কিছু বিষয়ের উৎকৃষ্টতা মানুষকে অস্বাভাবিকভাবে গড়ে তোলে-

08th January, 2024
370




মানবিক চিন্তাশক্তির প্রাদুর্ভাবঃ

অপ্রত্যাশিত সময়ে যখন কিছু জিনিস বা কাজ কাউকে ঘিরে থাকে। তখন অনেকেই নিজের অদ্ভুত আচরণের সাথে সম্পৃক্ত হবে। যা ব্যক্তিগুলোকে বর্ষার এক বিন্দু পরিমাণ অভিজ্ঞতার আলোকে নিজেকে নিজের তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে গড়ে তোলে। এইটা পার্থক্য হয় কৃত্রিম বা মানবিক অভিজ্ঞতার। মানুষ হয়তো বিভিন্নভাবে অভিজ্ঞতা অর্জন করে থাকে। কিন্তু সরাসরিভাবে কৃত্রিম বা মানবিক অভিজ্ঞতার প্রভাব বেশি থাকে মানুষের জীবনে। কারণ সময়ের সাথে সাথে মানুষেরও খুব দ্রুত পরিবর্তন হচ্ছে। যার কারণে কেউ সাধারণ জিনিসগুলোকেও গুরুত্বের অভাবে গুলিয়ে ফেলে।

মানুষ অস্বাভাবিক নয়। কিন্তু কিছু মানুষ স্বাভাবিকও নয়। সীমিত অস্বাভাবিক মানুষের‌‌‌ অপ্রত্যাশিত বা অনাকাঙ্ক্ষিত চিন্তা-ভাবনার ভিত্তিতে কিছুটা অভিজ্ঞতা তাদেরকে অপ্রতুল করে থাকে। এই ব্যক্তিগুলোকে চিহ্নিত করার সাধারণ কিছু বিষয় হলো- ব্যক্তিগুলো পরিস্থিতিভেদে সবসময় শান্ত বা অস্বাভাবিকভাবে নিজেদের ক্ষোভ প্রকাশ করে থাকে। এরা অল্প সময়েই নিজেদের পছন্দ অপছন্দ পরিবর্তন করে থাকে। এরা নিজেদের প্রতি অনুগত হয়ে থাকে। কারোর কটুক্তিকে গ্রাহ্য না করলেও সেই ব্যক্তিগুলোকে তাদের মস্তিষ্কে এমনভাবে চিহ্নিত করে রাখে যে, জীবনের পারকৃত কিছুটা সময়ের পর তারা সেই ব্যক্তিগুলোকে হয়তো অপমান করে না। কিন্তু তার কোনো প্রয়োজনে বা অপ্রয়োজনে এমনভাবে শান্ত থাকে যে, কেউ দেখলে হয়তো মনে করবে সেই ব্যক্তি অপর ব্যক্তির তাকিয়েও তাকে দেখতে পাচ্ছে না। কটুক্তি করা ব্যক্তি যখন তার দিকে তাকিয়ে থাকা ব্যক্তির সাথে কথা বলতে যাবে। তখনই তাকিয়ে থাকা ব্যক্তির সেই পরিস্থিতি ত্যাগ তার অস্বাভাবিকতা প্রকাশ করবে। যা হয়তো সাধারণ ব্যক্তির মধ্যে থাকে না। এই ব্যক্তিগুলোর একটা সুন্দর দিক হলো- ব্যক্তিগুলো যেকোনো পরিস্থিতিতে চাইলে সেকেন্ডেই নিজেদের শান্ত রাখতে বা অতিরিক্ত ক্ষোভ প্রকাশ করতে পারে। আর ব্যক্তিগুলোর সবচেয়ে খারাপ দিকগুলো হলো- বেশিরভাগ ক্ষেত্রে তাদের দুর্বলতা না থাকার কারণে হয়তো তারা নিষ্ঠুর নয়। কিন্তু সাধারণও নয়। একবার তারা নিজেদের মূল্যায়নকৃত কোনো বিষয়কে কোনো কারণে বাদ দিয়ে দিলে। কখনোই সেই বিষয় সম্পর্কে অবগত হতে পারে না। কারণ তারা নিজেদের প্রতি দুর্বল হওয়ায় যেকোনো বিষয়ের ওপর বিশ্বাস হারিয়ে ফেললে, সময়ভেদে তার পরিবর্তন কাউকে অপ্রকাশ্যে দ্বিধাগ্রস্ত করে। যার কারণে কেউ চাইলেই এই ধরনের ব্যক্তির ক্ষতিসাধন করতে অসক্ষম হয়ে থাকে। এই ধরনের ব্যক্তিগুলো সাধারণ হলেও তাদের অস্বাভাবিক বিবেচনা ও চিন্তাশক্তির কারণে জীবনের দৃষ্টান্ততা অর্জন করে থাকে।

