রকৃতির সাথে আলাদা একটা সম্পর্ক থাকে-

13th November, 2023
272




নারীর প্রতি প্রকৃতির আবির্ভাবঃ

প্রকৃতি যেমন পুরো মনুষ্যজাতিকে আগলে রাখে। তেমনি পবিত্র মনের কোনো নারী প্রত্যেকটা বিষয়কে আগলে তার আশেপাশের যেকোনো কিছু সামলে রাখে। একটা নারীর জীবন তুচ্ছ মনে করা যতটা সহজ। তার দিক থেকে তার বিষয়গুলো অনুধাবন করা যে কারোর চিন্তাধারার বাইরে। কারন পৃথিবীতে একটা নারীর কষ্টের ধারণক্ষমতা সবচেয়ে বেশি। যার কারনে সময়ের সাথে তাদের জীবনে মানসিক চাপের সাথে সহনশীলতা বাড়তে থাকে। বাইরের পরিবেশে নিজের শান্ত রূপ প্রকাশ করতে পারলেও তাদের ভেতরের আর্তনাদ কাউকে প্রকাশ করতে পারে না। কারন তারা এইটুকু বোঝে প্রত্যেকটা ব্যক্তিই শ্রোতা। আর কিছু ব্যক্তি সুবিধাবাদী। যার জন্য তারা নিজেদের সমস্যাগুলোকে অপ্রকাশ্যে সমাধান করে যায়।

অনেকেই মনে করে নারী বোঝা দায়। আসলে যারা নিজেদের জীবনে সময়ের আগে যেকোনো সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকে। তারা দিনশেষে জীবনের হিসাব করতে বসলে নিজেরাই নিজেদের কাছে অপরিচিত। একটা নারী তার সামান্য জিনিসও আগলে রাখে। আর জীবনের ক্ষেত্রে যেকোনো কিছু তারা মেনে নেবে। এইটাই কারোর ভুল ধারনা, যার কারণে এত সমস্যার উদ্ভব হয়। একটা ছোট ফুল থেকে যেমন ফল তৈরি হয় বা একটা ছোট ফল থেকে যেমন ফুল তৈরি হয়। তেমনি একটা মেয়ে থেকে একটা নারী তৈরি হয়। নারী কখনোই কঠিন নয়। যদি কেউ মানবিক দিক থেকে তার বিষয়গুলো বিবেচনা করে। নারীর জীবন অল্পতেই সীমাবদ্ধ যার কারণে তারা প্রত্যেকটা জিনিস সময় নিয়ে গড়তে থাকে। কারন তাদের প্রত্যেকটা বিষয় ঝামেলাপূর্ণ হওয়ায় তারা সবসময় সংবেদনশীলতা বজায় রেখে চলতে পছন্দ করে।

একটা নারী সবসময় নিজের মতো ব্যক্তি পছন্দ করে। যে সময় নিয়ে তার প্রত্যেকটা বিষয় বোঝার চেষ্টা করবে। প্রকৃতি যেমন সময়ের সাথে নিজেকে বদলাতে থাকে। একটা নারীও তেমনি সময়ের সাথে নিজেকে বদলাতে থাকে। প্রকৃতি যেমন সবকিছু আগলে রাখে। তেমনি একটা নারীও তার পরিবারকে আগলে রাখে। প্রত্যেকটা নারীই একটা সময়ের পর একটু মানসিক শান্তি চায়। কারন প্রত্যেকটা জিনিসের সাথে মানায় নিতে নিতে তারা একসময় ক্লান্ত হয়ে যায়। যখন একটু মানসিক শান্তি তার মনকে শান্ত করে তাকে নতুন পরিস্থিতির জন্য তৈরি করে। একটা প্রকৃত নারী জীবনে প্রয়োজনের চেয়ে অতিরিক্ত কখনোই চায় না। জীবনের শান্তি বজায় রাখতে যতটুকু প্রয়োজন। তারা ঠিক ততটুকুতেই সীমাবদ্ধ থাকে।

প্রত্যেকটা মানুষকে তার জীবনের অনেকগুলো ধাপ পার করতে হয় সময়ের সাথে। পরিবর্তন কাউকে সাবলীল করে তোলে। আবার কাউকে বিবেকহীন করে গড়ে তোলে। পার্থক্যটা আসে পরিবেশ-পরিস্থিতি থেকে। যেকেনো মানুষই চায় একটু সম্মান আর শান্তি। যা কাউকে দিন রাত পরিশ্রম করতে সহায়তা করে। সবার প্রথমেই প্রত্যেকে মানুষ। তারপর লিঙ্গ ভেদে যার যার পরিবর্তন ধরা হয়। প্রত্যেকেরই একটা কোমল হৃদয় থাকে। যার পরিবর্তনে কারোর জীবন বদলাতে সময় নেয় না। কিন্তু জীবনে কোনো কিছুর সঠিক প্রয়োগই তার হৃদয়কে সবসময় স্বতঃস্ফূর্ত রাখে।

