আরো নিবন্ধন পড়ুন



নতুন বছর শুরু হোক ঈমান ও আমলের সাথে Saturday, 06th January, 2024

 

 

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু!

 

একটি সতর্কতা: আমাদের জীবনটি হয়তো একটি পরীক্ষা, কিন্তু আল্লাহর সাথে আমাদের সম্পর্ক একটি অসীম সৌভাগ্য। তাই, সবসময় আল্লাহর দিকে মুখ তোলুন এবং তার নিকটে সান্ত্বনা ও সুরক্ষা অনুভব করুন।

 

কোনও পরিস্থিতিতেই, "ইন আল্লাহি মা আশোব" - আল্লাহ তার করুণার বাণীতে আমরা ভরসা রাখি। কখনওই আপনি একা নয়ে যাচ্ছেন না, আল্লাহ সব সময় আপনার সাথে আছেন।

 

ইসলাম আমাদেরকে দিচ্ছে একটি দিকে চলতে, আল্লাহর ইচ্ছামতো জীবন করতে। হাদীসে আছে, "যত সময় তোমার দিতে হবে তুমি এবং যত সময় তোমার বসতি থাকতে হবে, তাতে আল্লাহ তোমার জন্য সবচেয়ে উত্তম কাজটি চায়ে।"

 

তাই, আমরা সবসময় আল্লাহর ইচ্ছামতো জীবন চাইতে পারি। হাসতে এবং দু: খিত হতে, কিন্তু শোক এবং সোঁচ বজায় থাকতে চাইব না।

 

আমরা একটি বিশেষ সময়ে আছি, যেটি আমাদের পূর্ণাঙ্গ প্রতিকূলিত হতে সহায় করতে পারে। প্রতিটি দোয়া শোনানো এবং সততা, করুণা, এবং সহানুভূতির প্রতি আমাদের অবলম্বন থাকতে হবে।

 

এই সময়ে, আমরা আপনাদের সবাইকে শান্তি এবং সুখের সাথে একটি আনন্দময় জীবনের প্রকাশ করতে অনুরোধ করছি। আল্লাহ সবাইকে আপনার বান্ধব সাথে আত্মীয়তা এবং প্রেমে আবৃদ্ধি করুক।

 

আপনাদের সবাইকে আল্লাহর কয়েকটি অমূল্য সুবিধা এবং অমূল্য সময় প্রদান করুক। ইসলামে আপনার জীবন পরিবর্তন হতে পারে এবং তাদের প্রবল দোয়া এবং ইমানের মাধ্যমে আপনি আপনার লক্ষ্যে অগ্রগতি করতে

 

অনুরোধ করছি। আল্লাহ সবাইকে আপনার বান্ধব সাথে আত্মীয়তা এবং প্রেমে আবৃদ্ধি করুক।

 

আপনাদের সবাইকে আল্লাহর কয়েকটি অমূল্য সুবিধা এবং অমূল্য সময় প্রদান করুক। ইসলামে আপনার জীবন পরিবর্তন হতে পারে এবং তাদের প্রবল দোয়া এবং ইমানের মাধ্যমে আপনি আপনার লক্ষ্যে অগ্রগতি করতে সাহায্য করতে পারে।

 

আল্লাহর কাছে আমাদের সবচেয়ে বড় হরফ হলো "তাওবা" - পশ্চাত্তাপ এবং মানবিক উন্নতির দিকে এগিয়ে যাওয়া। যে কোনও ভুল করলে, তাওবা করুন এবং আল্লাহর কাছে মুক্তি এবং ক্ষমা প্রাপ্ত করুন।

 

এই নতুন বছরে, আল্লাহ আপনাদের জীবনকে সমৃদ্ধি, শান্তি, এবং সুস্থতা দান করুক। আমাদের প্রতিটি পদক্ষেপই আল্লাহর ইচ্ছামতো হোক এবং তিনি আপনাদেরকে সব ভালোবাসুক।

 

শুভ নববর্ষ! ????✨????

গল্পের নাম-ভাগ্য Sunday, 07th January, 2024

গল্পের নাম - ভাগ্য
পর্ব 

জামাই ইঞ্জিনিয়ার অনেক টাকা রোজকার করবে, হয়তো জামাইয়ের টাকায় বসে খেতে পারবে, সেই আশায় আমার মায়ের মুখ ঝলমল করছে।
আমার মা বাবার রুপ পাল্টে গিয়েছে, আমাকে আর নিধিকে কি আদর, কোল থেকে নিধিকে নামাতেই চায়না। 
মনে মনে ভাবি স্বার্থের জন্য মানুষ কতটা বদলে যেতে পারে। 