রিলেটেড পোস্ট


বাহ্যিক শিষ্টতার মাঝে মানুষ নিজেকে নির্দিষ্ট করে থাকে-
পড়া হয়েছে: ৩৮৭ বার

সুন্দর মন সবকিছু পরিবর্তন করতে পারে-
পড়া হয়েছে: ২৭ বার

আত্মপ্রকাশের অনুভবে স্মৃতির পাতায় গাঁথা ভেজা মুহুর্তগুলো-
পড়া হয়েছে: ৩৩১ বার

অবেলার সামান্য ইচ্ছা প্রকাশের আবদার-
পড়া হয়েছে: ২০০ বার

জীবনের সান্নিধ্যে সবকিছুর নির্ধারিত মাত্রা বজায় রাখা উচিত-
পড়া হয়েছে: ৭৪২ বার

নিশ্চুপ পরিস্থিতির অবুঝ মুহুর্ত-
পড়া হয়েছে: ১৮৪ বার

চিরন্তন সত্য-
পড়া হয়েছে: ৩২১ বার

নিস্বার্থ প্রকৃতির মায়াবী রূপ-
পড়া হয়েছে: ১৮০ বার

মন খুলে বাঁচো-
পড়া হয়েছে: ১৯৭ বার

কারোর ব্যক্তিত্ব যেকোনো পরিস্থিতির প্রভাব থেকে তাকে মুক্ত রাখে-
পড়া হয়েছে: ২৪৪ বার


আরো নিবন্ধন পড়ুন



সফলতা এবং ব্যর্থতার গল্প Saturday, 20th January, 2024

????আমি, আমার মৃত্যু পথযাত্রী মা কে ভাত খাওয়াতে পারিনি দেখে,আমি আজ সাতাশ বছর যাবৎ ভাত খাই না।অথচ এই আমিই আমার ইন্ডাস্ট্রির প্রায় সাড়ে পনেরো হাজার শ্রমিকের, প্রতিদিন একবেলা ভাতের যোগান দেই।
বিশিষ্ট শিল্পপতি মো:এনামুল হকের বক্তব্যে সবাই নড়েচড়ে বসল।সাংবাদিকরা সাক্ষাৎকারের শিরোনাম শুনে,সবগুলো ক্যামেরা অন করে দিল। বিনয়ের সাথে বলল,
-'যদি পুরো গল্পটা বলতেন,স্যার?
এনামুল হক একটু সময় নিয়ে কি যেন ভাবলেন!তারপর টিস্যু দিয়ে কপালের ঘাম মুছে নিয়ে বললেন,
-'বাবা মারা যাওয়ার পর,আমাদের আর্থিক অবস্থা খুব একটা ভাল ছিল না।ততদিনে বড়আপার বিয়ে হয়ে গেছে।আর আমি মেধা তালিকায় ১ম হয়ে বুয়েটে চান্স পাই।বই কেনার টাকা ছিল না।সারাদিন বন্ধুদের কাছ থেকে এ নোট সে নোট জোগাড় করে ফটোকপি করে পড়তে হতো।টিউশনি করে যে ক'টা টাকা মাস শেষে হাতে পেতাম।তার থেকে কিছু টাকা মা কে পাঠাতে হতো।আর বাকি টাকা দিয়ে, বন্ধুদের কাছ থেকে ধার দেনা করে কোনরকমে টেনেটুনে পুরো মাস চলতাম।বড়আপার ছিল ভরা সংসার।কিন্তু সেই সংসারে তার কোন মতামত দেওয়ার অধিকার ছিল না।সবকিছুই তার শাশুড়ির কথামত চলত।তাই সে চাইলেও  আমাদের খুব একটা হেল্প করতে পারত না।
আমার তখন পরিক্ষা চলছিল।
একদিন খবর এল আমার মা খুব অসুস্থ।আমি কোন রকমে পাস মার্ক তুলেই ছুটলাম।উদ্দেশ্য মা কে ঢাকায় এনে হাসপাতালে ভর্তি করা।যেহেতু হাতে খুব বেশি টাকা ছিল না।এদিকে মায়ের অবস্থাও খুব খারাপ। দিক দিশা না পেয়ে, একটা প্রাইভেট ক্লিনিকে  মা কে ভর্তি করলাম।ডাক্তার টেস্ট দিল।রিপোর্টে জানা গেল,মা ব্রেন স্ট্রোক করেছে।ততক্ষণে মা উল্টো পাল্টা বলতে শুরু করেছে।বার বার ক্যানেলা খুলে ফেলছে।চিৎকার করে কাঁদছে, হাসছে।জোরে জোরে বাবাকে ডাকছে।আমাকে অস্থির হয়ে বলছে,-'তোর বাপ এখনো আসে না কেন রে, এনা? 
আমি কি বলব?আমার নিজেকে তখন বেসামাল লাগছিল।সে সময় ফোনের খুব একটা প্রচলণ ছিল না।হাসপাতাল থেকে বাসে করে, বড় আপার বাসায় যেতে লাগে। প্রায় পাঁচচল্লিশ মিনিট। তাড়াহুড়ায়  আপাকে জানানো হয়নি।আপাকে একটা ফোন করা দরকার!

