ওয়েব সাইট এবং অ্যাপ ডেভলপমেন্ট

17th September, 2023
30




সেলফডিপেন্ড একটি সতন্ত্র ওয়েব এবং অ্যাপ ডেভলপমেন্ট প্রতিষ্ঠান। আমরা গ্রাহকের চাহিদা অনুযায়ী শর্ত সাপেক্ষে ওয়েব/অ্যাপ ডেভলপ করে থাকি এবং পরবর্তী আপডেট নিয়ে কাজ করি। আমাদের পরিসেবাগুলোর মধ্যে রয়েছে- 

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য ওয়েব সাইট, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের জন্য ওয়েব সাইট, নিউজ পোর্টাল জন্য ওয়েব সাইটমিডিয়া/অনলাইন টিভি, ই-কমার্স জন্য ওয়েব সাইটল্যান্ডিং ওয়েব সাইট, পার্সোনাল ওয়েব সাইট।


আরো নিবন্ধন পড়ুন



গল্পের নাম-ভাগ্য Sunday, 07th January, 2024

গল্পের নাম - ভাগ্য
পর্ব 

জামাই ইঞ্জিনিয়ার অনেক টাকা রোজকার করবে, হয়তো জামাইয়ের টাকায় বসে খেতে পারবে, সেই আশায় আমার মায়ের মুখ ঝলমল করছে।
আমার মা বাবার রুপ পাল্টে গিয়েছে, আমাকে আর নিধিকে কি আদর, কোল থেকে নিধিকে নামাতেই চায়না। 
মনে মনে ভাবি স্বার্থের জন্য মানুষ কতটা বদলে যেতে পারে। 

মা ইমাকে ফোন করে জানালো আমি বিদেশ থেকে আসছি, আর সবার জন্য অনেককিছু নিয়ে এসেছি। ইমা তার স্বামীকে নিয়ে চলে আসল, আমি তো জানতাম না ইমার বিয়ে হয়েছে, তাই তার বরের জন্য কিছু আনিনি। ইমার হাতে তিন হাজার টাকা দিয়ে বললাম তোর বরকে এই টাকা গুলো দিয়ে বল শপিং করতে, ইমা খুব খুশী তার বরকে শপিং করতে টাকা দিয়েছি বলে।

আপু শুনলাম দুলাভাই ইঞ্জিনিয়ার, আর দেখতেও বেশ সুন্দর, তোর তো সেই কপাল রে, ভালোই করেছিস আদিব শয়তানকে ছেড়ে দিয়ে, এখন তুই ইঞ্জিনিয়ারের বউ, দুলাভাই অনেক টাকা ইনকাম করবে, সব টাকা তোরই হবে, তুই চাইলে মা বাবাকে আমাদেরকে সাহায্য করতে পারবি।

এখন বলছিস আদিব শয়তান ছিল, আমি তোদেরকে কতবার বলেছি আদিব আমাকে অত্যাচার করে, তোরা কি বলছিল, ওইরকম অত্যাচার সব স্বামীরাই করে।
ইংল্যান্ড যাবার আগে মাকে বলছিলাম, আমি ইংল্যান্ড যাবো না, সেদিন মা আমাকে অনেক কথা শুনিয়েছে, মনে ত্যাগ দিয়ে আদিবের সাথে ইংল্যান্ড গিয়েছিলাম, ভাবছি বাঁচলে বাঁঁচব মরলে মরব।
আদিব আমাকে অন্য পুরুষের হাতে তুলে দিতে চেয়েছিল, আমি সেদিন পালিয়ে গিয়েছি, আমার ভাগ্য ভালো হাসিবের মত মানুষের সাথে দেখা হয়েছিল, সে আমাকে আশ্রয় না দিতে এতদিনে হয়তো মরে যেতাম নয়তো কোনো পতিতালয়ের বাসিন্দা হয়ে থাকতাম।
আর সাহায্যের কথা বলছিস, আমি কি করে সাহায্য করব, টাকা ইনকাম করবে হাসিব সে যদি চায় মা বাবাকে তোদেরকে সাহায্য করতে করবে।
তার আদেশ ব্যতীত আমি কিছু করব না, কারণ সে আমার কাছে অনেক মূল্যবান একজন মানুষ।