মা ইমাকে ফোন করে জানালো আমি বিদেশ থেকে আসছি, আর সবার জন্য অনেককিছু নিয়ে এসেছি। ইমা তার স্বামীকে নিয়ে চলে আসল, আমি তো জানতাম না ইমার বিয়ে হয়েছে, তাই তার বরের জন্য কিছু আনিনি। ইমার হাতে তিন হাজার টাকা দিয়ে বললাম তোর বরকে এই টাকা গুলো দিয়ে বল শপিং করতে, ইমা খুব খুশী তার বরকে শপিং করতে টাকা দিয়েছি বলে।

আপু শুনলাম দুলাভাই ইঞ্জিনিয়ার, আর দেখতেও বেশ সুন্দর, তোর তো সেই কপাল রে, ভালোই করেছিস আদিব শয়তানকে ছেড়ে দিয়ে, এখন তুই ইঞ্জিনিয়ারের বউ, দুলাভাই অনেক টাকা ইনকাম করবে, সব টাকা তোরই হবে, তুই চাইলে মা বাবাকে আমাদেরকে সাহায্য করতে পারবি।

এখন বলছিস আদিব শয়তান ছিল, আমি তোদেরকে কতবার বলেছি আদিব আমাকে অত্যাচার করে, তোরা কি বলছিল, ওইরকম অত্যাচার সব স্বামীরাই করে।
ইংল্যান্ড যাবার আগে মাকে বলছিলাম, আমি ইংল্যান্ড যাবো না, সেদিন মা আমাকে অনেক কথা শুনিয়েছে, মনে ত্যাগ দিয়ে আদিবের সাথে ইংল্যান্ড গিয়েছিলাম, ভাবছি বাঁচলে বাঁঁচব মরলে মরব।
আদিব আমাকে অন্য পুরুষের হাতে তুলে দিতে চেয়েছিল, আমি সেদিন পালিয়ে গিয়েছি, আমার ভাগ্য ভালো হাসিবের মত মানুষের সাথে দেখা হয়েছিল, সে আমাকে আশ্রয় না দিতে এতদিনে হয়তো মরে যেতাম নয়তো কোনো পতিতালয়ের বাসিন্দা হয়ে থাকতাম।
আর সাহায্যের কথা বলছিস, আমি কি করে সাহায্য করব, টাকা ইনকাম করবে হাসিব সে যদি চায় মা বাবাকে তোদেরকে সাহায্য করতে করবে।
তার আদেশ ব্যতীত আমি কিছু করব না, কারণ সে আমার কাছে অনেক মূল্যবান একজন মানুষ।

ইমার মুখ কালো হয়ে গেল আমার কথা শুনে, সে আর কিছু বলল না।
মিলি নিধিকে কোল থেকে নামাতেই চায়না, অনেক আদর করছে মিলি নিধিকে।
নিধি বারবার পাপ্পা যাবো পাপ্পা যাবো বলছে, ভাবছি হাসিবকে ফোন দেবো কি না, সে তো তার বাসায় আছে এখন কি ফোন দেওয়া উচিত হবে, কিন্তু এইদিকে নিধি আর জন্য কান্না করছে। 
তখনি হাসিব ফোন দিয়ে বলল, 

আমি কাল সকালে আসব তোমাদের নিয়ে যেতে,
নিধি কেমন আছে, খুব মিস করছি নিধিকে।

সে তোমার জন্য খুব কান্না করছে এখনো ঠিকমত না খেয়ে ঘুমাইছে।

আচ্ছা আমি এখনি আসছি,
এই কথা বলেই হাসিব ফোন রেখে দিলো, আমি বললাম এতো রাতে আসার দরকার নেই সকালেই এসো, সে আমার কথা শুনলো না।
আধা ঘণ্টা পর হাসিব এসে দরজায় নক করছে, মা গিয়ে দরজা খুলে দিয়ে জানতে চাইলো, জামাই তুমি এতো রাতে কোন সমস্যা হয়েছে কি।

হাসিব মাকে বলল, না মা কোন সমস্যা না, ইসরাত বলল, নিধি আজ সারাদিন আমার জন্য কাঁদছে, রাতেও ঠিকমত খায়নি, তাই চলে আসলাম, সকালে ইসরাতকে আমার বাসায় নিয়ে যাবো।

হাসিবের মেয়ের প্রতি এমন টান দেখে মা বাবা বেজায় খুশী, বাবা বলে, ভাগ্য করে এমন স্বামী পেয়েছি, যার স্ত্রীর প্রতি সন্তানের প্রতি এত ভালোবাসা, সে মানুষ হিসেবে অবশ্যই অনেক ভালো। 
হাসিবকে বললাম, তুমি কি পাগল এতরাতে কেন আসলে, আসার সময় আম্মা আব্বাকে বলে আসছ, না হলে তো সকালে তোমাকে রুমে না পেয়ে খুঁজবে।

