পরিবর্তন????????

09th January, 2024
59




যারা তাদের চিন্তাভাবনা পরিবর্তন করতে পারে না, তারা জীবনে কিছুই পরিবর্তন করতে পারে না।


আরো নিবন্ধন পড়ুন



মানুষের স্পষ্টতা তাকে সবকিছুতে মানানসই করে তোলে- Wednesday, 06th December, 2023

স্পষ্টীকরণ মানসিকতাঃ

কারোর উপর কেউ নির্ভর করে না। কিন্তু প্রত্যেকের ভিত্তিতে সবাই নিজের উপর নির্ভর করে। কারণ চারপাশের প্রত্যেকটা বিষয়ের অনুভবই কাউকে প্রভাবিত করে থাকে। সময় কখনোই কাউকে কোনো কিছুর প্রতি চাপ প্রয়োগ করায় না। কিন্তু কারোর কর্মের উপর তার সমস্তটা নির্ভর করে। যার কারনে কারোর ছোট থেকে ছোট বিষয়ের অলসতায় তৈরি গুরুত্বহীনতা তাকে সবকিছু থেকে অল্প করে পিছিয়ে দেয়। তাই সবসময় কেউ অন্যের সুরক্ষার্থে নিজের জন্য নিজেকে বাধিত করলে পুরো পৃথিবী তার সাথে থাকে। সুন্দর মূহুর্ত কাউকে ছেড়ে যায় না। যার কারনে কোনো মানুষের চেয়ে অনুভবের স্থায়িত্বের নিশ্চয়তা বেশি। তাই সবসময় নিজের প্রতি প্রতিরক্ষার্থী মনোভাব বজায় রাখা উচিত। যা অন্যকে এবং তাকে শান্তিপূর্ণ জীবন-যাপনে সহয়তা করবে।

নতুন যেকোনো কিছু অনেক সময় কাউকে আকৃষ্টহীনভাবে রাখে। কারণ এই ধরনের ব্যক্তিগুলো নিজেদের প্রতি অতিরিক্তভাবে আকৃষ্ট হয়ে পড়ে। আর এই মনোভাবের কারণে অন্য কিছুর প্রতি বিশ্বাস হারিয়ে তারা নিজের প্রতি আকৃষ্ট হয়। হয়তো তারা মনে করে জীবনে নিজের জন্য কাউকে নিঃস্বার্থভাবে থাকার চাপ প্রয়োগ করার চেয়ে স্বাধীনভাবে নিজের মতো করে জীবনযাপন করা। কারণ স্বার্থ কাউকে আলাদা করলেও একটা জায়গায় উপনীত হয়। কিন্তু চাপ কাউকে দুর্বলভাবে নিঃশেষে বিভাজ্য করে। যখন কেউ সবকিছু মেনে নিয়ে জীবন-যাপন করলেও সময় তাকে মানবিকভাবে দুর্বল করে। একটা মানুষ সবসময় আত্মিক মনোভাবে বুঝতে শেখে। যার কারনে মেনে নেওয়া অনেক সময় তাদের জীবনের বোঝা বাঁড়ায়। এইজন্য মেনে নেওয়া ভালো। তবে অনুশোচনার জীবন-যাপনের চেয়ে অনেক সময় ত্যাগ শ্রেয়, যে কারোর প্রতিরক্ষার্থে।

 

মানুষ বাকহীন মূহুর্তে তার ভেতরের কষ্টগুলো কাউকে বোঝাতে পারে না- Tuesday, 28th November, 2023

জীবনের অসম্পূর্ণতা সবকিছুর মাঝেও মানুষকে নিঃশেষ করে যায়ঃ

একটা মানুষের জীবনের পূর্ণতা তখনই আসে, যখন সে নিজের প্রত্যেকটা বিষয়েই সন্তুষ্ট থাকে। কারণ প্রত্যেকটা ব্যক্তির আত্মিক সন্তুষ্টি কোনো কিছুর অপূর্ণতায়ও তাকে সুখী করে। তাই জীবনে পাওয়া, না পাওয়ার হিসাব বাদ দিয়ে, প্রত্যেকের তার জীবনের সাথে মানায় নেওয়ার চেষ্টা করা উচিত। কারণ একদিনে কোনো কিছু করা সম্ভব নয়। আর সময়ের সাথে মানুষের ব্যক্তিত্বের গঠিত রূপ কখনো তাকে বিব্রত বোধ করায় না। আর সবসময় তার ভেতরের শান্তি ধরে রাখে। যার কারনে যেকোনো পরিস্থিতিতে তার আত্মবিশ্বাস অটুট থাকে। একটা মানুষের কাছে আরেকটা মানুষের কিছু দিক ভালো লাগতে পারে। তখন বিষয়টাকে কপি না করে, সেখান থেকে কিছুটা অনুভব তৈরি করা উচিত। যা কাউকে নিজের গুরুত্ব বজায় রেখে তার প্রবাহিত জীবনের সরলতা বজায় রাখতে সহায়তা করবে।

