ছোটবেলার হারানো সময়-

15th October, 2023
188




পুরোনো স্মৃতিঃ

সময়ের সাথে হারিয়ে যাওয়া মূহুর্তের কথা হঠাৎ মনে পরলে তখন সেই সময় ফিরে যেতে না পারলেও চিন্তাশক্তি আমাদের ওই সময়ে ফিরিয়ে নিয়ে যায়। আসলেই ছোটবেলার সেই পুরোনো কিছু মূহুর্ত আমাদের ভেতরের শৈশবের মুহুর্তগুলোকে নতুন করে ভাবতে শেখায়। 

ছোটবেলায় বৃষ্টিতে ভেজা, শিলা বৃষ্টি হলেই জানালার সামনে এপাশ ওপাশ থেকে একটা ওড়না নিয়ে দুইজন দাড়িয়ে থাকা ছোট শিলার জন্য। ভোর হলেই সামনের বাসায় আম গাছের নিচে আম কুড়াতে যাওয়া। বিকাল হলেই খেলতে যাওয়া। রাতে বিদ্যুৎ চলে গেলে জোনাকি পোকা খুঁজতে বেরোনো। শিতকালে স্কুলে যাওয়ার জন্য  মায়ের জোর করে ঘুম থেকে তোলা। স্কুলে বেঞ্চের কোনায় বসে ছুটির ঘন্টার কথা ভাবতে থাকা।

শিতকালে রাতের বেলায় চুলার পিঠে মায়ের পাশে বসে থাকা পিঠার জন্য। কুয়াশায় ঢাকা হালকা চাঁদের আলোয় চুলার পিঠে বসে থাকা মায়ের পাশে গরম পিঠা খাওয়া। কুয়াশার ঠান্ডা হিমের সাথে পিঠার গরম ধোঁয়ার ঘ্রাণ পিঠার অতুলনীয় স্বাদ বাড়ায়।  যা এখন আফসোসের খাতায় চলে গেছে। রাতে না খেয়ে ঘুমালে মাঝরাতে ঘুম ভেঙে গেলে মাকে খিদার জন্য জাগিয়ে, তার ভাত মেখে খাওয়ানো। রাতে জ্বর উঠলে ঔষধ খাওয়ানো, কাপড় ভিজিয়ে গা মুছিয়ে দেওয়া, ঠান্ডা লাগলে বুকে সরিষার তেল মালিশ করা, মাথা ব্যাথা করলে পানিতে Disprin গুলিয়ে খাওয়ানো, ঘুম না আসলে মাথায় হাত বুলানো। আসলেই মায়ের সাথে কারোর তুলনা হয় না।

মাঝরাতে টিনে বৃষ্টির শব্দে ঠান্ডা অনুভবে ঘুমানো। খেলার সময় পড়ে গিয়ে হাত পা কেটে গেলে ধুয়ে মুছে কাটা যায়গায় মায়ের ঔষধ লাগিয়ে কাপড় বেধেঁ দেওয়া। রাতে সবার সাথে একসাথে খাবার  খাওয়া। এই দিনগুলো চাইলেও হয়তোবা পূর্বের মতো করে ফিরে পাওয়া সম্ভব না। কিন্তু এই বিষয়গুলো মাথায় রেখে পরিবারের জন্য কিছু করতে পারলে হয়তো সন্তান হিসেবে মায়ের সার্থকতার অবদান হইতে পারবা। কারণ প্রকৃতি আমাদের সময়ের সাথে নিজেকে পরিবর্তন করা শেখাবে। কিন্তু এই পরিবর্তন সমাজের জন্য রেখে ভেতরের মানুষটাকে পরিবারের জন্য রাখলে ভবিষ্যৎ তোমাকে সফলতা উপহার দিবে।

রিলেটেড পোস্ট


সমাজের বিপরীত প্রতিক্রিয়ায় নিজেকে পরিবর্তনের সময়-
পড়া হয়েছে: ১৭৯ বার

কারোর ব্যক্তিত্ব যেকোনো পরিস্থিতির প্রভাব থেকে তাকে মুক্ত রাখে-
পড়া হয়েছে: ২৪৩ বার

