লক্ষ্য

24th January, 2024
67




একটি লক্ষ্য ঠিক করো। সেই লক্ষ্যকে নিজের জীবনের অংশ্ বানিয়ে ফেলো। চিন্তা করো, স্বপ্ন দেখো। তোমার মস্তিষ্ক, পেশী, রক্তনালী – পুরো শরীরে সেই লক্ষ্যকে ছড়িয়ে দাও, আর বাকি সবকিছু ভুলে যাও। এটাই সাফল্যের পথ।


আরো নিবন্ধন পড়ুন



সুলায়মান (আঃ)-এর হিকমতপূর্ণ বিচার ,, Wednesday, 31st January, 2024

আল্লাহর রাসূল (ছাঃ) বলেছেন, দু'জন মহিলা ছিল, তাদের সাথে দু'টি সন্তানও ছিল। হঠাৎ একটি বাঘ এসে তাদের একজনের ছেলেকে নিয়ে গেল। সঙ্গের একজন মহিলা বললো, 'তোমার ছেলেটিকেই বাঘে নিয়ে গেছে'। অন্য মহিলাটি বললো, 'না, বরং বাঘে তোমার ছেলেটি নিয়ে গেছে'। অতঃপর উভয়ে এ বিষয়ে দাউদ (আঃ)-এর নিকট বিরোধ মীমাংসার জন্য বিচারপ্রার্থী হলো। তখন তিনি ছেলেটির বিষয়ে বয়ষ্কা মহিলাটির পক্ষে রায় দিলেন। অতঃপর তারা উভয়ে বেরিয়ে দাউদ (আঃ)-এর পুত্র সুলায়মান (আঃ)-এর নিকট দিয়ে যেতে লাগলো এবং তারা দু'জনে তাঁকে ব্যাপারটি জানালেন। তখন তিনি লোকদেরকে বললেন, তোমরা আমার নিকট একখানা ছোরা নিয়ে আসো। আমি ছেলেটিকে দু'টুকরা করে তাদের দু'জনের মধ্যে ভাগ করে দেই। এ কথা শুনে অল্প বয়ষ্কা মহিলাটি বলে উঠলো, তা করবেন না, আল্লাহ আপনার উপর রহম করুন। ছেলেটি তারই। তখন তিনি ছেলেটি সম্পর্কে অল্প বয়ষ্কা মহিলাটির অনুকূলে রায় দিলেন (বুখারী হাদীস ৩৪২৭ 'নবীদের কাহিনী' অধ্যায়, অনুচ্ছেদ-৪০, মুসলিম হাদীস ১৭২০, মিশকাত হাদীস ৫৭১৯)।

শিক্ষা:

(১) সন্তানের প্রতি মায়ের ভালবাসা অপরিসীম।

(২) সুলায়মান (আঃ)-এর বিচক্ষণতা।

(৩) প্রজ্ঞা ও দূরদর্শিতা ন্যায়বিচারের পূর্বশর্ত।

মানবিক মূল্যবোধ মানুষের ভেতরের লক্ষণ নির্ধারণ করে থাকে- Thursday, 14th December, 2023

মানুষের লক্ষণ পর্যবেক্ষণঃ

যখন কেউ ভেতর থেকে কোনো কিছুর প্রতি আকৃষ্ট হয়। তখন সেই বিষয়ের সামান্য আবির্ভাবও তাকে সম্পূর্ণরূপে গ্রাস করে। যেই মুহুর্তে হালকা পানি পান করলে তার ভেতর দিয়ে কম্পণ অনুভূত হয় সম্পূর্ণ শরীরে। আর ততক্ষণ পর্যন্ত বিষয়টা তার মধ্যে বিরাজ করে। যতক্ষণ না সে কোনো কিছুর মধ্যে নিজেকে ব্যস্ত করছে। যেকোনো কিছুই সাধারণ। কিন্তু যেকোনো কিছুর প্রতি মানুষের বিবেচনার পর্যবেক্ষণে বাড়তে থাকা মূল্যবোধ তাকে আলাদাভাবে কারোর সবকিছু নির্ধারণ করায়। যার কারণে কোন বিষয়টা তার জন্য সঠিক। আর কোন বিষয়টা তার জন্য ভুল। তা সহজেই যেকোনো মানুষ তার পর্যবেক্ষণে নির্ধারণ করে জীবনে সামান্য জায়গা দিয়ে থাকে। সময়ের সাথে অনুভবের জায়গা থেকে সেইসব বিষয়ের পরিধি বাড়ে বা নির্মূল হয়।