ইমার মুখ কালো হয়ে গেল আমার কথা শুনে, সে আর কিছু বলল না।
মিলি নিধিকে কোল থেকে নামাতেই চায়না, অনেক আদর করছে মিলি নিধিকে।
নিধি বারবার পাপ্পা যাবো পাপ্পা যাবো বলছে, ভাবছি হাসিবকে ফোন দেবো কি না, সে তো তার বাসায় আছে এখন কি ফোন দেওয়া উচিত হবে, কিন্তু এইদিকে নিধি আর জন্য কান্না করছে। 
তখনি হাসিব ফোন দিয়ে বলল, 

আমি কাল সকালে আসব তোমাদের নিয়ে যেতে,
নিধি কেমন আছে, খুব মিস করছি নিধিকে।

সে তোমার জন্য খুব কান্না করছে এখনো ঠিকমত না খেয়ে ঘুমাইছে।

আচ্ছা আমি এখনি আসছি,
এই কথা বলেই হাসিব ফোন রেখে দিলো, আমি বললাম এতো রাতে আসার দরকার নেই সকালেই এসো, সে আমার কথা শুনলো না।
আধা ঘণ্টা পর হাসিব এসে দরজায় নক করছে, মা গিয়ে দরজা খুলে দিয়ে জানতে চাইলো, জামাই তুমি এতো রাতে কোন সমস্যা হয়েছে কি।

হাসিব মাকে বলল, না মা কোন সমস্যা না, ইসরাত বলল, নিধি আজ সারাদিন আমার জন্য কাঁদছে, রাতেও ঠিকমত খায়নি, তাই চলে আসলাম, সকালে ইসরাতকে আমার বাসায় নিয়ে যাবো।

হাসিবের মেয়ের প্রতি এমন টান দেখে মা বাবা বেজায় খুশী, বাবা বলে, ভাগ্য করে এমন স্বামী পেয়েছি, যার স্ত্রীর প্রতি সন্তানের প্রতি এত ভালোবাসা, সে মানুষ হিসেবে অবশ্যই অনেক ভালো। 
হাসিবকে বললাম, তুমি কি পাগল এতরাতে কেন আসলে, আসার সময় আম্মা আব্বাকে বলে আসছ, না হলে তো সকালে তোমাকে রুমে না পেয়ে খুঁজবে।

আম্মু ঘুমিয়ে গিয়েছে, আব্বু টিভি দেখছিল, বললাম, আব্বু নিধি আমার জন্য কাঁদছে, আমি এখন নিধির কাছে যাচ্ছি সকালে তাদেরকে নিয়ে চলে আসবো। 
আব্বু বলেছিল, সকালে যেতে পারতি এতো রাতে না যেয়ে, আমি চলে আসলাম। 

হাসিবের কাছে জানতে চাইলাম, আম্মা আব্বা আমাকে মেনে নিলো, এটা তো আমার বিশ্বাস হচ্ছেনা। 

প্রথমে তো খুব রাগারাগি শুরু করে আব্বু পরে সব বুঝিয়ে বললাম, বলছি ভুল করে ফেলছি ক্ষমা করে দাও, নিধির পিক দেখালাম তোমার পিক দেখালাম।
নিধির পিক দেখে আম্মু আব্বু শান্ত হয়ে গেল, আম্মু আব্বুকে বলল, দেখো হাসিব কিন্তু ছোট বেলা দেখতে এমন ছিল, হাসিবের মেয়ে হাসিবের মত হয়েছে, আর রাগ করে কি হবে, ছেলের বউ আর নাতীকে মেনে নাও।
ভাইয়া ভাবী একটু প্রতিবাদ করেছিল, আব্বু ধমকে দিয়েছে, পরে আর তারা কিছু বলেনি, আব্বু বলেছে কাল তোমাদেরকে বাসায় নিয়ে যেতে।

