আরো নিবন্ধন পড়ুন



বিশ্বকাপের দলে না থাকা নিয়ে মুখ খুলেছেন তামিম ইকবাল Wednesday, 27th September, 2023

মানুষের অপেক্ষা ফুরিয়েছে। বিশ্বকাপের দলে না থাকা নিয়ে মুখ খুলেছেন তামিম ইকবাল। এবং ১২ মিনিটের ভিডিওতে যা বলেছেন, তা যদি সত্যি হয়ে থাকে বাংলাদেশের ক্রিকেট নিয়ে আলোচনা চিরতরে বদলে যাবে। 

তামিম দাবি করেছেন, তাকে ইচ্ছাকৃতভাবে এমন পরিস্থিতিতে ফেলা হয়েছে, যেন তিনি বিশ্বকাপের দলে না থাকেন। মিডিয়াতে বিভিন্ন খবর ছড়ানো হয়েছে, যেন সবাই তাঁকে ভুল বোঝে।

আজ ভিডিও বার্তায় তামিম বলেছেন, তাঁকে বিশ্বকাপে না নেওয়ার পক্ষে যে যুক্তি দেওয়া হয়েছে, তা ভুল, ‘মিডিয়াতে যে জিনিসটা এসেছে, চোট, পাঁচ ম্যাচ খেলা- আমার বিশ্বকাপে না যাওয়ার পেছনে এর বড় অবদান ছিল। আমার কাছে মনে হয় না, আমি বিশ্বকাপে না যাওয়ার পেছনে এর বড় অবদান ছিল। কারণ, আমি তো এখনো চোটে পড়ি নাই এখনো। ব্যথা থাকতে পারে, কিন্তু চোটে তো পড়ি নাই।’

তামিম নিজেই বিশ্বকাপে যেতে চাননি, দাবি মাশরাফিরতামিম নিজেই বিশ্বকাপে যেতে চাননি, দাবি মাশরাফির
তাহলে তামিম কেন বিশ্বকাপে যাচ্ছেন না? তাঁর সতীর্থরা সবাই যেখানে গোয়াহাটির উদ্দেশে উড়াল দিচ্ছন, তখন তিনি কেন ফেসবুকে ভিডিও বার্তা দিচ্ছেন? তামিম সে ব্যাখ্যায় বলেছেন, ‘তার এক দুইদিন পর বোর্ডের শীর্ষ পর্যায় থেকে আমাকে ফোন করলেন। তিনি আমাদের ক্রিকেটের সাথে বেশ জড়িত। উনি আমাকে ফোন করে হঠাৎ করে বললেন, “তুমি তো বিশ্বকাপে যাবা, তোমাকে তো ম্যানেজ করে খেলাতে হবে। তুমি এক কাজ কর, প্রথম ম্যাচ খেলিও না। আফগানিস্তানের সাথে।” আমি বললাম, “ভাই, এটা তো এখনো ১২-১৩ দিনের কথা।  ১২-১৩ দিনের মধ্যে তো আমি ভালো কন্ডিশনে থাকব। আমি কী কারণে খেলব না।” তখন বলল যে, “আচ্ছা তুমি যদি খেল, আমরা এরকম একটা প্ল্যান করছি বা আলোচনা করছি, যদি খেল, তোমাকে আমরা নিচে ব্যাটিং করাব।”’

বিশ্বকাপ দল নিয়ে নির্বাচকদের যা বলেছিলেন তামিমবিশ্বকাপ দল নিয়ে নির্বাচকদের যা বলেছিলেন তামিম
এমন প্রস্তাবে চমকে গিয়েছিলেন তামিম, ‘স্বাভাবিকভাবে আপনাদের মনে রাখতে হবে, কোন মানসিকতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছিলাম। একটা ভালো ইনিংস খেলেছি, খুশি ছিলাম। হঠাৎ করে এসব কথা আমার পক্ষে নেওয়া সম্ভব না। আমি ১৭ বছর ধরে এক পজিশনে ব্যাটিং করেছি, জীবনে কোনোদিন তিন-চারে ব্যাটিংই করিনি। এমন যদি হতো আমি তিনে ব্যাটিং করি, চারে ব্যাটিং করি, তারপর যদি উপরে-নিচে করা হয়, তখন সেটা মানা যায়। আমার তিন-চার-পাঁচে ব্যাট করার কোনো অভিজ্ঞতা নেই। আমি তাই কথাটা ভালোভাবে নেইনি।’