আম্মু ঘুমিয়ে গিয়েছে, আব্বু টিভি দেখছিল, বললাম, আব্বু নিধি আমার জন্য কাঁদছে, আমি এখন নিধির কাছে যাচ্ছি সকালে তাদেরকে নিয়ে চলে আসবো। 
আব্বু বলেছিল, সকালে যেতে পারতি এতো রাতে না যেয়ে, আমি চলে আসলাম। 

হাসিবের কাছে জানতে চাইলাম, আম্মা আব্বা আমাকে মেনে নিলো, এটা তো আমার বিশ্বাস হচ্ছেনা। 

প্রথমে তো খুব রাগারাগি শুরু করে আব্বু পরে সব বুঝিয়ে বললাম, বলছি ভুল করে ফেলছি ক্ষমা করে দাও, নিধির পিক দেখালাম তোমার পিক দেখালাম।
নিধির পিক দেখে আম্মু আব্বু শান্ত হয়ে গেল, আম্মু আব্বুকে বলল, দেখো হাসিব কিন্তু ছোট বেলা দেখতে এমন ছিল, হাসিবের মেয়ে হাসিবের মত হয়েছে, আর রাগ করে কি হবে, ছেলের বউ আর নাতীকে মেনে নাও।
ভাইয়া ভাবী একটু প্রতিবাদ করেছিল, আব্বু ধমকে দিয়েছে, পরে আর তারা কিছু বলেনি, আব্বু বলেছে কাল তোমাদেরকে বাসায় নিয়ে যেতে।

হাসিবের বাসায় আমাকে মেনে নিতে রাজী হয়েছে শুনে আমার বুকের উপর থেকে একটা পাথর নেমে গেল, আমি ভেবে নিয়েছিলাম, হাসিবের মা বাবা আমাকে মেনে নিবেনা।
আজ প্রথম আমি হাসিব এক বিছানায় শুয়েছি, এখন থেকে এক বিছানায় থাকতে হবে, না হলে তো সবাই বলবে স্বামী স্ত্রী হয়ে কেন আমরা এক বিছানায় ঘুমাই না।
নিধি মাঝখানে আমি আর হাসিব দুইজন দুই পাশে, হাসিব বলল, ইসরাত তোমার মনে হয় সংকোচ লাগছে আমার সঙ্গে ঘুমাতে।
আজ রাতটা কোনমতে কাটিয়ে দাও আমার বাসায় গেলে একসঙ্গে থাকা লাগবে না, আমার রুমে সোফা আছে আমি সেখানেই ঘুমাবো, তুমি নিধিকে নিয়ে খাটে ঘুমাবে।

তুমি এতটাই সাধুপুরুষ নিজের স্ত্রীকে দূরে সরিয়ে রাখতে চাও, আমাকে কি তুমি ভালোবাসো না, কেন দূরে সরে থাকতে চাও, বিয়ে করছ কিন্তু স্ত্রীর অধিকার এখনো দাও না, আমি কি এতটাই নগন্য যে তোমার স্পর্শ পাওয়ার যোগ্যতা আমার নেই।
হাসিব আমার মুখে হাত চাপা দিয়ে ধরে ফেলে বলল, আর লজ্জিত কর না আমাকে, এখানে না, আমার বাসায় যাই সব হবে।

হাসিব নিধিকে তার বুকের উপর তুলে নিলো নিধি হাসিবের বুকের উপর ঘুমাচ্ছে, হাসিব একটা হাত আমার গলার নিচে দিয়ে আমাকে জড়িয়ে ধরলো। আমি তার আরেকটা হাতে আমার হাত রেখে ঘুমিয়ে গেলাম।

সকালে নাস্তা করে হাসিব আমাদেরকে নিয়ে তার বাসায় গেল, পল্লবীতে তার বাসা, বাসার ভিতরে অনেক সুন্দর, অনেক ফুল ফলের গাছ লাগানো চারদিকে। 
বাসার ভিতর ঢুকতেই হাসিবের আম্মু এসে নিধিকে কোলে নিলো, শ্বশুর শাশুড়ীকে সালাম করলাম, হাসিবের ভাবী হাসিবকে বলল, এমন মেয়ে বিয়ে করেছ পছন্দ করে, কি রুচি তোমার। 
হাসিব তার ভাবীকে বলল, আপনার গায়ের রঙ ফর্সা বলেই কি আপনি নিজেকে সুন্দরী ভাবেন, একবার ইসরাতের সাথে আয়নার সামনে গিয়ে দাঁড়িয়ে দেখেন কে সুন্দরী, ইসরাতের গায়ের রঙ আপনার চেয়ে একটু কালো কিন্তু ফেস আপনার চেয়ে সুন্দর।