অনেকের কাছে যেকোনো কিছুর চেয়ে তার অনুভবের গুরুত্ব বেশি। যেজন্য তার জীবনের সাথে জড়িত যেকোনো কিছুর চেয়ে নিজের গুরুত্ব বেশি থাকে। সমাজের প্রতি ভদ্রতা বজায় রাখতে সবসময় কারোর একান্তের বিষয়গুলো অপ্রকাশ্যে রয়ে যায়। কিন্তু দৃষ্টিভঙ্গির ক্ষেত্রে বেশিক্ষণ বিষয়টা অপ্রকাশ্যে রাখা সম্ভব হয় না। কারণ একটা ব্যক্তির আচার-আচরণ, দৃষ্টিভঙ্গি তার প্রকৃতির সাথে জড়িত থাকে। যে কারণে মানুষ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে মাঝে মাঝেই ভেতরের দুর্বলতা কারণে, অল্পেই সেই স্থানে থেকে তার অবস্থান ত্যাগ করতে বাধ্য হয়। বিষয়টা অনেকের চোখে অনেক রকম লাগলেও যখন অন্যের দিক থেকে তার বিষয়গুলো বিবেচনা করবে। তখন প্রত্যেকটা ব্যক্তির যেকোনো আচার-আচরণই তার কাছে দিনের আলোর মতো পরিষ্কার হতে থাকবে। যখন কারোর কোনো কিছুর জন্য অতিরিক্ত প্রচেষ্টা চালানোর দরকার হবে না।

অনেকে নিজের মানসিক দুর্বলতা নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন বিষয়ের অবলম্বন করে থাকে। কিন্তু বিষয়টা ভবিষ্যতের চিন্তাশক্তির উপর কেমন প্রভাব বিস্তার করবে তা সেই মূহুর্তে তার চিন্তার বাইরে থাকে। যার কারণে কিছু বিষয় কারোর সাময়িকের চিন্তা দূর করলেও ভবিষ্যতের ভোগান্তির কারণ হয়। এইজন্য কিছু বিষয়ে আমাদের সাময়িকের জায়গায় ভবিষ্যতের চিন্তা করা উচিত। কিন্তু ব্যক্তিভেদে প্রতিরক্ষার্থী মনোভাব বজায় রেখে। আবার কখনো এমন দেখা যায় যে, মানুষ ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করতে গিয়ে বর্তমানকে হারিয়ে ফেলে। ভবিষ্যতের চিন্তা করা জরুরি। তবে বর্তমানকে বাদ দিয়ে নয়। সীমিত জীবনের প্রত্যেকটা সময়ের সঠিক নিয়ন্ত্রণই কাউকে মানুষ হিসেবে স্বার্থকতা অর্জন করায়। তাই কিছু ক্ষেত্রে একটু কম-বেশি করে হলেও প্রত্যেকটা সময়েরই মূল্যায়ন করা উচিত। যাতে কোনো কিছুর জন্য পরবর্তীতে কারোর অনুশোচনায় না ভুগতে হয়।

কিছু পরিস্থিতি এমন হয় যে, কেউ চাইলেও কোনো কিছু মুখের উপর প্রকাশ করতে পারে না। যার কারনে তার কিছু বিব্রতকর পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হয়। যা হয়তো কেউ সবসময় তার জীবন থেকে বাদ দেওয়ার চেষ্টা করতো। পরিস্থিতি হাতের বাইরে থাকা একরকম। কিন্তু সবকিছু বলার ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও কোনো কিছুতে জড়ানোর ভয়ে নিজেকে গুটিয়ে নেওয়ার মতো কষ্টের কিছু হয় না। হয়তো এই অনুভব কাউকে মানসিক চাপ অনুভব করায় না। কিন্তু ভেতর থেকে কাউকে অসীম ভার অনুভব করায়। যেজন্য নিজের কাজ আর কথার নির্দিষ্টতা বজায় রেখে চলার চেষ্টা করা উচিত। যাতে জীবনের প্রতি ভেতরের বোঝার দায় গ্রহণ করতে না হয়। মানুষ পরিবর্তনশীল। তবে ব্যক্তিত্বের দুর্বলতায় কেউ নিজেকে পরিবর্তনের জায়গায় অন্যের অনুসারে নিজেকে পরিচালনা করে থাকে। যা কারোর পরিচিতির মিশ্রতার কারনে তার ব্যক্তিত্বকে জড়তার মাধ্যমে আবছা করে দেয়। তখন তার বিবেচনা শক্তি কাজ না করায়, আজীবন একটা ব্যক্তিত্বহীন মানুষ হিসেবে জীবন-যাপন করে যায়।

