বেলা শেষে-

28th October, 2023
265




সৃষ্টির নতুন রূপঃ

যেকোনো কিছুর শুরু হয় অনুতাপ থেকে। তুমি যদি কোনো কিছু বুঝতে চাও, বিষয়টার সমাপ্তিতে নিজের ভুল থেকে অর্জিত অভিজ্ঞতাই তোমাকে শেখাবে। যেকোনো কিছুর পরিসমাপ্তি থেকে তোমার জীবনে নিজের পথচলা শুরু হবে। যেকোনো কিছুর প্রতি করা ছোট ছোট ভুল, অনুতাপ তোমাকে অনুভব করাবে বাস্তবতা। তোমার অনুভবের অভিজ্ঞতা জীবনভর তোমাকে মজবুত করে যাবে। যা কোনো কিছুর আকৃষ্টতা থেকে তোমাকে মুক্ত রাখবে।

শুরুর সময় থেকে সবকিছুই সাধারণ থাকে। আস্তে আস্তে যেকোনো কিছুর প্রতি অনুতাপের অনুভবই তোমার জীবনের নতুন রূপ ধারণ করাবে। নিজেকে বিশ্বাস করে ভরসা করতে শিখো। জগতের মায়া ত্যাগ করতে পারবা। নিজেকে নিঃস্বার্থ রেখে পথ চললে জটিল জীবনের সরলতা খুঁজে পাবা। কোনো কিছুই মায়া নয়, সবকিছুই মোহ যা আমাদের সীমিত সময়ের ভালোলাগার অনুভব থেকে নিজেকে সারাজীবনের একাকিত্বের অনুভব করায়। একান্তে নিজের মতো করে জীবন পরিচালনা করা যায়। কিন্তু একাকিত্বতা জীবনকে নিঃশেষে বিভাজ্য করে দেয়।

প্রিয়জনের থেকে প্রয়োজন তোমাকে উপরে উঠতে সাহায্য করবে। কারণ প্রিয়জন তোমার থেকে আশা রাখে, যা পূরণ করতে না পারলে তুমি তার সাথে চলার যোগ্যতা রাখো না। কিন্তু তুমি নিজের প্রয়োজনে অসম্ভবকেও সম্ভব করতে পারবা নিজের জন্য, যা তোমাকে স্বাধীন ভবিষ্যত গড়তে সাহায্য করবে। যেখানে কোন স্বার্থবাদী ব্যক্তির তোমার জীবনে হস্তক্ষেপ করার কোন অধিকার থাকবে না। হয়তো নিজের একান্তের পথচলায়ও অনেকের সাথে পরিচিতি রাখতে হবে সমাজে চলার জন্য। কিন্তু দিনশেষে তুমি শান্তিপূর্ণ সফল জীবনের অধিকারী।

জীবনের জন্য যখন তুমি আশা না রেখে পরিবারের ভরসায় নিজেকে তৈরি করবা। তখন তোমার জীবনে সবচেয়ে কঠিন সিদ্ধান্তগুলো নিজের বিবেচনায় নিতে শিখে যাবা। কোনো কিছুর পথ চেয়ে থাকার চাইতে, সামনের সময়ের সাথে নিজেকে এগোনো ভালো। কেননা জীবন একটা বাঁধাযুক্ত ফাঁকা রাস্তার মতো। যেখানে বাঁধা পেরোনোর অলসতায় বসে থাকার চাইতে, যেকোনো কিছুর সম্মুখীন হয়ে মোকাবেলা করে এগিয়ে যাওয়া ভালো। হেরে গেলেও সবকিছু সামলে নতুন রাস্তায় নিজেকে পরিচালনা করতে পারবা বাঁধার অভিজ্ঞতা থেকে। তাই অলসতায় বসে থেকে নয়, নিজ পায়ে দাঁড়িয়ে চলতে শেখো।

তাড়াহুড়ার মূহুর্তে নিজেকে সামলাতে শেখো, অল্প সময়ে সবকিছুর সমাপ্তি পাবা। প্রকৃতির মায়ায় জীবনের মোহ ত্যাগ করলে শেষের পূর্ণতা পাবা।

