ফিলিস্তিনে জরুরি ওষুধ পাঠানোর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

18th October, 2023
25




ফিলিস্তিনের হাসপাতালে বোমা হামলায় হতাহতদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিতে জরুরি ওষুধ পাঠাতে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আজ বুধবার বিকেলে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেককে এই নির্দেশনা দেন সরকার প্রধান। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ তথ্য কর্মকর্তা মাইদুল ইসলাম প্রধান স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বুধবার বিকেলে সচিবালয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে শেখ রাসেল দিবস-২০২৩ উদ্‌যাপন উপলক্ষ্যে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে জরুরি ওষুধ পাঠানো নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর এই নির্দেশনার তথ্য জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ফিলিস্তিনের জনগণের কষ্ট বোঝেন, ইসরায়েলের হামলায় হতাহত নারী-শিশুদের বেদনা অনুভব করছেন তাঁর নিজের জীবনের হতাহতের ক্ষত থেকে। শিশু রাসেলের হত্যায় কী বেদনা হয়েছে, সেটি প্রধানমন্ত্রী বুঝতে পেরেছেন। এজন্যই বিশ্ব পরাশক্তিদের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করেও প্রধানমন্ত্রী ফিলিস্তিনের নিরীহ অসহায় মানুষের জন্য কথা বলছেন, তাদের চিকিৎসা সহায়তায় হাত বাড়িয়ে দিতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে নির্দেশনা দিয়েছেন। স্বাস্থ্যমন্ত্রী সভায় উপস্থিত স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব জাহাঙ্গীর আলমকে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনাকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ জানিয়ে বলেন, ‘আমরা অতি দ্রুত প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী ফিলিস্তিনের আহত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে চিকিৎসাসেবা দিতে চাই। এক্ষেত্রে দ্রুততম সময়ে ওষুধসামগ্রী পাঠাতে আমাদের সামর্থ্যের মধ্যে সম্ভব সব চেষ্টাই করতে হবে।’ স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. জাহাঙ্গীর আলমের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন স্বাস্থ্যশিক্ষা বিভাগের সচিব আজিজুর রহমান, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ ও শিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব এবং যুগ্মসচিবেরা।

আরো নিবন্ধন পড়ুন



আত্মপ্রকাশের অনুভবে স্মৃতির পাতায় গাঁথা ভেজা মুহুর্তগুলো- Wednesday, 13th December, 2023

নির্বিশেষের অনুভবকৃত বিষয়ের আত্মপ্রকাশঃ

মানুষ সেইসব বিষয় কখনোই ভুলতে পারে না। যেই বিষয়গুলো কেউ নিজে থেকে অনুভব করে। কারণ একটা মানুষ পরিস্থিতির মায়া কাটাতে পারে। কিন্তু কিছু বিষয়ের ক্ষণস্থায়িত্ব জেনেও যদি কেউ অনুভব করতে থাকে। তখন হয়তো সেইসব ব্যক্তি তার অনুভবগুলোকে কখনোই ছাড়তে পারে না। কারণ বিষয়টাকে কেউ নিজের আরেকটা অংশ হিসেবে জীবনে জায়গা করে দেয়। যখন বিষয়টার প্রতি কারোর চাওয়া-পাওয়া থাকে না। কিন্তু বিষয়টার একটু অনুভবও তাকে শান্ত করে দেয় যেকোনো পরিস্থিতিতে। এইজন্য নিজ অনুভবকৃত বিষয়গুলো কাউকে এমনভাবে জড়িয়ে রাখে। যখন কেউ বিষয়টাকে মনে না রাখলেও সেই সম্পর্কিত যেকোনো কিছু কারোর মধ্যে পুরোনো অনুভব নতুন করে জাগায়। তখন হয়তো কেউ দায় থেকে মুক্ত থাকে। কিন্তু ভেতরের অনুভবগুলোর স্থায়িত্বে সবসময় কিছু ব্যক্তি জীবনের চাপে নিজের মধ্যে আবদ্ধ থাকে।

মানুষ বিভোর হয়ে থাকে সেইসব মূহুর্তে। যেই মূহুর্তগুলোকে ভেতরের জড়তার কারণে বদলাতে অসক্ষম রয়ে যায়। কারণ একটা ব্যক্তি তখনই থমকে যায়, যখন সবকিছু বুঝেও পরিস্থিতির দায়ভারে নিজেকে নির্বোধভাবে পরিচালনা করতে হয়। মানুষ সবকিছু পারলেও তার ভেতরের অনুভবগুলো কাউকে নিজের মতো অনুভব করাতে পারে না। যার কারনে অপ্রকাশ্যের অনুভবে কেউ নিজেকে ভাঙা গড়ার মাঝে আবদ্ধ করে রাখে। যখন সময়ের সাথে প্রত্যেকটা বিষয়ের স্পষ্টতা বাড়তে থাকে সেইসব ব্যক্তির মধ্যে। বর্তমানে মানুষ কাউকে শেখায় না। কারণ সময়ের অভাবে বেশিরভাগ মানুষ ভালো থাকার তাগিদে নিজের থেকে শিখতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। যখন কাজের মাঝেও অনেকে নিজের ভেতরকার বিষয়গুলো অপরিবর্তিতভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম হয়। কারণ কারোর জীবনের মূল উদ্দেশ্য হয়ে থাকে সবকিছুর মাঝেও নিজেকে ভালো রাখা।