কিছু সময় কোনো ব্যক্তি হালকা কোনো কিছুর প্রতি এতটাই জরিয়ে যায়। যখন সামান্য অনুভবে যেকোনো কিছু থেকে তার ভাঙা-গড়ার গল্পের শুরু হয়। যা হয়তো কারোর জীবনের শেষ অবধি চলতে থাকে। একটা মানুষ শুরু থেকে কখনোই চাইবে না যে, তার জন্য কেউ সামান্য কষ্ট অনুভব করুক। কিন্তু যখন সে বুঝতে পারবে, প্রত্যেকের জন্য আত্মত্যাগে তার মূল্যবোধের বিসর্জন হতে পারে। তখন হয়তো সেইসব ব্যক্তি জীবনের কঠিন সত্যগুলোর সাথে পরিচিত হবে। যখন কারোর প্রতি মূল্যায়ন আর নিজের জন্য মূল্যবোধ কাজ করবে। মানুষ নতুনত্বে আকৃষ্ট। তবে পুরোনো কিছু ভুলে গিয়ে নয়। সবকিছুই মানুষের মধ্যে বিরাজ করে। শুধু সময় সবকিছুর পুনঃনির্ধারণ করে থাকে। যেজন্য মানুষ নিজের জায়গায় ঠিক থাকে। কিন্তু প্রত্যেকটা পরিস্থিতিতে খাপ খাওয়াতে সময়ের সাথে সবাইকেই একটু বদলাতে হয়।

অনেক সময় দেখা যায় যে, কিছু মানুষ কোনো পরিস্থিতিতে তাকে মানাতে পারবে কিনা চিন্তা না করে, তার জীবনে বিষয়টার স্থায়ীত্বের সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলে। যেই বিষয়টা শুরুর দিকে ছোট মনে হলেও সময়ের সাথে তার কঠিনত্বতা কারোর জীবনকে দুর্বিসহ করে তোলে। যখন বিষয়টা বুঝলেও পূর্ব নির্ধারিত সিদ্ধান্তের মতো চাপ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয় না। যখন সময়ের সাথে বিষয়টার জটিলতা বাড়তে থাকে। তখন অনুভবের ভার সময়ের সাথে কারোর জীবনের চাপ বাড়িয়ে থাকে। যেজন্য ব্যক্তিগুলোর মধ্যে হালকাভাবে তিক্ততা তৈরি হয়। যখন কেউ নিজের মধ্যে থেকেও নিজেকে অনুভব করতে ভুলে যায়। তাই সময় থাকতে যেকোনো বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে নিজের দিকটা বিবেচনা করা উচিত। যাতে সামান্য ভুলের মাধ্যমে অন্যের আর নিজের জীবনকে অর্থহীনতায় ভোগান্তির শিকার না হতে হয়।

সিদ্ধান্ত নেওয়া ভুল নয়। তবে ভবিষ্যতে প্রতি সিদ্ধান্তের প্রভাব পূর্বেই বিবেচনা করা উচিত। যাতে সামান্য ভুলের কারণে সারা জীবনের ভোগান্তির শিকার না হতে হয়।

#responsibility Saturday, 06th January, 2024

Title: দায়িত্ব - আমাদের আলোকমুক্ত পথে

 

জীবনে সবাই এক সময়ে অনুভব করেছি, আমাদের দায়িত্বের গুরুত্ব। এটি একটি জটিল শব্দ, তবে এটি আমাদের জীবনে একটি অমূল্য মূল্য। দায়িত্ব হলো তার নিজের কাজ এবং আদর্শগুলির জন্য অবমাননা ছাড়াই কাজ করা।

 

দায়িত্ব নেওয়ার সাথে সাথে আমরা নিজেকে একটি শক্তিশালী ও দৃঢ় ব্যক্তি হিসেবে পুনর্নির্মাণ করতে পারি। এটি অনেকটা একটি বৃষ্টির মত, যা আসলে সৃষ্টি করে এবং সব কিছুকে তার পথে সাজায়। দায়িত্ববান হতে মানতে হয় যে, আমাদের নিজেকে আমাদের প্রতি এবং আমাদের সমাজে দায়িত্বশীলভাবে উপস্থাপন করতে হয়।

 

আমরা কখনও ওই সময়গুলি পাবো না, যখন সব কিছু সুস্থ এবং সহজ থাকবে, তবে দায়িত্ব হলো এমন একটি আলো যা সব অন্ধকারে আলোকিত করতে সক্ষম। এটি আমাদেরকে শক্তি এবং সাহস দেয় যেন আমরা সব বিপর্যয়ে উত্তরণ করতে পারি, যখন সবচেয়ে প্রয়োজন।

 