রিলেটেড পোস্ট


কিছু বিষয়ের উৎকৃষ্টতা মানুষকে অস্বাভাবিকভাবে গড়ে তোলে-
পড়া হয়েছে: ৪৪৩ বার

কারোর জীবনে না চাইতেও পাওয়া কিছু বিশেষ উপহার-
পড়া হয়েছে: ৩২৩ বার

প্রকৃতির স্বচ্ছতা বর্ষায় আর মানুষের স্বচ্ছতা তার চরিত্রে-
পড়া হয়েছে: ২৮০ বার

আবছা বিষয়গুলোর প্রতি মানুষের প্রয়োজন বেশি-
পড়া হয়েছে: ৩৬৬ বার

নিখুঁত চিন্তার চেয়ে নিজেকে নির্ভুল রাখা উত্তম-
পড়া হয়েছে: ২৬৬ বার

সময়ের সাথে বদলে যাওয়া মূহুর্তের অনুভব-
পড়া হয়েছে: ৩১৫ বার

বেলা শেষে-
পড়া হয়েছে: ২৬৬ বার

ভোরের শুভ্রতা-
পড়া হয়েছে: ৩১০ বার

ছোটবেলার হারানো সময়-
পড়া হয়েছে: ২৬৮ বার

পরিস্থিতি কারোর প্রকৃতি নির্ধারণ করে থাকে-
পড়া হয়েছে: ২৫২ বার


আরো নিবন্ধন পড়ুন



কিছু বিষয়ের উৎকৃষ্টতা মানুষকে অস্বাভাবিকভাবে গড়ে তোলে- Monday, 08th January, 2024

মানবিক চিন্তাশক্তির প্রাদুর্ভাবঃ

অপ্রত্যাশিত সময়ে যখন কিছু জিনিস বা কাজ কাউকে ঘিরে থাকে। তখন অনেকেই নিজের অদ্ভুত আচরণের সাথে সম্পৃক্ত হবে। যা ব্যক্তিগুলোকে বর্ষার এক বিন্দু পরিমাণ অভিজ্ঞতার আলোকে নিজেকে নিজের তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে গড়ে তোলে। এইটা পার্থক্য হয় কৃত্রিম বা মানবিক অভিজ্ঞতার। মানুষ হয়তো বিভিন্নভাবে অভিজ্ঞতা অর্জন করে থাকে। কিন্তু সরাসরিভাবে কৃত্রিম বা মানবিক অভিজ্ঞতার প্রভাব বেশি থাকে মানুষের জীবনে। কারণ সময়ের সাথে সাথে মানুষেরও খুব দ্রুত পরিবর্তন হচ্ছে। যার কারণে কেউ সাধারণ জিনিসগুলোকেও গুরুত্বের অভাবে গুলিয়ে ফেলে।