কখনো সঞ্চয় করতে যেয়ে জীবনের ইচ্ছেগুলো ফুরোতে থাকে সময়ের সাথে। তখন কেউ সফল হয়েও জীবনের কাছে হেরে যায়। জীবনের সফলতা তখনই, যখন কিছু না থাকা সত্ত্বেও প্রত্যেকটা মূহুর্তকে নিজের জন্য উপভোগ করতে শিখে যাবা।

রিলেটেড পোস্ট


মানবিক মূল্যবোধ মানুষের ভেতরের লক্ষণ নির্ধারণ করে থাকে-
পড়া হয়েছে: ৩৮৯ বার

অবেলার সামান্য ইচ্ছা প্রকাশের আবদার-
পড়া হয়েছে: ২৫৫ বার

জীবনের পরিভাষা একান্তে পথচলা.
পড়া হয়েছে: ৩৮১ বার

মন খুলে বাঁচো-
পড়া হয়েছে: ২৫৫ বার

সুন্দর মন সবকিছু পরিবর্তন করতে পারে-
পড়া হয়েছে: ৫৩ বার

চার দিনের ব্যবধানে ফের কমল সোনার দাম
পড়া হয়েছে: ৭৬ বার

মানসিক শান্তি বজায় রাখার সর্বোত্তম প্রক্রিয়া-
পড়া হয়েছে: ২৩৪ বার

অর্জিত আস্থাই মানুষের মনে বিশ্বাস তৈরি করে-
পড়া হয়েছে: ৩৪১ বার

জীবনের সান্নিধ্যে সবকিছুর নির্ধারিত মাত্রা বজায় রাখা উচিত-
পড়া হয়েছে: ৭৮৮ বার

কোনো কিছু উপলব্ধি করতে ইতিবাচক চিন্তার প্রভাব-
পড়া হয়েছে: ২৪২ বার


আরো নিবন্ধন পড়ুন



বাবা Saturday, 06th January, 2024

বাবার মৃ'তদে'হ সামনে রেখে বললাম " বাবার ঋণদার যারা আছেন,আপনাদের পাওনা টাকা আমাকে জানাবেন।বাবার ঋণ আমি শোধ করবো "

 

ছোট বোন আমার হাত চেপে ধরে বললো " ভাইয়া,তুই শোধ করবি কিভাবে? তুই নিজেই তো ৫ বছর ধরে কোনো চাকরি পাচ্ছিস না।বেকারত্বের শিকার হয়ে টাকা শোধ করবি কিভাবে? "

 

বোনকে অভয় দিয়ে বললাম " শত কষ্ট হলেও শোধ করবো বোন "

 

সারারাত আমার ঘুম হলো না।বোনের বিয়ের বয়স হয়ে গেছে।পরিবারের খরচ নাহয় কোনোরকম চালাবো,কিন্তু বোনের বিয়ে কিভাবে দিবো? 

 

পরেরদিনই ঋণদাতারা এসে বাড়িতে হাজির।বাইরে বেড় হয়ে এতো লোককে দেখে ঘামে আমার কপাল ভিজে উঠলো।মৃদু স্বরে বললাম 

 

" আপনারা বাবার কাছে কত টাকা পান বলুন।আমি চেষ্টা করবো শোধ করার "

 

ওদের মধ্যে থেকে একজন এগিয়ে এসে বললো " আমরা ব্যাংক থেকে এসছি।উনি তার ছেলে মেয়ের নামে ৭ লাখ টাকা সঞ্চয় করে রেখে গেছেন।কাইন্ডলি ব্যাংকে যোগাযোগ করুন "

 

একথা বলে তিনি চলে গেলেন।বাকি লোকগুলিও ছোট ছোট সমিতি থেকে এসছেন। ওরা জানালেন বাবা ওদের সমিতিতে প্রতিদিন ২০ টাকা করে সঞ্চয় রাখতেন।

 

রাতে সব মিলিয়ে হিসেব করে দেখলাম বাবা আমাদের জন্য মোট ১১ লাখ টাকা সঞ্চয় করে রেখে গেছেন।মনে পড়ে গেলো সেদিন রাতের কথা।যে রাতে আমি বাবাকে বলেছিলাম

 

" আপনি কেমন বাবা?আমার ভবিষ্যতের নিয়ে আপনার কোনো চিন্তা আছে?দরকার নেই আমার এমন বাবার "

 

বাবা তখন মৃদু হেসে বলেছিলেন " আমার সাধ্য মতো চেষ্টা করছি।সময় হলেই পেয়ে যাবে "

 

হ্যা সে সময়টা এখন এসে গেছে।কিন্তু বাবা চলে গেছে দূরে,ওই তারাদের কাছে।আমি আকাশের দিকে দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললাম 

 

" বাবা,আজ পর্যন্ত তোমায় কখনো বুঝতে পারলাম না।এখন বুঝতে পারছি,কেন তুমি এক শার্ট পড়েই একটা বছর কাটিয়ে দিতে "

 

#বাবা ❤️

জয়ন্ত কুমার জয়