হাসিবের বাসায় আমাকে মেনে নিতে রাজী হয়েছে শুনে আমার বুকের উপর থেকে একটা পাথর নেমে গেল, আমি ভেবে নিয়েছিলাম, হাসিবের মা বাবা আমাকে মেনে নিবেনা।
আজ প্রথম আমি হাসিব এক বিছানায় শুয়েছি, এখন থেকে এক বিছানায় থাকতে হবে, না হলে তো সবাই বলবে স্বামী স্ত্রী হয়ে কেন আমরা এক বিছানায় ঘুমাই না।
নিধি মাঝখানে আমি আর হাসিব দুইজন দুই পাশে, হাসিব বলল, ইসরাত তোমার মনে হয় সংকোচ লাগছে আমার সঙ্গে ঘুমাতে।
আজ রাতটা কোনমতে কাটিয়ে দাও আমার বাসায় গেলে একসঙ্গে থাকা লাগবে না, আমার রুমে সোফা আছে আমি সেখানেই ঘুমাবো, তুমি নিধিকে নিয়ে খাটে ঘুমাবে।

তুমি এতটাই সাধুপুরুষ নিজের স্ত্রীকে দূরে সরিয়ে রাখতে চাও, আমাকে কি তুমি ভালোবাসো না, কেন দূরে সরে থাকতে চাও, বিয়ে করছ কিন্তু স্ত্রীর অধিকার এখনো দাও না, আমি কি এতটাই নগন্য যে তোমার স্পর্শ পাওয়ার যোগ্যতা আমার নেই।
হাসিব আমার মুখে হাত চাপা দিয়ে ধরে ফেলে বলল, আর লজ্জিত কর না আমাকে, এখানে না, আমার বাসায় যাই সব হবে।

হাসিব নিধিকে তার বুকের উপর তুলে নিলো নিধি হাসিবের বুকের উপর ঘুমাচ্ছে, হাসিব একটা হাত আমার গলার নিচে দিয়ে আমাকে জড়িয়ে ধরলো। আমি তার আরেকটা হাতে আমার হাত রেখে ঘুমিয়ে গেলাম।

সকালে নাস্তা করে হাসিব আমাদেরকে নিয়ে তার বাসায় গেল, পল্লবীতে তার বাসা, বাসার ভিতরে অনেক সুন্দর, অনেক ফুল ফলের গাছ লাগানো চারদিকে। 
বাসার ভিতর ঢুকতেই হাসিবের আম্মু এসে নিধিকে কোলে নিলো, শ্বশুর শাশুড়ীকে সালাম করলাম, হাসিবের ভাবী হাসিবকে বলল, এমন মেয়ে বিয়ে করেছ পছন্দ করে, কি রুচি তোমার। 
হাসিব তার ভাবীকে বলল, আপনার গায়ের রঙ ফর্সা বলেই কি আপনি নিজেকে সুন্দরী ভাবেন, একবার ইসরাতের সাথে আয়নার সামনে গিয়ে দাঁড়িয়ে দেখেন কে সুন্দরী, ইসরাতের গায়ের রঙ আপনার চেয়ে একটু কালো কিন্তু ফেস আপনার চেয়ে সুন্দর।

আচ্ছা থাকো তোমার সুন্দরী বউ নিয়ে আর কখনো কিছু বলব না,  এই কথা বলে হাসিবের ভাবী রুমে চলে গেল।
ভালোই যাচ্ছে আমাদের সংসার, এখন আমার শ্বশুর শাশুড়ী আমার প্রতি দারুণ খুশী, কারণ আমি সংসারের দায়িত্বগুলো নিজ হাতে তুলে দিয়েছি। 
কাজের মেয়ে থাকা সত্বেও রান্না আমি করি, সকালে বিকালে চা করে দেই শ্বশুর শাশুড়ীকে তাদের সেবাযত্ন করি।
ভাবী কোনো কাজ করে না, খাবার সময় খায় আর সারাদিন টিভি দেখে মোবাইল নিয়ে পড়ে থাকে, তার একটা বেবি আছে ছয় বছর, নাম ইফাত, তার দেখাশোনা আমার শাশুড়ী করে। আমি যখন নিধিকে খাওয়াই তখন ইফাদকেও খাইয়ে দেয়, ইফাদ আমাকে ছোট আম্মু বলে ডাকে।