মানুষ অস্বাভাবিক নয়। কিন্তু কিছু মানুষ স্বাভাবিকও নয়। সীমিত অস্বাভাবিক মানুষের‌‌‌ অপ্রত্যাশিত বা অনাকাঙ্ক্ষিত চিন্তা-ভাবনার ভিত্তিতে কিছুটা অভিজ্ঞতা তাদেরকে অপ্রতুল করে থাকে। এই ব্যক্তিগুলোকে চিহ্নিত করার সাধারণ কিছু বিষয় হলো- ব্যক্তিগুলো পরিস্থিতিভেদে সবসময় শান্ত বা অস্বাভাবিকভাবে নিজেদের ক্ষোভ প্রকাশ করে থাকে। এরা অল্প সময়েই নিজেদের পছন্দ অপছন্দ পরিবর্তন করে থাকে। এরা নিজেদের প্রতি অনুগত হয়ে থাকে। কারোর কটুক্তিকে গ্রাহ্য না করলেও সেই ব্যক্তিগুলোকে তাদের মস্তিষ্কে এমনভাবে চিহ্নিত করে রাখে যে, জীবনের পারকৃত কিছুটা সময়ের পর তারা সেই ব্যক্তিগুলোকে হয়তো অপমান করে না। কিন্তু তার কোনো প্রয়োজনে বা অপ্রয়োজনে এমনভাবে শান্ত থাকে যে, কেউ দেখলে হয়তো মনে করবে সেই ব্যক্তি অপর ব্যক্তির তাকিয়েও তাকে দেখতে পাচ্ছে না। কটুক্তি করা ব্যক্তি যখন তার দিকে তাকিয়ে থাকা ব্যক্তির সাথে কথা বলতে যাবে। তখনই তাকিয়ে থাকা ব্যক্তির সেই পরিস্থিতি ত্যাগ তার অস্বাভাবিকতা প্রকাশ করবে। যা হয়তো সাধারণ ব্যক্তির মধ্যে থাকে না। এই ব্যক্তিগুলোর একটা সুন্দর দিক হলো- ব্যক্তিগুলো যেকোনো পরিস্থিতিতে চাইলে সেকেন্ডেই নিজেদের শান্ত রাখতে বা অতিরিক্ত ক্ষোভ প্রকাশ করতে পারে। আর ব্যক্তিগুলোর সবচেয়ে খারাপ দিকগুলো হলো- বেশিরভাগ ক্ষেত্রে তাদের দুর্বলতা না থাকার কারণে হয়তো তারা নিষ্ঠুর নয়। কিন্তু সাধারণও নয়। একবার তারা নিজেদের মূল্যায়নকৃত কোনো বিষয়কে কোনো কারণে বাদ দিয়ে দিলে। কখনোই সেই বিষয় সম্পর্কে অবগত হতে পারে না। কারণ তারা নিজেদের প্রতি দুর্বল হওয়ায় যেকোনো বিষয়ের ওপর বিশ্বাস হারিয়ে ফেললে, সময়ভেদে তার পরিবর্তন কাউকে অপ্রকাশ্যে দ্বিধাগ্রস্ত করে। যার কারণে কেউ চাইলেই এই ধরনের ব্যক্তির ক্ষতিসাধন করতে অসক্ষম হয়ে থাকে। এই ধরনের ব্যক্তিগুলো সাধারণ হলেও তাদের অস্বাভাবিক বিবেচনা ও চিন্তাশক্তির কারণে জীবনের দৃষ্টান্ততা অর্জন করে থাকে।

গল্পের নাম-ভাগ্য Sunday, 07th January, 2024

গল্পের নাম - ভাগ্য
পর্ব 

জামাই ইঞ্জিনিয়ার অনেক টাকা রোজকার করবে, হয়তো জামাইয়ের টাকায় বসে খেতে পারবে, সেই আশায় আমার মায়ের মুখ ঝলমল করছে।
আমার মা বাবার রুপ পাল্টে গিয়েছে, আমাকে আর নিধিকে কি আদর, কোল থেকে নিধিকে নামাতেই চায়না। 
মনে মনে ভাবি স্বার্থের জন্য মানুষ কতটা বদলে যেতে পারে। 

মা ইমাকে ফোন করে জানালো আমি বিদেশ থেকে আসছি, আর সবার জন্য অনেককিছু নিয়ে এসেছি। ইমা তার স্বামীকে নিয়ে চলে আসল, আমি তো জানতাম না ইমার বিয়ে হয়েছে, তাই তার বরের জন্য কিছু আনিনি। ইমার হাতে তিন হাজার টাকা দিয়ে বললাম তোর বরকে এই টাকা গুলো দিয়ে বল শপিং করতে, ইমা খুব খুশী তার বরকে শপিং করতে টাকা দিয়েছি বলে।

আপু শুনলাম দুলাভাই ইঞ্জিনিয়ার, আর দেখতেও বেশ সুন্দর, তোর তো সেই কপাল রে, ভালোই করেছিস আদিব শয়তানকে ছেড়ে দিয়ে, এখন তুই ইঞ্জিনিয়ারের বউ, দুলাভাই অনেক টাকা ইনকাম করবে, সব টাকা তোরই হবে, তুই চাইলে মা বাবাকে আমাদেরকে সাহায্য করতে পারবি।