কারোর জীবনে না চাইতেও পাওয়া কিছু বিশেষ উপহার-
পড়া হয়েছে: ২৩১ বার

অপ্রকাশ্যের কিছু অনুভূতি পৃথিবীর সর্বস্ব অনুভব করায়-
পড়া হয়েছে: ১৬২ বার

মানসিক শান্তি বজায় রাখার সর্বোত্তম প্রক্রিয়া-
পড়া হয়েছে: ১৭২ বার

চার দিনের ব্যবধানে ফের কমল সোনার দাম
পড়া হয়েছে: ৫৫ বার

পরিস্থিতি কারোর প্রকৃতি নির্ধারণ করে থাকে-
পড়া হয়েছে: ১৮৫ বার

স্বাভাবিক মাত্রায় যেকোনো কিছুর তারতম্য বজায় রাখা সম্ভব-
পড়া হয়েছে: ৩৭৩ বার

শান্তিপূর্ণ সম্পর্ক-
পড়া হয়েছে: ২৬১ বার

অবেলার সামান্য ইচ্ছা প্রকাশের আবদার-
পড়া হয়েছে: ২০০ বার


আরো নিবন্ধন পড়ুন



মূল্য Saturday, 06th January, 2024

সম্মানের সাথে সদ্য স্মাতক হওয়া মেয়েকে ভাল একটা উপহার দেয়ার জন্য বাবা মেয়েকে নিয়ে গ্যেরেজে গেলেন।

 

বললেন,“এখানের এই গাড়িটা অনেক বছর আগে আমি নিয়েছিলাম। এখন এর অনেক বয়স হয়ে গেছে। তোমার খুশীর এই মুহূর্তে এটা আমি তোমাকে উপহার হিসেবে দিতে চাই। তবে তার আগে তুমি এটা বিক্রির জন্য ব্যবহার করা গাড়ির শোরুমে যাও এবং দেখ তারা তোমাকে কত অফার করে।”

 

মেয়ে ব্যবহৃত গাড়ির শোরুম থেকে বাবার কাছে ফিরে এসে বলল, ′′ তারা আমাকে এক হাজার ডলার অফার করেছে কারণ এটি দেখতে খুব জরাজীর্ণ।”

 

বাবা বললেন, “এবার এটা ভাঙ্গারি দোকানে নিয়ে যাও, দেখ ওরা কি বলে!”

 

মেয়ে ভাঙ্গারি দোকান থেকে ফিরে এসে বলল, “এটা অনেক পুরনো গাড়ি বলে এখানে মাত্র ১০০ ডলার অফার করেছে।′′

বাবা তখণ একটা গাড়ির ক্লাবে গিয়ে গাড়িটা দেখাতে বললেন। মেয়ে গাড়িটি ক্লাবে নিয়ে গেল এবং ফিরে এসে খুশিতে তার বাবাকে বলল, "ক্লাবে কিছু লোক খুবই কৌতূহল ভাবে গাড়িটি পর্যবেক্ষণ করলো এবং এর জন্য এক লক্ষ্ ডলার অফার করেছে। যেহেতু এটি একটি Nissan Skyline R34, একটি আইকনিক গাড়ি।"

 

তখন বাবা তাঁর মেয়েকে বললেন, "সঠিক জায়গার সঠিক লোক তোমাকে সঠিক ভাবেই মূল্যায়ন করবে। আর যদি কোথাও তোমাকে মূল্য না দেওয়া হয়, তবে রাগ করবেনা। বুঝে নিবে এর মানে তুমি ভুল জায়গায় আছো। তারাই তোমার মূল্য দিবে, যাদের নিজেদের মূল্যবোধ আছে, গুনের মর্ম উপলব্ধি করার মত যোগ্যতা আছে। এমন জায়গায় কখনো থেকো না যেখানে তোমার মূল্য কেউ দেখে না।”

নাজমূল হোসাইন

সমাজের বিপরীত প্রতিক্রিয়ায় নিজেকে পরিবর্তনের সময়- Thursday, 09th November, 2023

জীবনের ইতিহাসঃ

দিনের সূর্যহীন হালকা আলোয় নিস্তব্ধ প্রকৃতি তোমার পরিভাষা তৈরি করবে। যদি তুমি শান্তিপূর্ণ মানুষ হও। সমাজ মানুষকে চলতে শেখায়। আর প্রকৃতি মানুষকে বাঁচতে শেখায়। পার্থক্য হচ্ছে সমাজ মানুষকে ঠিকিয়ে শেখায়। আর প্রকৃতি মানুষকে ভালোবেসে শেখায়। প্রত্যেকের জীবনেই কিছু বিশেষ মূহুর্ত থাকে। যা তাকে অনুভব করা শেখায়। প্রত্যেকের জীবনের ভিন্নতায় অনুভবের ধরন আলাদা হলেও বিষয়টা মন থেকে আসে। যার গভীরত্ব কাউকে সবসময় রূপান্তর করতে থাকে।