আচ্ছা থাকো তোমার সুন্দরী বউ নিয়ে আর কখনো কিছু বলব না,  এই কথা বলে হাসিবের ভাবী রুমে চলে গেল।
ভালোই যাচ্ছে আমাদের সংসার, এখন আমার শ্বশুর শাশুড়ী আমার প্রতি দারুণ খুশী, কারণ আমি সংসারের দায়িত্বগুলো নিজ হাতে তুলে দিয়েছি। 
কাজের মেয়ে থাকা সত্বেও রান্না আমি করি, সকালে বিকালে চা করে দেই শ্বশুর শাশুড়ীকে তাদের সেবাযত্ন করি।
ভাবী কোনো কাজ করে না, খাবার সময় খায় আর সারাদিন টিভি দেখে মোবাইল নিয়ে পড়ে থাকে, তার একটা বেবি আছে ছয় বছর, নাম ইফাত, তার দেখাশোনা আমার শাশুড়ী করে। আমি যখন নিধিকে খাওয়াই তখন ইফাদকেও খাইয়ে দেয়, ইফাদ আমাকে ছোট আম্মু বলে ডাকে।

হাসিব সরকারি চাকরি পেয়েছে আইটি সেক্টরে, সে সংসারের সমস্ত খরচ দেয়, আগে আমার ভাসুর সব খরচ দিতো।
এখন আমার ভাসুর, শ্বশুরকে বলে, তোমার ছেলেকে বিদেশে লেখাপড়া করিয়ে ইঞ্জিনিয়ার বানাইছ, সে এখন, সরকারি চাকরি করে, অনেক ভালো বেতন পায়, তাকে বল সব খরচ চালাতে।

হাসিব তার বেতনের বেশির ভাগ টাকা তার বাবার হাতে তুলে দেয়, আর বাদবাকি টাকা আমার কাছে রাখে।
আমি টাকা আমার কাছে রাখতে চাইনি, হাসিব বলে আমার টাকা মানে তোমার টাকা, যখন ইচ্ছা করবে খরচ করবে।
সে বলেছে খরচ করতে, কিন্তু আমার খরচ করার প্রয়োজন পড়ে, না চাইতেই সবকিছু পেয়ে যাই।

আজ শুক্রবার ছুটির দিন, হাসিব আমাকে রেডি হতে বলল।
কেন জানতে চাইলাম,
সে বলল, নামাযের পর নুহাশ পল্লী ঘুরতে যাবে।
বিকালে নুহাশ পল্লীর উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিলাম, নিজেদের গাড়ি করে। সাথে ইফাদকে নিয়ে গেলাম।
নুহাশ পল্লী থেকে ঘুরে আসতে রাত আটটা বেজে গেছে, এসেই হাসিব বিছানায় শুয়ে পড়ল, নিধিও ঘুমিয়ে পড়ছে।
আমি শাড়ি চেঞ্জ করে আসতেই হাসিব আমাকে টান মেরে তার বুকের উপর নিয়ে নিলো, বললাম কি করছ দরজা লক করা হয়নি।
হাসিব বলল, তাতে কি আমার বউকে আমি আদর করব, কে আসবে আমার রুমে।
আমি জোর করে ছাড়িয়ে দরজা লক করে আসলাম।

চলবে,,,

গল্পটি আপনাদের কাছে কেমন লেগেছে অবশ্যই 
লাইক কমেন্ট করে জানাবেন

পৃথিবীর যত সুখ..............,...... Sunday, 07th January, 2024

অ্যাই, শুনছো? অ্যাই! ঘুম ভাঙছে না বুঝি?

নীলার কানের কাছে প্রায় ফিসফিস

করে পাঁচ মিনিট ধরে ডেকে যাচ্ছে অনিক।

কিন্তু ভালোবাসা মাখা সেই ডাক যেন

কানেই যাচ্ছে না নীলার।

শরীরটা ভালো না তার। তাই হঠাৎ

করে তাকে ডেকে তুলতে চাচ্ছে না অনিক।

মাথায় হাত বুলাতে বুলাতে আরেকবার

ডাকায় আস্তে করে চোখ মেললো নীলা।

অনিকের মুখে হাসি ফুটলো। প্রতিদিন

সকালে নীলার ঘুম থেকে ওঠার

দৃশ্যটা সে কখনোই মিস করে না। কেন যেন

এই দৃশ্যের মাঝেও অনেক মানসিক

শান্তি খুঁজে পায় সে।

আমাকে যে অফিসে যেতে হবে! বলল

অনিক।

ওহ! কয়টা বাজে?