এখন বলছিস আদিব শয়তান ছিল, আমি তোদেরকে কতবার বলেছি আদিব আমাকে অত্যাচার করে, তোরা কি বলছিল, ওইরকম অত্যাচার সব স্বামীরাই করে।
ইংল্যান্ড যাবার আগে মাকে বলছিলাম, আমি ইংল্যান্ড যাবো না, সেদিন মা আমাকে অনেক কথা শুনিয়েছে, মনে ত্যাগ দিয়ে আদিবের সাথে ইংল্যান্ড গিয়েছিলাম, ভাবছি বাঁচলে বাঁঁচব মরলে মরব।
আদিব আমাকে অন্য পুরুষের হাতে তুলে দিতে চেয়েছিল, আমি সেদিন পালিয়ে গিয়েছি, আমার ভাগ্য ভালো হাসিবের মত মানুষের সাথে দেখা হয়েছিল, সে আমাকে আশ্রয় না দিতে এতদিনে হয়তো মরে যেতাম নয়তো কোনো পতিতালয়ের বাসিন্দা হয়ে থাকতাম।
আর সাহায্যের কথা বলছিস, আমি কি করে সাহায্য করব, টাকা ইনকাম করবে হাসিব সে যদি চায় মা বাবাকে তোদেরকে সাহায্য করতে করবে।
তার আদেশ ব্যতীত আমি কিছু করব না, কারণ সে আমার কাছে অনেক মূল্যবান একজন মানুষ।

ইমার মুখ কালো হয়ে গেল আমার কথা শুনে, সে আর কিছু বলল না।
মিলি নিধিকে কোল থেকে নামাতেই চায়না, অনেক আদর করছে মিলি নিধিকে।
নিধি বারবার পাপ্পা যাবো পাপ্পা যাবো বলছে, ভাবছি হাসিবকে ফোন দেবো কি না, সে তো তার বাসায় আছে এখন কি ফোন দেওয়া উচিত হবে, কিন্তু এইদিকে নিধি আর জন্য কান্না করছে। 
তখনি হাসিব ফোন দিয়ে বলল, 

আমি কাল সকালে আসব তোমাদের নিয়ে যেতে,
নিধি কেমন আছে, খুব মিস করছি নিধিকে।

সে তোমার জন্য খুব কান্না করছে এখনো ঠিকমত না খেয়ে ঘুমাইছে।

আচ্ছা আমি এখনি আসছি,
এই কথা বলেই হাসিব ফোন রেখে দিলো, আমি বললাম এতো রাতে আসার দরকার নেই সকালেই এসো, সে আমার কথা শুনলো না।
আধা ঘণ্টা পর হাসিব এসে দরজায় নক করছে, মা গিয়ে দরজা খুলে দিয়ে জানতে চাইলো, জামাই তুমি এতো রাতে কোন সমস্যা হয়েছে কি।

হাসিব মাকে বলল, না মা কোন সমস্যা না, ইসরাত বলল, নিধি আজ সারাদিন আমার জন্য কাঁদছে, রাতেও ঠিকমত খায়নি, তাই চলে আসলাম, সকালে ইসরাতকে আমার বাসায় নিয়ে যাবো।

হাসিবের মেয়ের প্রতি এমন টান দেখে মা বাবা বেজায় খুশী, বাবা বলে, ভাগ্য করে এমন স্বামী পেয়েছি, যার স্ত্রীর প্রতি সন্তানের প্রতি এত ভালোবাসা, সে মানুষ হিসেবে অবশ্যই অনেক ভালো। 
হাসিবকে বললাম, তুমি কি পাগল এতরাতে কেন আসলে, আসার সময় আম্মা আব্বাকে বলে আসছ, না হলে তো সকালে তোমাকে রুমে না পেয়ে খুঁজবে।

আম্মু ঘুমিয়ে গিয়েছে, আব্বু টিভি দেখছিল, বললাম, আব্বু নিধি আমার জন্য কাঁদছে, আমি এখন নিধির কাছে যাচ্ছি সকালে তাদেরকে নিয়ে চলে আসবো। 
আব্বু বলেছিল, সকালে যেতে পারতি এতো রাতে না যেয়ে, আমি চলে আসলাম। 

হাসিবের কাছে জানতে চাইলাম, আম্মা আব্বা আমাকে মেনে নিলো, এটা তো আমার বিশ্বাস হচ্ছেনা। 