বড় জিনিস ঢাকার জন্য মিডিয়াকে অনেক খবর খাওয়ানো হয়: তামিমবড় জিনিস ঢাকার জন্য মিডিয়াকে অনেক খবর খাওয়ানো হয়: তামিম
এরপরই তামিম বলেন তাঁকে ছাড়াই বিশ্বকাপের দল ঘোষণা করতে, ‘উত্তেজিত হয়ে গিয়েছিলাম। কারণ, আমার মনে হচ্ছিল, আমাকে জোর করে অনেক জায়গায় বাধা দেওয়া হচ্ছে। ইচ্ছা করে। এটা ঠিক হয়ে গেছে, আচ্ছা এখন নতুন আরেকটা জিনিস করি। আমার তাই মনে হয়েছে। তখন আমি বললাম, “দেখেন, আপনারা একটা কাজ করেন, আপনাদের যদি এমন চিন্তা ভাবনা থাকে, তাহলে আমাকে আপনারা পাঠাইয়েন না। আমি এই নোংরামির মধ্যে থাকতে চাই না। প্রতিদিন আমাকে এক একটা নতুন জিনিস ফেস করাবেন। এর মধ্যে আমি থাকতে চাই না।”’

বিশ্বকাপ নিয়ে বিস্ফোরক তামিম, বললেন বাদ দেওয়া 'ইনটেনশনাল' বিশ্বকাপ নিয়ে বিস্ফোরক তামিম, বললেন বাদ দেওয়া 'ইনটেনশনাল' 
তামিমের মনে হয়েছে বিশ্বকাপে খেলার জন্য দলের মধ্যে এমন অস্বস্তিকর পরিবেশে থাকার কোনো মানে হয় না, ‘তারপরও ফোনে অনেক কথাবার্তা হয়েছে। যা এই প্ল্যাটফর্মে আমার বলা উচিত বলে মনে হয় না। আমার আর ওনার মধ্যেই থাক।” এরপর আমি এটাই শক্তভাবে বলেছি, এই নোংরামির মধ্যে থাকতে চাই না। আপনারা চাইলে আমাকে দলে নির্বাচন করিয়েন না। এসব আমি মানতে পারব না।’

সমাপ্তির পথচলা- Wednesday, 18th October, 2023

অসমাপ্ত আত্মকথাঃ

ভুল থেকে শুরুর পথচলা অস্বাভাবিক নয়। তোমার জীবনে পূর্ণতা আনে পিছনের করা ভুলগুলো। কারোর কাছ থেকে সবসময় পরামর্শ নিয়ে পথচলা একরকম। আর তুমি নিজের মতো করে পথ চললে সেইটা আরেক রকম। তোমার কিছু না থাকতে একা পথচলা একরকম আর সবকিছু থেকেও সেখান থেকে সাহায্য না নেওয়া অস্বাভাবিক। না পাওয়া থেকে শেখা যায়। কিন্তু সবকিছু থাকা সত্ত্বেও সেগুলোর সঠিক ব্যবহার না করলে সেটা তোমার ভুল। মানুষ যেকোনোভাবে নিজের জীবনের পর্যালোচনা করতে পারে। তার কিছু থাকুক আর না থাকুক। সেখানে শুধু শেখার মাধ্যমটা আলাদা হবে।

কখনো কারোর জীবন থেকে নিজের জীবন পর্যালোচনা করার চেষ্টা করবে না। প্রত্যেকের জীবন তার নিজের মতো। সময়ের সাথে একেক জন একেকভাবে বদলায়। কারণ প্রত্যেকের পরিবার ভিন্ন হয়। প্রত্যেকেরই তার পরিবারের মতো করে সঠিক বিবেচনায় নিজের ব্যক্তিত্ব তৈরি করে জীবনের পর্যালোচনা করা উচিত। কারণ ব্যক্তিত্বের নকল করা যায় না। কারোর ভালো দিক থেকে শেখা যায়। কিন্তু ব্যক্তিত্ব নিজের মতো করে তৈরি করতে হয়। পরিবার তোমাকে সঠিক পথে চলতে শেখাবে। পরিস্থিতি বুঝে তোমার নিজেকে  পরিচালনা করতে হবে।