প্রায় সাতটা।

ও।

মনটা আবার খারাপ হয়ে গেল অনিকের।

নীলা কিছুই বললো না। ওর শরীরটা আসলেই

ভালো না। অন্যান্য দিন এমন সময়

নীলা ব্যস্ত

হয়ে দৌড়াদৌড়ি করে অনিকের জন্য

নাস্তা রেডি করে। অনিকও যতোটা সম্ভব

নীলাকে কাজে সাহায্য করে। কিন্তু আজ

নীলার শরীর খারাপ বলে তাকে আর

ডাকেনি অনিক। যাবার

মূহুর্তে বলে যাওয়ার জন্যই

ঘুমটা ভেঙ্গেছে নীলার।

আমার আজকে অফিসে যাওয়া একদমই উচিৎ

নয়, কিন্তু আজ এমনই কিছু কাজ

আছে যে না গিয়েও পারছি না, মন খারাপ

করে কৈফিয়তের সুরে নীলার কানের

কাছে বললো অনিক।

নীলা তার দিকে না তাকিয়েই ক্ষীণ

কণ্ঠে বললো, সমস্যা নেই, তুমি যাও।

তার দিকে কিছুক্ষণ

তাকিয়ে থাকলো অনিক। আর দুই-এক মিনিট,

তারপরই নীলা পুরোপুরি সজাগ হয়ে উঠবে।

সেই দুই মিনিট সময় পার করলো সে নীলার

মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে।

শোনো, আমি নাস্তা তৈরি করে গেছি,

তুমি ঠিক এক ঘণ্টা পর আটটায়

বিছানা থেকে উঠবে। ফ্রিজে ব্রেড

রাখা আছে। আমি জেলি দিয়ে রেখেছি,

তুমি খেয়ে নিও। আর খাওয়া শেষে পুরো দুই

গ্লাস পানি খাবে।

পানি খেয়ে সোজা বিছানায় যাবে।

কোনো কাজের বাহাদুরি দেখাতে হবে না,

বুঝেছো? প্রায় যেন আদুরে ধমক

দিলো অনিক।

তার এই আচরণের সঙ্গে পরিচিত নীলা।

সে একটু হেসে বললো, আচ্ছা ঠিক আছে।

অনিক বলে চললো, দুপুরের ভাতও

আমি রান্না করে রেখেছি। তরকারি কাল

রাতেরটাই আছে, আর রান্নার দরকার

হবে না। আমি ফোন

করে তোমাকে ডেকে দিবো যদি ঘুমিয়ে

থাকো। দুপুরে কিন্তু অবশ্যই

খেয়ে নিবে সোনা। তোমার

শরীরটা ভালো না। না খেলে কিন্তু শরীর

আরো খারাপ হবে।

খাওয়া নিয়ে বরাবরই নীলার উপর

জবরদস্তি করতে হয় অনিককে। আজ

সে বাসায় থাকতে পারছে না, নীলার

শরীরও খারাপ, তাই

নীলাকে বুঝিয়ে বলছে অনিক

যাতে মেয়েটা খাবার ফাঁকি না দেয়

কোনোভাবেই।

আর শোনো, তোমার ঘুম না আসলে টিভির

রিমোট তোমার কাছে রেখে গেলাম,

টিভি দেখো। গান

শুনতে ইচ্ছে করলে ল্যাপটপও

রেখেছি খাটের পাশেই। স্পিকারে লাইন

দেয়া আছে ল্যাপটপ থেকেই গান

চালাতে পারো। তবে কম্পিউটারের

সামনে বসে থাকবে না কিন্ত।

তাহলে শরীর আরও খারাপ করতে পারে।

আর কোনো কাজ করতে যাবে না।

এমনকি খাওয়ার পর

মাতব্বরি করে প্লেটটাও

ধুয়ে রাখতে হবে না।

নীলা বললো, আমাদের কি আর কাজের

লোক আছে নাকি যে সে এসে ধুয়ে রাখবে?

কাজের লোক থাকা লাগবে না। আমিই

এসে ধুয়ে রাখবো। তোমার শরীর খারাপ

তুমি এগুলো ছোঁবেও না। ঠিক আছে?

মাথা নাড়লো নীলা। অনিক বলে চললো,

তোমার খরগোশগুলোকে খাবার

দিয়ে রেখেছি। ওগুলো নিয়েও আপাতত

চিন্তা করতে হবে না। কেউ

এলে দরজা খোলার দরকার নেই। কেউ

আসবে না আজ। পরিচিত কেউ

আসলে দরজা না খুললে ফোনই করবে। ফোন

রিসিভ করলেই বুঝতে পারবে। বেল শুনেই

দরজার দিকে দৌড় দেবে না। বুঝেছো?

এবারও মাথা নাড়লো নীলা। তার ঠোঁটের

হাসিটা নজর এড়ালো না অনিকের। অনিক

নীলার গালে ছোট্ট একটা চুমু খেয়ে বললো,

এবার তাহলে আমি যাই সোনামণি।


তুমি কিন্তু ঠিক

যেভাবে বলেছি সেভাবে থাকবে।

কোনো কাজে হাত দেবে না। খুব

সাবধানে থাকবে। ঠিক আছে?