প্রথমে তো খুব রাগারাগি শুরু করে আব্বু পরে সব বুঝিয়ে বললাম, বলছি ভুল করে ফেলছি ক্ষমা করে দাও, নিধির পিক দেখালাম তোমার পিক দেখালাম।
নিধির পিক দেখে আম্মু আব্বু শান্ত হয়ে গেল, আম্মু আব্বুকে বলল, দেখো হাসিব কিন্তু ছোট বেলা দেখতে এমন ছিল, হাসিবের মেয়ে হাসিবের মত হয়েছে, আর রাগ করে কি হবে, ছেলের বউ আর নাতীকে মেনে নাও।
ভাইয়া ভাবী একটু প্রতিবাদ করেছিল, আব্বু ধমকে দিয়েছে, পরে আর তারা কিছু বলেনি, আব্বু বলেছে কাল তোমাদেরকে বাসায় নিয়ে যেতে।

হাসিবের বাসায় আমাকে মেনে নিতে রাজী হয়েছে শুনে আমার বুকের উপর থেকে একটা পাথর নেমে গেল, আমি ভেবে নিয়েছিলাম, হাসিবের মা বাবা আমাকে মেনে নিবেনা।
আজ প্রথম আমি হাসিব এক বিছানায় শুয়েছি, এখন থেকে এক বিছানায় থাকতে হবে, না হলে তো সবাই বলবে স্বামী স্ত্রী হয়ে কেন আমরা এক বিছানায় ঘুমাই না।
নিধি মাঝখানে আমি আর হাসিব দুইজন দুই পাশে, হাসিব বলল, ইসরাত তোমার মনে হয় সংকোচ লাগছে আমার সঙ্গে ঘুমাতে।
আজ রাতটা কোনমতে কাটিয়ে দাও আমার বাসায় গেলে একসঙ্গে থাকা লাগবে না, আমার রুমে সোফা আছে আমি সেখানেই ঘুমাবো, তুমি নিধিকে নিয়ে খাটে ঘুমাবে।

তুমি এতটাই সাধুপুরুষ নিজের স্ত্রীকে দূরে সরিয়ে রাখতে চাও, আমাকে কি তুমি ভালোবাসো না, কেন দূরে সরে থাকতে চাও, বিয়ে করছ কিন্তু স্ত্রীর অধিকার এখনো দাও না, আমি কি এতটাই নগন্য যে তোমার স্পর্শ পাওয়ার যোগ্যতা আমার নেই।
হাসিব আমার মুখে হাত চাপা দিয়ে ধরে ফেলে বলল, আর লজ্জিত কর না আমাকে, এখানে না, আমার বাসায় যাই সব হবে।

হাসিব নিধিকে তার বুকের উপর তুলে নিলো নিধি হাসিবের বুকের উপর ঘুমাচ্ছে, হাসিব একটা হাত আমার গলার নিচে দিয়ে আমাকে জড়িয়ে ধরলো। আমি তার আরেকটা হাতে আমার হাত রেখে ঘুমিয়ে গেলাম।

সকালে নাস্তা করে হাসিব আমাদেরকে নিয়ে তার বাসায় গেল, পল্লবীতে তার বাসা, বাসার ভিতরে অনেক সুন্দর, অনেক ফুল ফলের গাছ লাগানো চারদিকে। 
বাসার ভিতর ঢুকতেই হাসিবের আম্মু এসে নিধিকে কোলে নিলো, শ্বশুর শাশুড়ীকে সালাম করলাম, হাসিবের ভাবী হাসিবকে বলল, এমন মেয়ে বিয়ে করেছ পছন্দ করে, কি রুচি তোমার। 
হাসিব তার ভাবীকে বলল, আপনার গায়ের রঙ ফর্সা বলেই কি আপনি নিজেকে সুন্দরী ভাবেন, একবার ইসরাতের সাথে আয়নার সামনে গিয়ে দাঁড়িয়ে দেখেন কে সুন্দরী, ইসরাতের গায়ের রঙ আপনার চেয়ে একটু কালো কিন্তু ফেস আপনার চেয়ে সুন্দর।