নিজের কাছে নিজেকে সহজ করলে কোনো কিছুই কঠিন নয়। জীবনের পদক্ষেপগুলো সয়য়ের সাথে ধরন বদলাবে। কিন্তু নিজেকে নিজের মতো রেখে সময়ের সাথে এগোতে হবে। সবকিছু তখনই অনেক কঠিন যখন তুমি নিজের চেয়ে অন্য কিছুর বেশি গুরুত্ব দিবা। তখন চাইলেই সবকিছু ছেড়ে দেওয়া যায়। কিন্তু নিজেকে সহজে বদলানো যায় না। নিজেকে সঠিকভাবে তৈরি করতে পারলে, নতুনত্ব আমাদের মধ্যে কিছুসময় থাকবে। কিন্তু মনুষ্যত্ববোধ আমাদের মধ্যে আজীবন  থাকবে। কেউ কারোর কথায় কষ্ট পায় না। প্রত্যেকেই বিপরীত ব্যক্তির আচরণে কষ্ট পায়।

কাউকে কষ্ট দেওয়া সহজ। কিন্তু তাকে বুঝে তার যেকোনো পরিস্থিতিতে তার পাশে থাকা কঠিন। কারণ এটা সীমিত সময়ের পথচলা নয়, একটা দায়িত্ব। যা সবসময় থেকে যায় জীবনের একটা অংশবিশেষ হিসেবে। সমস্যার অভাব নাই, কিন্তু সমাধান প্রত্যেকটা বিষয়েরই আছে। শুধু বিষয়টাকে বুঝে সমাধান নিজের করে নিতে হবে। কঠিন একটা শব্দ। কিন্তু এটাকে আকার ধারণ করাই আমরা। জীবনের কোনো কিছুই বোঝার না, সবকিছুই প্রয়োগের বিষয়। মাঝে মাঝে আমরা নিজেদের জীবনের ক্ষেত্রে ছোট কঠিন শব্দের বড় প্রয়োগ করে ফেলি। যার কারনে সহজ কাজ করতে গেলেও ভুল হতেই থাকে। ভুলগুলোকে পর্যবেক্ষণ করে পরবর্তীতে যেকোনো কাজ প্রয়োজনের তুলনায় নিখুঁতভাবে করা সম্ভব।

জীবন সীমিত সময়ের হলেও অনেক বিবেচনা করে প্রত্যেকটা মুহূর্তের সম্মুখীন হতে হয়। সহজ সবকিছুই যখন তুমি প্রত্যেকটা বিষয়ের সাথে নিজেকে খাপ খাওয়াতে পারবা।

গল্পের নাম-ভাগ্য Sunday, 07th January, 2024

গল্পের নাম - ভাগ্য
পর্ব 

জামাই ইঞ্জিনিয়ার অনেক টাকা রোজকার করবে, হয়তো জামাইয়ের টাকায় বসে খেতে পারবে, সেই আশায় আমার মায়ের মুখ ঝলমল করছে।
আমার মা বাবার রুপ পাল্টে গিয়েছে, আমাকে আর নিধিকে কি আদর, কোল থেকে নিধিকে নামাতেই চায়না। 
মনে মনে ভাবি স্বার্থের জন্য মানুষ কতটা বদলে যেতে পারে। 

মা ইমাকে ফোন করে জানালো আমি বিদেশ থেকে আসছি, আর সবার জন্য অনেককিছু নিয়ে এসেছি। ইমা তার স্বামীকে নিয়ে চলে আসল, আমি তো জানতাম না ইমার বিয়ে হয়েছে, তাই তার বরের জন্য কিছু আনিনি। ইমার হাতে তিন হাজার টাকা দিয়ে বললাম তোর বরকে এই টাকা গুলো দিয়ে বল শপিং করতে, ইমা খুব খুশী তার বরকে শপিং করতে টাকা দিয়েছি বলে।