মজবুত মূল্যবোধ তৈরি করতে চিন্তাশক্তির প্রভাব- Wednesday, 08th November, 2023

শান্তিপূর্ণ জীবনের আত্মপ্রকাশঃ

শুরু থেকে কাউকে কোনো কিছু প্রভাবিত করে না। সময়ের সাথে তৈরি হওয়া অভিজ্ঞতার উপর কারোর কর্মের ভিত্তিতে সবকিছুর প্রভাব বাস্তবায়িত হয় তার জীবনে। শুরুতে সবকিছু সহজ মনে হলেও সময়ের সাথে সবকিছু কঠিন হতে থাকে। সময়ের অভিজ্ঞতা একটা সময়ের পর হয়তো প্রত্যেকের  জীবনের পরিবর্তন আনে। কিন্তু চিন্তা-ভাবনার সাথে বাস্তবের রূপ অনেকটাই আলাদা হয়। কেউই চায় না তার পরিকল্পিত সিদ্ধান্তের পরিবর্তন করতে। কিছু সময় পরিস্থিতির চাপে সিদ্ধান্তের বদল হলেও অপূর্ণতা কাউকে পুরনের মধ্যে নতুনত্বতা আনায়। কেউ হয়তো কারোর মতো করে তাকে অনুভব করতে পারে না। কিন্তু কারোর মানবিকতা তার আন্তরিকতায় তাকে গভীরভাবে অনুভব করার শক্তি দেয়। যা তাকে কারোর প্রতি তার থেকেও বেশি অনুভব করায়।

কারোর চিন্তা-ভাবনা সবার মতো না হলেও অনুভব একটা মানুষের বিশেষ পরিবর্তন করতে পারে। যা তাকে যেকোনো কিছু নীরবে বুঝতে শেখায়। নিরবতায় মানুষ আত্মিক অনুভব করতে পারে। যা তাকে মায়ায় নয়, বাস্তবতা মানতে শেখায়। সরল হওয়ার চেয়ে সরাসরি হওয়া ভালো যদি সফল হতে চাও। কারণ দূরে থেকে সরলতা বজায় রাখার চেয়ে সরাসরি সবকিছুর সমাপ্তিও শ্রেয়। কোনো কিছুর প্রতি আলাদা করে আর কোন কিছুর জন্য ভোগান্তি পোহাতে হয় না। মানুষের সবচেয়ে বড় শক্তি সবকিছু জেনেও না জানার মতো আচরণ করা। এইটা তার সবকিছুর চেয়ে তাকে প্রত্যেকের কাছে অপ্রকাশ্যে রাখে বেশি। যা তার সামনের দিনগুলোকে বেশি প্রভাবিত করতে থাকে।

মানুষ যেমন এক জায়গায় তার স্থায়িত্ব বজায় রাখতে পারে না। তেমনি কোন কিছুতে প্রভাবিত হলেও সহজে সেখান থেকে বেরিয়ে আসতে পারে না। কেউই চায় না স্বার্থবাদী হতে। পরিস্থতি আর পরিবেশ একটা ব্যক্তিকে বাধ্য করে স্বার্থবাদী হতে। যা তাকে সবার কাছে অপ্রকাশ্যে উটকো বোঝার মতো মনে করায়। কেউ কারোর বুদ্ধিতে চলে না। সবাই নিজের বিবেচনায় নিজেকে পরিচালনা করে। কিছু সময় কারোর বিফলতা তাকে এতটাই দুর্বল করে যে, তখন সে না চাইলেও নিজের চেয়ে অন্যের সিদ্ধান্তের উপর বেশি ভরসা করতে বাধ্য হয়। কারণ সময়টাই এমন যে, নিজের চেয়ে অন্যের প্রতি তাকে বেশি ভাবতে শেখায়। এইজন্য পরাজয়ে দুর্বল না হয়ে শান্ত হতে শেখো। বিষন্নতায় নেওয়া ভুল সিদ্ধান্ত থেকে মুক্তি পেতে।

অনুপ্রেরণার চেয়ে অনুভব মানুষকে বেশি পরিবর্তন করে। কারণ অনুভব আত্মিক। যা ঘুমের ঘোরেও তাকে প্রভাবিত করে। কোনো কিছুর আভাস কাউকে বোঝার চেয়ে তাকে দ্বিধাগ্রস্ত করে বেশি। কারণ আভাস হচ্ছে বাতাসের মতো যা সময়ের পরিবর্তনে কাউকে বিভিন্নভাবে অনুভব করায়। সময়ের পরিবর্তনে যেমন সবকিছুর পরিবর্তন হয়। তেমনি কোন কিছুর প্রতি অতীতের দায়যুক্ত মুহুর্ত তাকে একরকম ভাবেই সবসময় অনুভব করায়। যা তাকে মানসিকভাবে ক্লান্ত করতে থাকে। প্রয়োজন আর প্রিয়জনের একটা ছোট পার্থক্য থাকে সবসময়। প্রয়োজন মানুষকে তার অভাব অনুভব করায়, পরিপূর্ণ জীবনের অধিকারী করাতে। আর প্রিয়জন ততক্ষনই তার পাশে থাকবে, যতক্ষণ তার প্রয়োজন সে পূরণ করতে পারবে।

অনুভবের জীবনে অনেকেই ছোট পৃথিবীর বড় রূপের পরিচিতি লাভ করে। যা তাকে দেখানোর চেয়ে বোঝায় বেশি। কেউ যখন তার সংক্ষিপ্ত জীবনের বিস্তারিত রূপ দিতে যাবে। তখন তার অপ্রকাশ্যে সময়ের আগেই তার জীবনের সংক্ষিপ্ত রূপ প্রকাশ হবে।