আচ্ছা থাকো তোমার সুন্দরী বউ নিয়ে আর কখনো কিছু বলব না,  এই কথা বলে হাসিবের ভাবী রুমে চলে গেল।
ভালোই যাচ্ছে আমাদের সংসার, এখন আমার শ্বশুর শাশুড়ী আমার প্রতি দারুণ খুশী, কারণ আমি সংসারের দায়িত্বগুলো নিজ হাতে তুলে দিয়েছি। 
কাজের মেয়ে থাকা সত্বেও রান্না আমি করি, সকালে বিকালে চা করে দেই শ্বশুর শাশুড়ীকে তাদের সেবাযত্ন করি।
ভাবী কোনো কাজ করে না, খাবার সময় খায় আর সারাদিন টিভি দেখে মোবাইল নিয়ে পড়ে থাকে, তার একটা বেবি আছে ছয় বছর, নাম ইফাত, তার দেখাশোনা আমার শাশুড়ী করে। আমি যখন নিধিকে খাওয়াই তখন ইফাদকেও খাইয়ে দেয়, ইফাদ আমাকে ছোট আম্মু বলে ডাকে।

হাসিব সরকারি চাকরি পেয়েছে আইটি সেক্টরে, সে সংসারের সমস্ত খরচ দেয়, আগে আমার ভাসুর সব খরচ দিতো।
এখন আমার ভাসুর, শ্বশুরকে বলে, তোমার ছেলেকে বিদেশে লেখাপড়া করিয়ে ইঞ্জিনিয়ার বানাইছ, সে এখন, সরকারি চাকরি করে, অনেক ভালো বেতন পায়, তাকে বল সব খরচ চালাতে।

হাসিব তার বেতনের বেশির ভাগ টাকা তার বাবার হাতে তুলে দেয়, আর বাদবাকি টাকা আমার কাছে রাখে।
আমি টাকা আমার কাছে রাখতে চাইনি, হাসিব বলে আমার টাকা মানে তোমার টাকা, যখন ইচ্ছা করবে খরচ করবে।
সে বলেছে খরচ করতে, কিন্তু আমার খরচ করার প্রয়োজন পড়ে, না চাইতেই সবকিছু পেয়ে যাই।

আজ শুক্রবার ছুটির দিন, হাসিব আমাকে রেডি হতে বলল।
কেন জানতে চাইলাম,
সে বলল, নামাযের পর নুহাশ পল্লী ঘুরতে যাবে।
বিকালে নুহাশ পল্লীর উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিলাম, নিজেদের গাড়ি করে। সাথে ইফাদকে নিয়ে গেলাম।
নুহাশ পল্লী থেকে ঘুরে আসতে রাত আটটা বেজে গেছে, এসেই হাসিব বিছানায় শুয়ে পড়ল, নিধিও ঘুমিয়ে পড়ছে।
আমি শাড়ি চেঞ্জ করে আসতেই হাসিব আমাকে টান মেরে তার বুকের উপর নিয়ে নিলো, বললাম কি করছ দরজা লক করা হয়নি।
হাসিব বলল, তাতে কি আমার বউকে আমি আদর করব, কে আসবে আমার রুমে।
আমি জোর করে ছাড়িয়ে দরজা লক করে আসলাম।

চলবে,,,

গল্পটি আপনাদের কাছে কেমন লেগেছে অবশ্যই 
লাইক কমেন্ট করে জানাবেন

জীবনের সান্নিধ্যে সবকিছুর নির্ধারিত মাত্রা বজায় রাখা উচিত- Saturday, 23rd December, 2023

অন্তহীন পর্যালোচনাঃ

কোনো মানুষ নিজেকে সবচেয়ে সৌভাগ্যবান তখন মনে করে, যখন সে তার বিশেষ কিছুর মধ্যে নিজের প্রতিচ্ছবি খুঁজে পায়। আবদার সবার মধ্যেই কম বেশি থাকে। তবে ইচ্ছা প্রকাশের শক্তি কিছু ব্যক্তির মধ্যেই থাকে। যার কারনে বর্তমান সময়ের মানুষগুলো, উপর থেকে যেমনই হোক না কেন। ভিতর থেকে অনেকেই সবকিছুর মধ্যেও নিজের খুশিতে বাঁচতে শিখে গেছে। একটা সময় যেকোনো কিছুই কোনো ব্যাপার না। যখন কেউ নিজে তার ব্যক্তিত্ব তৈরি করবে প্রত্যেকটা পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করে। কারণ মানুষ যেমন অবুঝ নয়। তেমনি সর্বজ্ঞ নয়। যেজন্য প্রত্যেকটা মানুষের‌‌‌ মধ্যে যেকোনো কিছুর কার্যক্ষমতা থাকলেও পরিচালনক্ষমতা সীমিত ব্যক্তির মধ্যে বিস্তারিতভাবে থাকে।