হাসিব সরকারি চাকরি পেয়েছে আইটি সেক্টরে, সে সংসারের সমস্ত খরচ দেয়, আগে আমার ভাসুর সব খরচ দিতো।
এখন আমার ভাসুর, শ্বশুরকে বলে, তোমার ছেলেকে বিদেশে লেখাপড়া করিয়ে ইঞ্জিনিয়ার বানাইছ, সে এখন, সরকারি চাকরি করে, অনেক ভালো বেতন পায়, তাকে বল সব খরচ চালাতে।

হাসিব তার বেতনের বেশির ভাগ টাকা তার বাবার হাতে তুলে দেয়, আর বাদবাকি টাকা আমার কাছে রাখে।
আমি টাকা আমার কাছে রাখতে চাইনি, হাসিব বলে আমার টাকা মানে তোমার টাকা, যখন ইচ্ছা করবে খরচ করবে।
সে বলেছে খরচ করতে, কিন্তু আমার খরচ করার প্রয়োজন পড়ে, না চাইতেই সবকিছু পেয়ে যাই।

আজ শুক্রবার ছুটির দিন, হাসিব আমাকে রেডি হতে বলল।
কেন জানতে চাইলাম,
সে বলল, নামাযের পর নুহাশ পল্লী ঘুরতে যাবে।
বিকালে নুহাশ পল্লীর উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিলাম, নিজেদের গাড়ি করে। সাথে ইফাদকে নিয়ে গেলাম।
নুহাশ পল্লী থেকে ঘুরে আসতে রাত আটটা বেজে গেছে, এসেই হাসিব বিছানায় শুয়ে পড়ল, নিধিও ঘুমিয়ে পড়ছে।
আমি শাড়ি চেঞ্জ করে আসতেই হাসিব আমাকে টান মেরে তার বুকের উপর নিয়ে নিলো, বললাম কি করছ দরজা লক করা হয়নি।
হাসিব বলল, তাতে কি আমার বউকে আমি আদর করব, কে আসবে আমার রুমে।
আমি জোর করে ছাড়িয়ে দরজা লক করে আসলাম।

চলবে,,,

গল্পটি আপনাদের কাছে কেমন লেগেছে অবশ্যই 
লাইক কমেন্ট করে জানাবেন

একটি করুণ প্রেমের গল্প............................. একটি সম্পর্ক শুধুমাত্র ভালোবাসার ওপর না বরং এটি নির্ভর করে একে অপরের মধ্যে বিশ্বাসের উপর..✨️???????????? Sunday, 07th January, 2024

আমাদের মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী নয়। সবার কাছে আমাদের একটাই অনুরোধ। আমাদের দেহগুলো দয়া করে কাটতে দেবেন না। পাশাপাশিই আমাদের কবর দেবেন। আর সবাই আমাদের ক্ষমা করে দেবেন। আমরা একজন আরেকজনকে ছাড়া বাঁচতে পারব না। তাই পৃথিবী ছেড়ে চলে গেলাম।.... বেঁচে থাকতে তো কেউ আমাদের এই সম্পর্ক মেনে নেবে না। বাবা-মায়ের অবাধ্য হয়ে তাদের মনেও কষ্ট দিতে পারব না। তাই এই পথ বেঁচে নিতে বাধ্য হলাম দুজন। ইতি: রমজান + সুখী।’