নীলার ঠোঁটটা নড়লো। কী বললো ঠিক

শুনতে পেলো না অনিক। তার ঠোঁটের

সামনে কান পেতে নীলাকে আবার

জিজ্ঞেস করতেই নীলা বললো, যাই না,

বলো আসি।

হাসলো অনিক। মেয়েটা সবসময়ই তার এই

ভুলটা ধরে। আচ্ছা জান আসি। এবার

হয়েছে?

হাসিমুখেই এবার মাথা নাড়লো নীলা।

অনিক তার কপালে একটা চুমু

খেয়ে উঠে দাঁড়ালো। তার সত্যিই আজ মন

সায়

দিচ্ছে না নীলাকে এভাবে একা রেখে

অফিসে যেতে। কিন্তু কিছু করার নেই, আজ

তাকে যেতেই হবে। ভয়াবহ

কোনো দুর্ঘটনা না ঘটলে আজকের অফিস

এড়ানোর কোনো সুযোগ নেই।

শেষবারের মতো নীলার

দিকে তাকিয়ে বিষণ্ন

মনে বাসা থেকে বের হলো অনিক।

*

সকাল ৮টা।

নীলার ফোনটা বাজছে। তিনবার

রিং হওয়ার পর রিসিভ করলো নীলা।

ওপাশ থেকে রাস্তার গাড়ি আর হর্নের শব্দ

ভেসে এলো প্রথমেই। তারপর

শোনা গেলো অনিকের গলা, নীলা,

উঠেছো সোনা?

উমম, স্পষ্ট করে কিছু বললো না নীলা।

তবে অনিকের

বুঝে নিতে অসুবিধা হলো না।

শোনো জান, এক্ষুণি উঠে পড়ো। মুখ

ধুয়ে ফ্রিজ থেকে ব্রেড খাও কয়েকটা।

তারপর দুগ্লাস পানি খাও। তারপর

ওষুধটা খেয়ে নেও। আমি তোমার বালিশের

নিচেই ওষুধের পাতাটা রেখে এসেছি।

আচ্ছা উঠছি, ঘুম জড়ানো কণ্ঠে বলল

নীলা।

আচ্ছা উঠছি না সোনা, এক্ষুণি উঠো।

ওষুধটা সময়মতো খেতে হবে না? উঠে পড়ো।

আমি থাকলে তো আমিই খাইয়ে দিতাম।

আমি নেই বলে কি একটু কষ্ট

করে ওষুধটা খাবে না?

আচ্ছা যাচ্ছি।

অনিকের খুশি হওয়াটাও যেন

শুনতে পেলো নীলা। খুব ছোট্ট ছোট্ট

ব্যাপারে অনিক খুব খুশি হয়। এগুলো নীলার

ভালো লাগে, অবাকও লাগে। তবে ভালোই

বোধহয় বেশি লাগে। তাই

খুশি হওয়াটা বুঝতে পেরেই যেন

শোয়া থেকে উঠলো নাস্তা করতে।

মুখ ধুয়ে ফ্রিজ

খুলে ব্রেডগুলো দেখতে পেলো নীলা।

হাতে নিয়ে আনমনেই হেসে উঠলো।

পাউরুটিগুলোর উপর

জেলি এতো মসৃণভাবে মাখিয়েছে অনিক

যেন কোনো মেশিন দিয়ে লাগানো। অথচ

নিজে খায় সময় যে কীভাবে জেলি লাগায়

অনিক!

খাওয়ার সময় খুব একা লাগলো নীলার।

প্রতিদিন সে আর অনিক

একসঙ্গে নাস্তা করে। প্রতিদিনই অনিক

একশো একটা বাহানা দেখিয়ে নিজের শেষ

পিসটা নীলাকে খাইয়ে দেয়।

ভাবটা দেখায় সে অনেক

ভালোবাসে বলে নীলাকে এভাবে খাওয়ায়।

কিন্তু নীলার মনে হয় অনিক

খাওয়া ফাঁকি দেয়ার জন্যই এটা করে।

অনেকবার প্রতিবাদ করেও কোনো লাভ

হয়নি। ছেলেটা এতো আদর করে সাধে,

না খেয়েও পারে না নীলা। অথচ অন্য

কারো সাথে এতোটা মিশে কথা বলতে পারে

না সে। যেন কেবল নীলার সাথেই

সে এতো দুষ্টুমি করে, অন্য কারো সঙ্গেই

পারে না।

ফোনের দিকে চোখ পড়তেই ভাবলো,

কী ঝামেলার মধ্যে থেকে ফোন

করেছে অনিক কে জানে।

হয়তো বাসে ঝুলে দাঁড়িয়ে ছিলো।

গাড়ি কেনার ইচ্ছে থাকলেও সামর্থ্য

হয়নি। তাই আর দশজন মানুষের মতোই

তাকে যাতায়াত করতে হয়।

তা যে কী ভয়াবহ অবস্থা সেটা নীলার

অজানা নয়। এতোকিছুর মাঝেও

কীভাবে অনিক ফোন করলো, কে জানে!