মানুষের প্রত্যেকটা মূহুর্ত তার জীবনকে উপস্থাপন করে। কার মানসিকতা কেমন? কার বিবেচনা শক্তি কেমন? সবকিছুই যে কাউকে প্রভাবিত করতে পারে। কিন্তু কারণ ছাড়া কোনো কিছু অর্থহীন! কম বেশি বিবেচনা সাধারণ। কিন্তু কোনো কিছুর বিচার ছাড়া বিশ্লেষণ মূর্খতা। কোনো কিছুর জন্য যে শুধু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষা জরুরি, বিষয়টা এমন নয়। কিছু ক্ষেত্রে মানবিক মূল্যবোধের দরকার হয়। যা কাউকে বিবেচনার মাধ্যমে যে কোনো পরিস্থিতিতে স্বাভাবিক সিদ্ধান্তে উপনীত হতে সহায়তা করে। তখন অন্যের দোষের জায়গায় নিজের ভুলগুলো চোখে পড়ে। যখন জীবনের বেশিরভাগ সমাধান অটোমেটিকভাবে হয়।

মানুষের জীবনের প্রত্যেকটা মূহুর্ত মূল্যবান। যা ক্ষণিকের হলেও একবার চলে গেলে আর ফিরে পাওয়া সম্ভব নয়। তাই জীবনের প্রত্যেকটা মূহুর্তকে উপভোগ করে যাওয়া উচিত। যাতে কখনো অন্যত্র দায়ে নিজের মধ্যে অনুশোচনা তৈরি না হয়। সাবলীল জীবন-যাপনে কোনো কিছুর সংক্ষিপ্ততাও বিশ্লেষিত রূপ প্রকাশ করে যায়। যেখানে সামান্য কিছু অমূল্যভাবে নিজের জায়গা নির্ধারণ করে যায়। যা কোনো পরিস্থিতির মধ্যে স্মৃতিচারণ হিসেবেও স্বাভাবিক মাত্রা বজায় রাখে। তাই অনুভব করা উচিত নিজের খুশিতে। আর বাঁচা উচিত সবার শান্তির শেষ মাধ্যম হিসেবে। যা কেউ প্রকাশ না করলেও কখনো ভুলে যায় না।

স্বপ্ন Saturday, 06th January, 2024

স্বপ্ন

মরে যাওয়া শেষ স্বপ্নটার লাশ পড়েছিলো কোন এক রেলস্টেশনের অন্ধকার কোনে স্টেশনের আলো ওখানে কখনো পৌঁছায় না অদ্ভুত লাশটার চোখে কোন পাতা নেই ঠিক যেন মরা মাছের চোখ মাঝরাতের নিঝুম স্টেশন

কেউ নেই সেই মৃত স্বপ্নের চোখে একবার চোখ

রাখবে

তাতে অবশ্য কিছু আসে যায় না স্বপ্নটার সেতো মৃত, যখন জীবিত ছিল তখনই কেউ দেখেনি

তাকে

আচ্ছা, স্বপ্নটা যার ছিল, সে এখন কই কি নিয়ে বেচে আছে সে এখন

শেষ স্বপ্নটাও যে মরে গেলো তার

দাফনের পয়সাটাও হয়তো ছিলোনা তার কাছে

তাই ফেলে গেছে এই নিঝুম রেলস্টেশনের কোনায় চোখের কোনায় তারও জমে হয়তো খুব সামান্য

অশ্রু

আবার কোন নতুন স্বপ্ন দেখার সাহস তার আর হবেনা এজন্মে পরের জন্মের জন্য হয়তো কিছুটা জমা থাকবে

পরের জন্মে হয়তো সে একটা জোনাক হবে জ্বলবে নিভবে ........জ্বলবে নিভবে ...