দায়িত্ব নেওয়ার আমাদের প্রতি একটি দারুণ দারুণ সুযোগ আছে আমাদের সমাজে এবং পরিবারে। এটি আমাদের কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি করে, আমাদের নিজেদের সাথে একত্রিত করে এবং একটি সামর্থ্যশালী সমাজ গড়ে তোলে। যখন আমরা অপার্থিব দায়িত্ব নিয়ে যাই, তখন আমরা স্বয়ংক্রিয়াশীল এবং অগ্রগতির দিকে মুখরুপ হয়।

 

দায়িত্বশীল জীবনের পথে চলতে, আমরা সবাইকে আমাদের প্রতিটি কর্মে সতর্ক থাকতে হবে, অন্যের প্রতি ভালোবাসা ও আদরের সাথে অবদান করতে হবে। আমরা সবাই এক সময়ে অল্প হয়ে থাকব, তবে আমাদের কাজের মাধ্যমে আমরা চিরকাল পর্যালোচনার মধ্যে থাকবো

মানুষের প্রকৃত স্বচ্ছতা তার জীবনের তিক্ততায়- Friday, 01st December, 2023

সংশোধনের মাত্রাঃ

সন্তুষ্টির মনোভাব কাউকে অল্পতেই সুখী করে। তখন তার পাওয়ার পরিমাণ বাড়লেও প্রকৃত ব্যক্তিদের অতিরিক্ত অংশ অর্পনের মাধ্যমে তার দায়ের পরিমাণ সবসময় সীমাবদ্ধ থাকে। যা তার মানসিক শান্তি বজায় রাখতে সহায়তা করে। জীবনের প্রতি দায় কখনোই নির্মূল করা সম্ভব নয়। কিন্তু দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে তা কিছুটা কমানো সম্ভব। জীবনের প্রত্যেকটা বিষয়ই এইরকম। যার কারনে কোনো কিছু নির্মূলের জায়গায় তা নিয়ন্ত্রণ করতে পারলে চাপমুক্ত জীবন উপভোগ করা যায়। সবকিছুই পরিবর্তনশীল। তাই সবসময় নিজের সীমাবদ্ধতা বজায় রেখে সঠিক পরিচালনা করতে পারলে, কোনো কিছুর পরিবর্তন তার জীবনকে প্রভাবিত করতে পারে না।

মানুষ তার সবচেয়ে কঠিন সিদ্ধান্তগুলো নিতে কখনোই কারোর সাহায্য নেয় না। কারণ সেই সিদ্ধান্তেই তার জীবনের সফলতা বা বিফলতা নির্ভর করে। তাই অনেকে নিজের ভুল মেনে নিতে পারলেও অন্যের মাধ্যমে তার জীবনের ভুলগুলো ভেতর থেকে কখনো মেনে নিতে পারে না। যাতে কারোর জন্য হেরে গিয়েও উপর থেকে সবকিছু মেনে নিতে হয়। বাস্তবতা কঠিন। কিন্তু নিজেকে বাস্তবতায় খাপ খাওয়ানো অসম্ভব নয়। চেষ্টায় মানুষ তার জীবনের জন্য সবকিছু অর্জন করতে পারে। কিন্তু কিছু ব্যক্তি অতিরিক্ত পাওয়ায় তার সঠিক মূল্যায়ন করতে অনেক সময় অসক্ষম রয়ে যায়। কারণ কিছু ব্যক্তির একটা সাধারণ প্রকৃতি হলো- অতিরিক্ত পাওয়ার পর সন্তুষ্ট হওয়ার জায়গায় চাওয়ার পরিমাণ বাড়তে থাকা। তখন জীবনের মূল্যায়নের অভাবে উপরে ওঠা তাদের উদ্দেশ্য হয়ে থাকে। যা তাকে শেষ পর্যায়ে সবকিছু থেকে এতটা দূরে নিয়ে যায়। যেখানে সে নিজের অস্তিত্বহীনতায় ভুগলেও কাউকে বিষয়টা বলতে পারে না।

জীবনের শুরুতে দ্বিধাগ্রস্ত হওয়া স্বাভাবিক। কিন্তু কঠিনের মাঝে সবকিছুর সহজলভ্যতা অর্জন করে নিতে হয়। যা সবকিছু সময়ের সাথে স্বাভাবিক করতে থাকে। মানুষ অসম্পূর্ণতায় পৃথিবীতে পদার্পণ করে। আর জীবনের পূর্ণতায় অনেকে তার পরিসমাপ্তি অনুভব করে থাকে। যা কিছু জীবনকে সবসময় অনুপ্রাণিত করে। সেই অনুভব থেকে কারোর মধ্যে উপলব্ধি তৈরি হয়। যা কাউকে অগ্রিমেও সীমাবদ্ধ রাখে। অনেক সময় দেখা যায় যে, সাধারণ কিছু জিনিস কারোর জীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। যা তাদেরকে যেকোনো কিছুর সামঞ্জস্যতা বজায় রাখতে সহায়তা করে।