আপু শুনলাম দুলাভাই ইঞ্জিনিয়ার, আর দেখতেও বেশ সুন্দর, তোর তো সেই কপাল রে, ভালোই করেছিস আদিব শয়তানকে ছেড়ে দিয়ে, এখন তুই ইঞ্জিনিয়ারের বউ, দুলাভাই অনেক টাকা ইনকাম করবে, সব টাকা তোরই হবে, তুই চাইলে মা বাবাকে আমাদেরকে সাহায্য করতে পারবি।

এখন বলছিস আদিব শয়তান ছিল, আমি তোদেরকে কতবার বলেছি আদিব আমাকে অত্যাচার করে, তোরা কি বলছিল, ওইরকম অত্যাচার সব স্বামীরাই করে।
ইংল্যান্ড যাবার আগে মাকে বলছিলাম, আমি ইংল্যান্ড যাবো না, সেদিন মা আমাকে অনেক কথা শুনিয়েছে, মনে ত্যাগ দিয়ে আদিবের সাথে ইংল্যান্ড গিয়েছিলাম, ভাবছি বাঁচলে বাঁঁচব মরলে মরব।
আদিব আমাকে অন্য পুরুষের হাতে তুলে দিতে চেয়েছিল, আমি সেদিন পালিয়ে গিয়েছি, আমার ভাগ্য ভালো হাসিবের মত মানুষের সাথে দেখা হয়েছিল, সে আমাকে আশ্রয় না দিতে এতদিনে হয়তো মরে যেতাম নয়তো কোনো পতিতালয়ের বাসিন্দা হয়ে থাকতাম।
আর সাহায্যের কথা বলছিস, আমি কি করে সাহায্য করব, টাকা ইনকাম করবে হাসিব সে যদি চায় মা বাবাকে তোদেরকে সাহায্য করতে করবে।
তার আদেশ ব্যতীত আমি কিছু করব না, কারণ সে আমার কাছে অনেক মূল্যবান একজন মানুষ।

ইমার মুখ কালো হয়ে গেল আমার কথা শুনে, সে আর কিছু বলল না।
মিলি নিধিকে কোল থেকে নামাতেই চায়না, অনেক আদর করছে মিলি নিধিকে।
নিধি বারবার পাপ্পা যাবো পাপ্পা যাবো বলছে, ভাবছি হাসিবকে ফোন দেবো কি না, সে তো তার বাসায় আছে এখন কি ফোন দেওয়া উচিত হবে, কিন্তু এইদিকে নিধি আর জন্য কান্না করছে। 
তখনি হাসিব ফোন দিয়ে বলল, 

আমি কাল সকালে আসব তোমাদের নিয়ে যেতে,
নিধি কেমন আছে, খুব মিস করছি নিধিকে।

সে তোমার জন্য খুব কান্না করছে এখনো ঠিকমত না খেয়ে ঘুমাইছে।

আচ্ছা আমি এখনি আসছি,
এই কথা বলেই হাসিব ফোন রেখে দিলো, আমি বললাম এতো রাতে আসার দরকার নেই সকালেই এসো, সে আমার কথা শুনলো না।
আধা ঘণ্টা পর হাসিব এসে দরজায় নক করছে, মা গিয়ে দরজা খুলে দিয়ে জানতে চাইলো, জামাই তুমি এতো রাতে কোন সমস্যা হয়েছে কি।

হাসিব মাকে বলল, না মা কোন সমস্যা না, ইসরাত বলল, নিধি আজ সারাদিন আমার জন্য কাঁদছে, রাতেও ঠিকমত খায়নি, তাই চলে আসলাম, সকালে ইসরাতকে আমার বাসায় নিয়ে যাবো।

হাসিবের মেয়ের প্রতি এমন টান দেখে মা বাবা বেজায় খুশী, বাবা বলে, ভাগ্য করে এমন স্বামী পেয়েছি, যার স্ত্রীর প্রতি সন্তানের প্রতি এত ভালোবাসা, সে মানুষ হিসেবে অবশ্যই অনেক ভালো। 
হাসিবকে বললাম, তুমি কি পাগল এতরাতে কেন আসলে, আসার সময় আম্মা আব্বাকে বলে আসছ, না হলে তো সকালে তোমাকে রুমে না পেয়ে খুঁজবে।