*

দুপুর ১টা।

এরই মাঝে আরও দুবার ফোন করেছে অনিক।

একবার নীলা ঘুমিয়ে ছিল। আরেকবার

টিভি দেখছিল। কিন্তু ঠিক ১টায় অনিক

ফোন করলো যখন নীলা রান্নাঘরে সিঙ্কের

সামনে দাঁড়িয়ে ভাবছে প্লেটগুলো ধুয়ে

ফেলবে কি না।

নীলার শরীরটা খারাপ লাগছিল

বলে রাতে খাওয়ার পর প্লেটগুলো আর

ধুয়ে রাখা হয়নি। নীলা না করলে অনিকই

সাধারণত এসব কাজ করে ফেলে। কিন্তু

নীলার শরীর রাতে আরও বেশি খারাপ

ছিল বলে অনিক অন্য কাজ বাদ

দিয়ে নীলার পাশেই বসে ছিল। কখন

ঘুমিয়েছে জানে না, মাঝরাতে কেবল

একবার ঘুম ভেঙ্গে নীলা দেখেছে অনিক

নীলার একটা হাত

জড়িয়ে ধরে ঘুমিয়ে আছে।

কী করছো নীলা?

কিছু না।

শুয়ে আছো?

না।

তাহলে কোথায়?

রান্নাঘরে।

খিদে পেয়েছে?

হ্যাঁ, আমি খেয়ে নিয়েছি। তুমি কিন্তু

ভাত নরম করে ফেলেছো।

ওহ তাই নাকি? সরি! খেতে পেরেছো?

নাকি বেশি নরম হয়ে গিয়েছিলো? আমিও

যে কেন ভাত

বসিয়ে ব্রেডে জেলি লাগাতে গিয়েছিলাম!

অনিককে অপ্রস্তুত

হতে দেখে হাসতে লাগলো নীলা।

আরে বোকা ভাত ঠিকই আছে।

আমি মজা করছিলাম তোমার সাথে। কিচ্ছু

বুঝে না। বুদ্ধু।

অনিকও লাজুক হাসি হাসলো।

নীলাকে হাসতে শুনে তার খুবই

ভালো লাগছে। মেয়েটার শরীরের অবস্থার

উন্নতি ঘটেছে তাহলে।

*

দুপুরের পর থেকে আরও পাঁচবার ফোন দেয়ার

পর ছয়বারের বেলায় নিজেই

ঘরে এসে উপস্থিত হলো অনিক।

দরজা খুলে দিলো নীলা। প্রথমেই

তাকে জিজ্ঞেস করলো অনিক, কেমন

আছো? তোমার শরীরটা কেমন এখন?

গায়ে হাত দিয়ে দেখলো জ্বর আছে কি না।

নীলা বললো, তুমি যা শুরু করেছো, রোগ

এসে শান্তি পায় নাকি? চলে গেছে।

হাসলো অনিক। বলল, ভালো হয়েছে। রোগ

দুনিয়ার আর মানুষ পেলো না, না? আমার

নীলামণিকেই ধরতে হবে? ঝেঁটিয়ে বিদায়

করে দিবো রোগকে!

তুমি আমাকে ঝেঁটিয়ে বিদায় করবে?

প্রায় কাঁদো কাঁদো ভঙ্গিতে বললো নীলা।

আরে না জান,

তোমাকে কি আমি ঝেঁটিয়ে বিদায়

করতে পারি? রোগকে বিদায় করবো।

তুমি তো আমার কাছেই থাকবে।

তুমি আবার কই যাবে?

যেমনি হঠাৎ করে কাঁদার ভঙ্গি করেছিল,

তেমনি হঠাৎ করেই হেসে নীলা বললো,

কোথাও না।

নীলার এই ছেলেমানুষী অনিকের অনেক

ভালো লাগে।

*

রাতে খাওয়ার পর।

বিছানায় এসে শুয়ে পড়েছে নীলা। অনিক

কিছুক্ষণ ল্যাপটপে কাজ করলো।

নীলা শুতেই সে ল্যাপটপ রেখে নীলার

দিকে মনোযোগ দিলো। জিজ্ঞেস করলো,

এখন তোমার শরীর কেমন? ভালো লাগছে?