 পাঠক, এটি একটি সুইসাইড নোট। দুই তরুণ-তরুণীর আত্মহননের আগে এই চিরকুট লিখে গেছেন। চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার নোয়াপাড়ার চৌধুরীহাটে ১৯ সেপ্টেম্বর গভীর রাতে এ ঘটনা ঘটে। মৃত্যুর আগে অভিভাবকেরা তাঁদের সম্পর্ক মেনে না নিলেও পাশাপাশি হয়েছে শেষ আশ্রয়। বাড়ির পাশের পুকুরপাড়ে শুয়ে আছে এই জুটি। এখনো তাজা কবর। কবরে গুঁজে দেওয়া খেজুর গাছের ডাল দুটিও সতেজ।

 রমজান আলী (২০) ও সুখী আকতার (১৬)। চৌধুরীহাটের বারইপাড়া গ্রামে সামনাসামনি দুজনের বাড়ি। দূরত্ব বড়জোর ৫০ গজ। সম্পর্কে বেয়াই-বেয়াইনও (তালতো ভাই-তালতো বোন)। রমজান নোয়াপাড়া কলেজের উচ্চমাধ্যমিকের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র। সুখী নোয়াপাড়া মুসলিম উচ্চবিদ্যালয়ের দশম শ্রেণীর ছাত্রী। পাশাপাশি থাকার সুবাদে কাছাকাছি আসে একে অপরের। একসময় দুটি তরুণ মন স্বপ্ন দেখে ঘর বাঁধার। কিন্তু বাধা হয়ে দাঁড়ায় দুই পরিবারের দ্বন্দ্ব। এই দ্বন্দ্বও আরেকটি প্রেমের সম্পর্ক ঘিরে। তিন বছর আগে রমজানের বড় ভাই আজগর আর সুখীর বড় বোন লাকী ভালোবেসে বিয়ে করেছেন। এ সম্পর্ক এখনো মেনে নেয়নি দুই পরিবার। এই বিষয়টি বারবার ঘুরপাক খেতে থাকে দুজনের মাথায়। কী করবেন তাঁরা। পরিবার, না সম্পর্ক—এই টানাপোড়েনে মুষড়ে পড়েন রমজান ও সুখী। শেষ পর্যন্ত জীবনকে ছুটি দিয়ে দিলেন এই দুই তরুণ-তরুণী। মরণেও দুজন দুজনকে ছাড়া ভাবতে পারেননি কোনো কিছু। সেখানেও সহমরণ। সুখীদের বাড়ির পেছনের পুকুরপাড়ে একটি জামগাছের ডালে ফাঁসিতে ঝুলে আত্মহত্যা করেন দুজন একসঙ্গে। একে অপরকে কোমরে বাঁধা অবস্থায় পাওয়া যায় তাঁদের মরদেহ। নিশ্চিত হওয়া গেছে, সুইসাইড নোটটি সুখীর হাতের লেখা।

 গত মঙ্গলবার চৌধুরীহাটে সুখীদের বাড়িতে গিয়ে দেখা গেছে, ঘরের দাওয়ায় বসে আছেন মা জোবেদা খাতুন। মুখে কথা নেই। শুধু এদিক-ওদিক তাকাচ্ছেন। মেয়ের জন্য এখনো বিলাপ করে চলেছেন বাবা মোহাম্মদ ইদ্রিস। বাড়ির ভেতরে সুখীর কক্ষে পড়ার টেবিলে থরে থরে সাজানো পাঠ্যবই রসায়ন, বাংলা...। খাতাও পড়ে আছে টেবিলের ওপর। শুধু সুখী নেই।

 তিন ভাই তিন বোনের মধ্যে সবার ছোট সুখী। ভাইদের বড় আদরের ছিল সে। বোনের মৃত্যুসংবাদ শুনে ওমানের মাসকাটে থাকা দুই ভাই ছুটে এসেছেন এক নজর শেষ দেখা দেখতে। ভাইদের জন্য মরদেহের গাড়িতে লাশ রেখে দেওয়া হয় দুদিন। তাঁরা আসার পর দাফন করা হয়।