কিছু মানুষের দোষে পরিস্থিতি আর সমাজকে সবাই দোষারোপ করতে থাকে। যার কারণে ক্ষণিকেই ব্যক্তিটা তার কৃতকর্মগুলো ভুলে গিয়ে, নতুন করে ভুল করতে থাকে। পরবর্তীতে তার ভুলগুলো বিস্তারিত রূপ ধারণ করতে থাকে। যার লাগাম না টানলে সে শোধরানোর জায়গায় বেশি বিগড়াতে থাকে। এইজন্য শুরু থেকেই ভুলগুলো বোঝার গুরুত্ব অনেকটা বেশি। কেউ শুরুতে হয়তো ইচ্ছা করে ভুল করে না। কিন্তু কাউকে ভুলগুলো না বোঝালে সঠিকটা সবসময় তার অজানা থেকে যায়। বর্তমানে হয়তো কেউ কাউকে বোঝায় না। সময় সাপেক্ষে সবাইকেই সবকিছু তার নিজের মতো করে বুঝে নিতে হয়। যার কারণে সবাই কাছাকাছি থেকেও দুরত্ব অনেক বেশি।

অনেক সময় কিছু পরিস্থিতি চাইলেও নিজের মতো করে গড়া যায় না। কারণ কিছু জিনিস অনুভবেই সুন্দর, বাস্তবে জটিল। এইরকম অল্প কিছু কারনে বাস্তবে চলতে পারলেও অনুভবের কোনো কিছুর বাস্তবায়ন থমকে যায়। যার কারণে বাস্তবতা বাস্তবায়নে আর অনুভূতি অনুভবেই সুন্দর। প্রিয় মুহুর্তগুলো বর্তমানে পুরোনো দিন হিসেবে বিবেচনা করা হয়। যা কাউকে প্রশান্তি অনুভব করানোর জায়গায় অস্বস্তি অনুভব করায়। মানুষ স্বার্থপর না। কারণ সময়ের সাথে সবাই নিজেকে গোছাতে শিখে গেছে। যার কারণে একজন আরেকজনের জন্য নয়, প্রত্যেকে নিজের জন্য বাঁচাতে চেষ্টা করে।

তোমার ভালো-খারাপ কখনো কাউকে প্রকাশ করতে যাবা না। কারণ প্রকাশ্যের চেয়ে অপ্রকাশ্যের সুবিধা অনেক। তখন চাইলে কেউ তোমার সাহায্য নিতে পারবে। কিন্তু তোমার সুযোগ নিতে পারবে না। প্রত্যেকেই সুবিধাবাদী, যার কারণে নিজেকে আড়ালে রাখা ভালো। কেউ যখন কোলাহলের চেয়ে শান্তিপূর্ণ জীবন পছন্দ করবে। তখন তার জীবনে কোলাহলের স্থায়িত্ব তাকে একসময় অন্তর্মুখী করবে। যার কারনে কোনো কিছুর পিছুটানের জায়গায় জীবনের প্রতি স্বস্তির নিঃশ্বাস তাকে অনুভব করাবে বেশি। কোনো কিছুর ভালোর জন্য নিজের আত্মত্যাগের জায়গায় বিষয়টাকেই জীবন থেকে ত্যাগ করা ভালো। কারণ তুমি তোমার জন্য। তাই একবার নিজেকে হারিয়ে ফেললে পূর্বের ন্যায় কোনো কিছু ফিরে পেলেও ভেতর থেকে অনুভব হারিয়ে যাবে। যার কারণে বেঁচে থেকেও তুমি মৃতপ্রায় অবস্থায় নিঃশেষে বিভাজ্য হতে থাকবা।

প্রত্যেকটা বিষয়ের ভালো-খারাপ নিয়েই জীবন। ভালো থাকতে গেলে যেকোনো বিষয়ে ত্যাগ করে মানায় নেওয়া প্রয়োজন। কারণ যেকোনো বিষয় মানায় নেওয়ার মাধ্যমে নিজেকে ধৈর্য্যশীল রাখতে পারবা। আর কোনো কিছুর ত্যাগ তোমাকে পরিবর্তন করবে। যা তোমাকে সমাজের পরিবর্তিত রূপ দেখাবে।