হ্যাঁ, মনে হচ্ছে এখন আমি সুস্থ।

মনে হলেই চলবে না। ওষুধ

দিয়েছে ডাক্তার, কোর্স শেষ করতে হবে।

অ্যাঁ, আমি ওষুধ খাবো না।

খাবে সোনা, হাঁ করো।

না করবো না।

না করলে কিন্তু আজ আমি নিচে ঘুমাবো।

আমিও নিচে ঘুমোবো।

জ্বী না, তুমি আমার

সাথে শুতে পারবে না।

আমি ছাদে গিয়ে ঘুমাবো।

আমিও তোমার

সাথে ছাদে গিয়ে ঘুমাবো,

খুশি খুশি গলায় বললো নীলা।

ছাদে গেলে তোমাকে ভতে ধরবে।

ইশ, ধরবে না। ভত

ধরতে আসলে তুমি আছো না?

আমি কী করবো?

তুমি আমাকে ভত থেকে বাঁচাবে,

বলে অনিককে জড়িয়ে ধরলো নীলা।

সেটাই তো করছি। নাও ওষুধটা খাও।

হেরে গিয়ে চুপচাপ কিছুক্ষণ অনিকের

দিকে তাকিয়ে রইলো নীলা। চুপচাপ

ওষুধটা খেয়ে নিয়ে অনিকের

বুকে মাথা রাখলো। অনিক,

তুমি আমাকে এতো ভালোবাসো কেন?

কারণ, তুমি শুধু আমার।

তুমি এতো চিন্তা করো কেন

আমাকে নিয়ে?

তাহলে কাকে নিয়ে চিন্তা করবো? আমার

তুমি ছাড়া আর কেউ তো নেই। যারা আছে,

তারা তো আমাকে তোমার

মতো করে বুঝে না।

হুম।

আর তোমার শরীর খারাপ।

আমি তো অফিসে গিয়েছিই, কিন্তু

মনটা সারাদিন পড়ে ছিল তোমার কাছে।

কেবলই মনে হচ্ছিল কখন তোমাকে দেখবো।

নীলার চুলে বিলি কাটতে শুরু করলো অনিক।

নীলা বললো, আজ আমাদের বিয়ের

কতোদিন হয়ে গেছে, তাই না?

হুম। অনেক বছর।

তুমি কি আজও আমাকে আমাদের সেই

স্টুডেন্ট লাইফে যেমন ভালোবাসতে, তেমন

ভালোবাসো অনিক?

তোমার কী মনে হয়?

জবাব দিলো না নীলা। সে জানে, অনিক

তাকে খুব ভালোবাসে। বিয়ের

এতোগুলো বছর পরও আজ তাদের

কোনো সন্তান নেই। ভবিষ্যতেও না হওয়ারই

সম্ভাবনা বেশি। অবশ্য আর ভবিষ্যত

কীসের। তাদের জীবনকালও প্রায় শেষই

হয়ে আসছে। অনিক সবসময়ই বলে, তার

জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি এই নীলা।

কথাটা যে সত্যি তা নীলা জানে।

হয়তো তার জীবনেরও শ্রেষ্ঠ প্রাপ্তি তার

স্বামী, অনিক। কিন্তু

সে কখনো এটা বলেনি। মেয়েরা কেন যেন

মনের কথা চেপে রাখতেই বেশি পছন্দ

করে।

নীলা জানে অনিক তাকে ভালোবাসে।

তারা বিবাহিত দম্পতি। এতোগুলো বছর পর

এখনো নীলার প্রায়ই মনে হয় যেন

তারা সবে প্রেমে পড়েছে। যেমনটা ঠিক

এখন তার মনে হচ্ছে। অনিকের মনের

কথা শুনতেই যেন তার বুকে নিজের কান

আরও চেপে ধরলো নীলা।

আর অনিক তখন

ভাবলো নীলা ঘুমিয়ে পড়েছে।

সে হেডফোন কানে লাগিয়ে তার প্রিয়

গানগুলোর একটা শুনতে শুরু করলো।

গানটা তার প্রিয়, কারণ কথাগুলো যেন

ঠিক তার মন থেকে আসা। নীলার মাথায়

হাত বুলাতে বুলাতে চোখ বন্ধ করে নিজের

মনের কথাগুলো নিজেই

শুনতে থাকলো অনিক।

পৃথিবীর যত সুখ, যত ভালোবাসা,

সবই যে তোমায় দেব, একটাই এই আশা,

তুমি ভুলে যেও না আমাকে,

আমি ভালোবাসি তোমাকে।

ভাবিনি কখনো, এ হৃদয়ে রাঙানো

ভালোবাসা নেবে তুমি,

দুয়ারে দাঁড়িয়ে, দুবাহু বাড়িয়ে,

সুখেতে জড়াবো আমি।

সেই সুখেরই ভেলায়

ভেসে স্বপ্ন ডানা মেলব হেসে,

এক পলকে পৌঁছে যাব,

রুপকথারই দেশে।

তুমি ভুলে যেও না আমাকে

আমি ভালবাসি তোমাকে ।।