আম্মু ঘুমিয়ে গিয়েছে, আব্বু টিভি দেখছিল, বললাম, আব্বু নিধি আমার জন্য কাঁদছে, আমি এখন নিধির কাছে যাচ্ছি সকালে তাদেরকে নিয়ে চলে আসবো। 
আব্বু বলেছিল, সকালে যেতে পারতি এতো রাতে না যেয়ে, আমি চলে আসলাম। 

হাসিবের কাছে জানতে চাইলাম, আম্মা আব্বা আমাকে মেনে নিলো, এটা তো আমার বিশ্বাস হচ্ছেনা। 

প্রথমে তো খুব রাগারাগি শুরু করে আব্বু পরে সব বুঝিয়ে বললাম, বলছি ভুল করে ফেলছি ক্ষমা করে দাও, নিধির পিক দেখালাম তোমার পিক দেখালাম।
নিধির পিক দেখে আম্মু আব্বু শান্ত হয়ে গেল, আম্মু আব্বুকে বলল, দেখো হাসিব কিন্তু ছোট বেলা দেখতে এমন ছিল, হাসিবের মেয়ে হাসিবের মত হয়েছে, আর রাগ করে কি হবে, ছেলের বউ আর নাতীকে মেনে নাও।
ভাইয়া ভাবী একটু প্রতিবাদ করেছিল, আব্বু ধমকে দিয়েছে, পরে আর তারা কিছু বলেনি, আব্বু বলেছে কাল তোমাদেরকে বাসায় নিয়ে যেতে।

হাসিবের বাসায় আমাকে মেনে নিতে রাজী হয়েছে শুনে আমার বুকের উপর থেকে একটা পাথর নেমে গেল, আমি ভেবে নিয়েছিলাম, হাসিবের মা বাবা আমাকে মেনে নিবেনা।
আজ প্রথম আমি হাসিব এক বিছানায় শুয়েছি, এখন থেকে এক বিছানায় থাকতে হবে, না হলে তো সবাই বলবে স্বামী স্ত্রী হয়ে কেন আমরা এক বিছানায় ঘুমাই না।
নিধি মাঝখানে আমি আর হাসিব দুইজন দুই পাশে, হাসিব বলল, ইসরাত তোমার মনে হয় সংকোচ লাগছে আমার সঙ্গে ঘুমাতে।
আজ রাতটা কোনমতে কাটিয়ে দাও আমার বাসায় গেলে একসঙ্গে থাকা লাগবে না, আমার রুমে সোফা আছে আমি সেখানেই ঘুমাবো, তুমি নিধিকে নিয়ে খাটে ঘুমাবে।

তুমি এতটাই সাধুপুরুষ নিজের স্ত্রীকে দূরে সরিয়ে রাখতে চাও, আমাকে কি তুমি ভালোবাসো না, কেন দূরে সরে থাকতে চাও, বিয়ে করছ কিন্তু স্ত্রীর অধিকার এখনো দাও না, আমি কি এতটাই নগন্য যে তোমার স্পর্শ পাওয়ার যোগ্যতা আমার নেই।
হাসিব আমার মুখে হাত চাপা দিয়ে ধরে ফেলে বলল, আর লজ্জিত কর না আমাকে, এখানে না, আমার বাসায় যাই সব হবে।

হাসিব নিধিকে তার বুকের উপর তুলে নিলো নিধি হাসিবের বুকের উপর ঘুমাচ্ছে, হাসিব একটা হাত আমার গলার নিচে দিয়ে আমাকে জড়িয়ে ধরলো। আমি তার আরেকটা হাতে আমার হাত রেখে ঘুমিয়ে গেলাম।