পরিস্থিতি কখনোই কারোর হাতে থাকে না। তবে কেউ চাইলেই নিজের পরিস্থিতিগুলোকে সময়ের সাথে পরিবর্তন করতে পারে। যদি তার বিবেক মজবুত আর চিন্তাধারা পরিষ্কার হয়। কিন্তু শুরুতে নিজের ভুলগুলোকে বুঝে কাউকে দোষারোপ না করার মনোভাব জীবনের জন্য শ্রেয়।

বাবা Saturday, 06th January, 2024

বাবার মৃ'তদে'হ সামনে রেখে বললাম " বাবার ঋণদার যারা আছেন,আপনাদের পাওনা টাকা আমাকে জানাবেন।বাবার ঋণ আমি শোধ করবো "

 

ছোট বোন আমার হাত চেপে ধরে বললো " ভাইয়া,তুই শোধ করবি কিভাবে? তুই নিজেই তো ৫ বছর ধরে কোনো চাকরি পাচ্ছিস না।বেকারত্বের শিকার হয়ে টাকা শোধ করবি কিভাবে? "

 

বোনকে অভয় দিয়ে বললাম " শত কষ্ট হলেও শোধ করবো বোন "

 

সারারাত আমার ঘুম হলো না।বোনের বিয়ের বয়স হয়ে গেছে।পরিবারের খরচ নাহয় কোনোরকম চালাবো,কিন্তু বোনের বিয়ে কিভাবে দিবো? 

 

পরেরদিনই ঋণদাতারা এসে বাড়িতে হাজির।বাইরে বেড় হয়ে এতো লোককে দেখে ঘামে আমার কপাল ভিজে উঠলো।মৃদু স্বরে বললাম 

 

" আপনারা বাবার কাছে কত টাকা পান বলুন।আমি চেষ্টা করবো শোধ করার "

 

ওদের মধ্যে থেকে একজন এগিয়ে এসে বললো " আমরা ব্যাংক থেকে এসছি।উনি তার ছেলে মেয়ের নামে ৭ লাখ টাকা সঞ্চয় করে রেখে গেছেন।কাইন্ডলি ব্যাংকে যোগাযোগ করুন "

 

একথা বলে তিনি চলে গেলেন।বাকি লোকগুলিও ছোট ছোট সমিতি থেকে এসছেন। ওরা জানালেন বাবা ওদের সমিতিতে প্রতিদিন ২০ টাকা করে সঞ্চয় রাখতেন।

 

রাতে সব মিলিয়ে হিসেব করে দেখলাম বাবা আমাদের জন্য মোট ১১ লাখ টাকা সঞ্চয় করে রেখে গেছেন।মনে পড়ে গেলো সেদিন রাতের কথা।যে রাতে আমি বাবাকে বলেছিলাম

 

" আপনি কেমন বাবা?আমার ভবিষ্যতের নিয়ে আপনার কোনো চিন্তা আছে?দরকার নেই আমার এমন বাবার "

 

বাবা তখন মৃদু হেসে বলেছিলেন " আমার সাধ্য মতো চেষ্টা করছি।সময় হলেই পেয়ে যাবে "

 

হ্যা সে সময়টা এখন এসে গেছে।কিন্তু বাবা চলে গেছে দূরে,ওই তারাদের কাছে।আমি আকাশের দিকে দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললাম 

 

" বাবা,আজ পর্যন্ত তোমায় কখনো বুঝতে পারলাম না।এখন বুঝতে পারছি,কেন তুমি এক শার্ট পড়েই একটা বছর কাটিয়ে দিতে "

 

#বাবা ❤️

জয়ন্ত কুমার জয়