 বাবা ইদ্রিস বলেন, ‘আমরা ঘুণাক্ষরেও টের পাইনি ও (সুখী) এ কাজ করবে। শান্তশিষ্ট, পড়ালেখায়ও ছিল ভালো। ছেলেটিও (রমজান) ছিল শান্ত। আমাদের মাথায় ছিল না তারা দুজন এমন করবে।’ মাসকাট থেকে আসা সুখীর ভাই মোহাম্মদ হাসান বলেন, ‘আমাদের ইচ্ছা ছিল তাঁকে ডাক্তারি পড়াব। এখন সব শেষ।’ রমজানের বাড়িতেও শোকের মাতম। ছয় ভাই একবোনের সবার ছোট রমজান। তিনি চলে গেলেন সবার আগে। বাবা সালেহ আহমেদ থাকেন সৌদি আরবে। ছেলের মৃত্যুসংবাদ শুনে তিনিও মুষড়ে পড়েছেন।

 এ ঘটনা মানতে পারছেন না সুখীর বিদ্যালয়ের শিক্ষকেরাও। কথা বলার সময় শ্রেণী শিক্ষক ফণী ধর দাশের গলা ধরে আসছিল। বললেন, ‘সে ষষ্ঠ শ্রেণী থেকে নবম শ্রেণী পর্যন্ত প্রথম অথবা দ্বিতীয় হয়ে এসেছে। কিন্তু নবম শ্রেণীর শেষ দিকে এসে সে প্রায়ই বিষণ্ন থাকত। যার প্রভাব পড়ে বার্ষিক পরীক্ষার ফলাফলে। রোল নম্বর হয় ১১। আমি নানাভাবে তার কাছ থেকে জানার চেষ্টা করেছি কি হয়েছে। কিন্তু কিছু বলেনি।’

 বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জিয়া উদ্দিন বলেন, ‘এ ঘটনার পর আমরা প্রতিটি শ্রেণীতে কাউন্সেলিং করেছি। শিক্ষার্থীদের বলেছি, এ ধরনের ঘটনা হলে পারিবারে বলতে না পারলেও যেন শিক্ষককে জানায়। আর অভিভাবকদেরও সচেতন হতে হবে।’ রমজানের বন্ধুরা জানান, তিনি প্রায় সময় তাঁদের সম্পর্ক নিয়ে হতাশ থাকত। বলত, ‘দেখিস, একদিন সব ছেড়ে চলে যাব।’ এ যাওয়া যে শেষ যাওয়া হবে, তা বোঝেননি বন্ধুরাও।
    

নতুন বছর শুরু হোক ঈমান ও আমলের সাথে Saturday, 06th January, 2024

 

 

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু!

 

একটি সতর্কতা: আমাদের জীবনটি হয়তো একটি পরীক্ষা, কিন্তু আল্লাহর সাথে আমাদের সম্পর্ক একটি অসীম সৌভাগ্য। তাই, সবসময় আল্লাহর দিকে মুখ তোলুন এবং তার নিকটে সান্ত্বনা ও সুরক্ষা অনুভব করুন।

 

কোনও পরিস্থিতিতেই, "ইন আল্লাহি মা আশোব" - আল্লাহ তার করুণার বাণীতে আমরা ভরসা রাখি। কখনওই আপনি একা নয়ে যাচ্ছেন না, আল্লাহ সব সময় আপনার সাথে আছেন।

 

ইসলাম আমাদেরকে দিচ্ছে একটি দিকে চলতে, আল্লাহর ইচ্ছামতো জীবন করতে। হাদীসে আছে, "যত সময় তোমার দিতে হবে তুমি এবং যত সময় তোমার বসতি থাকতে হবে, তাতে আল্লাহ তোমার জন্য সবচেয়ে উত্তম কাজটি চায়ে।"

 