সকালে নাস্তা করে হাসিব আমাদেরকে নিয়ে তার বাসায় গেল, পল্লবীতে তার বাসা, বাসার ভিতরে অনেক সুন্দর, অনেক ফুল ফলের গাছ লাগানো চারদিকে। 
বাসার ভিতর ঢুকতেই হাসিবের আম্মু এসে নিধিকে কোলে নিলো, শ্বশুর শাশুড়ীকে সালাম করলাম, হাসিবের ভাবী হাসিবকে বলল, এমন মেয়ে বিয়ে করেছ পছন্দ করে, কি রুচি তোমার। 
হাসিব তার ভাবীকে বলল, আপনার গায়ের রঙ ফর্সা বলেই কি আপনি নিজেকে সুন্দরী ভাবেন, একবার ইসরাতের সাথে আয়নার সামনে গিয়ে দাঁড়িয়ে দেখেন কে সুন্দরী, ইসরাতের গায়ের রঙ আপনার চেয়ে একটু কালো কিন্তু ফেস আপনার চেয়ে সুন্দর।

আচ্ছা থাকো তোমার সুন্দরী বউ নিয়ে আর কখনো কিছু বলব না,  এই কথা বলে হাসিবের ভাবী রুমে চলে গেল।
ভালোই যাচ্ছে আমাদের সংসার, এখন আমার শ্বশুর শাশুড়ী আমার প্রতি দারুণ খুশী, কারণ আমি সংসারের দায়িত্বগুলো নিজ হাতে তুলে দিয়েছি। 
কাজের মেয়ে থাকা সত্বেও রান্না আমি করি, সকালে বিকালে চা করে দেই শ্বশুর শাশুড়ীকে তাদের সেবাযত্ন করি।
ভাবী কোনো কাজ করে না, খাবার সময় খায় আর সারাদিন টিভি দেখে মোবাইল নিয়ে পড়ে থাকে, তার একটা বেবি আছে ছয় বছর, নাম ইফাত, তার দেখাশোনা আমার শাশুড়ী করে। আমি যখন নিধিকে খাওয়াই তখন ইফাদকেও খাইয়ে দেয়, ইফাদ আমাকে ছোট আম্মু বলে ডাকে।

হাসিব সরকারি চাকরি পেয়েছে আইটি সেক্টরে, সে সংসারের সমস্ত খরচ দেয়, আগে আমার ভাসুর সব খরচ দিতো।
এখন আমার ভাসুর, শ্বশুরকে বলে, তোমার ছেলেকে বিদেশে লেখাপড়া করিয়ে ইঞ্জিনিয়ার বানাইছ, সে এখন, সরকারি চাকরি করে, অনেক ভালো বেতন পায়, তাকে বল সব খরচ চালাতে।

হাসিব তার বেতনের বেশির ভাগ টাকা তার বাবার হাতে তুলে দেয়, আর বাদবাকি টাকা আমার কাছে রাখে।
আমি টাকা আমার কাছে রাখতে চাইনি, হাসিব বলে আমার টাকা মানে তোমার টাকা, যখন ইচ্ছা করবে খরচ করবে।
সে বলেছে খরচ করতে, কিন্তু আমার খরচ করার প্রয়োজন পড়ে, না চাইতেই সবকিছু পেয়ে যাই।

আজ শুক্রবার ছুটির দিন, হাসিব আমাকে রেডি হতে বলল।
কেন জানতে চাইলাম,
সে বলল, নামাযের পর নুহাশ পল্লী ঘুরতে যাবে।
বিকালে নুহাশ পল্লীর উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিলাম, নিজেদের গাড়ি করে। সাথে ইফাদকে নিয়ে গেলাম।
নুহাশ পল্লী থেকে ঘুরে আসতে রাত আটটা বেজে গেছে, এসেই হাসিব বিছানায় শুয়ে পড়ল, নিধিও ঘুমিয়ে পড়ছে।
আমি শাড়ি চেঞ্জ করে আসতেই হাসিব আমাকে টান মেরে তার বুকের উপর নিয়ে নিলো, বললাম কি করছ দরজা লক করা হয়নি।
হাসিব বলল, তাতে কি আমার বউকে আমি আদর করব, কে আসবে আমার রুমে।
আমি জোর করে ছাড়িয়ে দরজা লক করে আসলাম।

চলবে,,,

গল্পটি আপনাদের কাছে কেমন লেগেছে অবশ্যই 
লাইক কমেন্ট করে জানাবেন