তাই, আমরা সবসময় আল্লাহর ইচ্ছামতো জীবন চাইতে পারি। হাসতে এবং দু: খিত হতে, কিন্তু শোক এবং সোঁচ বজায় থাকতে চাইব না।

 

আমরা একটি বিশেষ সময়ে আছি, যেটি আমাদের পূর্ণাঙ্গ প্রতিকূলিত হতে সহায় করতে পারে। প্রতিটি দোয়া শোনানো এবং সততা, করুণা, এবং সহানুভূতির প্রতি আমাদের অবলম্বন থাকতে হবে।

 

এই সময়ে, আমরা আপনাদের সবাইকে শান্তি এবং সুখের সাথে একটি আনন্দময় জীবনের প্রকাশ করতে অনুরোধ করছি। আল্লাহ সবাইকে আপনার বান্ধব সাথে আত্মীয়তা এবং প্রেমে আবৃদ্ধি করুক।

 

আপনাদের সবাইকে আল্লাহর কয়েকটি অমূল্য সুবিধা এবং অমূল্য সময় প্রদান করুক। ইসলামে আপনার জীবন পরিবর্তন হতে পারে এবং তাদের প্রবল দোয়া এবং ইমানের মাধ্যমে আপনি আপনার লক্ষ্যে অগ্রগতি করতে

 

অনুরোধ করছি। আল্লাহ সবাইকে আপনার বান্ধব সাথে আত্মীয়তা এবং প্রেমে আবৃদ্ধি করুক।

 

আপনাদের সবাইকে আল্লাহর কয়েকটি অমূল্য সুবিধা এবং অমূল্য সময় প্রদান করুক। ইসলামে আপনার জীবন পরিবর্তন হতে পারে এবং তাদের প্রবল দোয়া এবং ইমানের মাধ্যমে আপনি আপনার লক্ষ্যে অগ্রগতি করতে সাহায্য করতে পারে।

 

আল্লাহর কাছে আমাদের সবচেয়ে বড় হরফ হলো "তাওবা" - পশ্চাত্তাপ এবং মানবিক উন্নতির দিকে এগিয়ে যাওয়া। যে কোনও ভুল করলে, তাওবা করুন এবং আল্লাহর কাছে মুক্তি এবং ক্ষমা প্রাপ্ত করুন।

 

এই নতুন বছরে, আল্লাহ আপনাদের জীবনকে সমৃদ্ধি, শান্তি, এবং সুস্থতা দান করুক। আমাদের প্রতিটি পদক্ষেপই আল্লাহর ইচ্ছামতো হোক এবং তিনি আপনাদেরকে সব ভালোবাসুক।

 

শুভ নববর্ষ! ????✨????

সমাজের বিপরীত প্রতিক্রিয়ায় নিজেকে পরিবর্তনের সময়- Thursday, 09th November, 2023

জীবনের ইতিহাসঃ

দিনের সূর্যহীন হালকা আলোয় নিস্তব্ধ প্রকৃতি তোমার পরিভাষা তৈরি করবে। যদি তুমি শান্তিপূর্ণ মানুষ হও। সমাজ মানুষকে চলতে শেখায়। আর প্রকৃতি মানুষকে বাঁচতে শেখায়। পার্থক্য হচ্ছে সমাজ মানুষকে ঠিকিয়ে শেখায়। আর প্রকৃতি মানুষকে ভালোবেসে শেখায়। প্রত্যেকের জীবনেই কিছু বিশেষ মূহুর্ত থাকে। যা তাকে অনুভব করা শেখায়। প্রত্যেকের জীবনের ভিন্নতায় অনুভবের ধরন আলাদা হলেও বিষয়টা মন থেকে আসে। যার গভীরত্ব কাউকে সবসময় রূপান্তর করতে থাকে।

কিছু মানুষের দোষে পরিস্থিতি আর সমাজকে সবাই দোষারোপ করতে থাকে। যার কারণে ক্ষণিকেই ব্যক্তিটা তার কৃতকর্মগুলো ভুলে গিয়ে, নতুন করে ভুল করতে থাকে। পরবর্তীতে তার ভুলগুলো বিস্তারিত রূপ ধারণ করতে থাকে। যার লাগাম না টানলে সে শোধরানোর জায়গায় বেশি বিগড়াতে থাকে। এইজন্য শুরু থেকেই ভুলগুলো বোঝার গুরুত্ব অনেকটা বেশি। কেউ শুরুতে হয়তো ইচ্ছা করে ভুল করে না। কিন্তু কাউকে ভুলগুলো না বোঝালে সঠিকটা সবসময় তার অজানা থেকে যায়। বর্তমানে হয়তো কেউ কাউকে বোঝায় না। সময় সাপেক্ষে সবাইকেই সবকিছু তার নিজের মতো করে বুঝে নিতে হয়। যার কারণে সবাই কাছাকাছি থেকেও দুরত্ব অনেক বেশি।

অনেক সময় কিছু পরিস্থিতি চাইলেও নিজের মতো করে গড়া যায় না। কারণ কিছু জিনিস অনুভবেই সুন্দর, বাস্তবে জটিল। এইরকম অল্প কিছু কারনে বাস্তবে চলতে পারলেও অনুভবের কোনো কিছুর বাস্তবায়ন থমকে যায়। যার কারণে বাস্তবতা বাস্তবায়নে আর অনুভূতি অনুভবেই সুন্দর। প্রিয় মুহুর্তগুলো বর্তমানে পুরোনো দিন হিসেবে বিবেচনা করা হয়। যা কাউকে প্রশান্তি অনুভব করানোর জায়গায় অস্বস্তি অনুভব করায়। মানুষ স্বার্থপর না। কারণ সময়ের সাথে সবাই নিজেকে গোছাতে শিখে গেছে। যার কারণে একজন আরেকজনের জন্য নয়, প্রত্যেকে নিজের জন্য বাঁচাতে চেষ্টা করে।

তোমার ভালো-খারাপ কখনো কাউকে প্রকাশ করতে যাবা না। কারণ প্রকাশ্যের চেয়ে অপ্রকাশ্যের সুবিধা অনেক। তখন চাইলে কেউ তোমার সাহায্য নিতে পারবে। কিন্তু তোমার সুযোগ নিতে পারবে না। প্রত্যেকেই সুবিধাবাদী, যার কারণে নিজেকে আড়ালে রাখা ভালো। কেউ যখন কোলাহলের চেয়ে শান্তিপূর্ণ জীবন পছন্দ করবে। তখন তার জীবনে কোলাহলের স্থায়িত্ব তাকে একসময় অন্তর্মুখী করবে। যার কারনে কোনো কিছুর পিছুটানের জায়গায় জীবনের প্রতি স্বস্তির নিঃশ্বাস তাকে অনুভব করাবে বেশি। কোনো কিছুর ভালোর জন্য নিজের আত্মত্যাগের জায়গায় বিষয়টাকেই জীবন থেকে ত্যাগ করা ভালো। কারণ তুমি তোমার জন্য। তাই একবার নিজেকে হারিয়ে ফেললে পূর্বের ন্যায় কোনো কিছু ফিরে পেলেও ভেতর থেকে অনুভব হারিয়ে যাবে। যার কারণে বেঁচে থেকেও তুমি মৃতপ্রায় অবস্থায় নিঃশেষে বিভাজ্য হতে থাকবা।

প্রত্যেকটা বিষয়ের ভালো-খারাপ নিয়েই জীবন। ভালো থাকতে গেলে যেকোনো বিষয়ে ত্যাগ করে মানায় নেওয়া প্রয়োজন। কারণ যেকোনো বিষয় মানায় নেওয়ার মাধ্যমে নিজেকে ধৈর্য্যশীল রাখতে পারবা। আর কোনো কিছুর ত্যাগ তোমাকে পরিবর্তন করবে। যা তোমাকে সমাজের পরিবর্তিত রূপ দেখাবে।