টানা তিনদিন হাসপাতাল, ভার্সিটি করে করে পকেটের টাকা শেষ।এক বন্ধুর কাছে ধার চাইলাম।দিল না।এদিকে মা ও একটু একটু করে দূর্বল হয়ে পড়ছিল।বড়আপাকে বললাম। সেও এলো না।আসলে তাকে আসতে দেওয়া হয়নি।সে এসে হাসপাতালে পরে থাকলে,তার সংসারে কাজ করবে কে?
শেষ সময়ে মায়ের স্মৃতি এই আসছে!এই যাচ্ছে।যতক্ষণ আমি মায়ের পাশে বসে থাকতাম।শুধু মা শোয়া অবস্থায় আমার হাত টেনে ধরে বলত,-এনা,ভাত খাব?ও এনা, বাপ আমার! দে না, এক প্লেট ভাত এনে?আমি শুধু নীরবে , চোখের জল ফেলতাম।পকেটে তখন একটা পয়সাও ছিল না।বিশ্বাস করুণ!এক প্লেট ভাতের দাম খুব বরং দশ টাকা ছিল।কী অপদার্থ ছেলে আমি,তাই না?মা কে এক প্লেট ভাত কিনে খাওয়ানোর সামর্থ নেই।তখন ছাত্র ছিলাম।আত্মসম্মান বোধ ছিল প্রবল।কারো কাছে ভাত চাইতেও লজ্জা করছিল।ভাত দেই না দেখে,মা আমাকে রীতিমতো আঁচড়ে,কামড়ে নাজেহাল করে ফেলেছিল।টানা দুই ঘণ্টা মা ভাত খাব,ভাত খাব বলে, ক্লান্ত হয়ে পড়ল।আমি মায়ের মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে বললাম,
-'মা,তুমি লক্ষ্মী মেয়ের মতো চুপচাপ বসে থাকো।আমি আপার বাসা থেকে ভাত নিয়ে আসি,কেমন?
-'ভাত খাব,এনা?
-'আচ্ছা। 
আমি উঠে পড়লাম।মা পিছু ডেকে বলল,
-'তুই খুব ভাল,এনা।আল্লাহ তোর ভাল করুক।এবার শিগগিরই যা!আমার জন্য ভাত নিয়ে আয়।
আমি রাস্তায় বেরিয়ে উদ্দেশ্যহীন হাঁটছি।বড় আপার বাসায় যাব!পকেটে টাকা নেই।ভয়ে ভয়ে একটা বাসে চড়ে বসলাম।আমার মা মুখ ফুটে ভাত খেতে চেয়েছে।যে করেই হোক, আমাকে ভাত এনে দিতেই হবে।তারজন্য যদি আমাকে বাস কন্ট্রাকটারের কাছে,ভাড়া না থাকার কারণে, অপমানিত হতে হয়।হবো।আসার সময় নার্সকেও বলে এসেছি।'একটু আমার মা কে দেখবেন প্লিজ?আমি এসে বখশিশ দিব।

মাঝরাস্তায় বাস ড্রাইভার আমাকে নামিয়ে দিল।আমার অপরাধ!আমি ভাড়া দিতে পারিনি।আমি প্রায় ঘন্টাখানিক পায়ে হেঁটে আপার বাসায় পৌঁছেছি।আপা আমাকে দেখে ছুটে এলো।অস্থির হয়ে বলল,
-'মা কেমন আছে,ভাই?
-'বাড়িতে ভাত আছে, আপা?আমি সে'কথায় উত্তর না দিয়ে প্রশ্ন করলাম।
-'আছে।তুই খাবি?আপা ব্যস্ত হয়ে ভাত বাড়তে গেল।
-'আমি খাব না।তুই বরং মায়ের জন্য ভাত বেড়ে দে!আমি পিছু ডেকে বললাম।
আপা আমাকেও জোর করে অনেকগুলো ভাত খাইয়ে দিল।আমি টিফিনবাক্সে ভাত আর  কিছু টাকা নিয়ে আপার বাসা থেকে বের হলাম।
হাসাপাতালে গিয়ে, কেবিনে ঢুকে দেখি।আমার মায়ের নিথর দেহ, বড় অবহেলায় পরে আছে।সাদা কাপড়ে মুখ ঢাকা। অথচ তখনো হাতে আমার, মায়ের জন্য আনা, ভাতের বাটি ধরা।নিজেকে তখন আমার পৃথিবীর সবচেয়ে অক্ষম, নিকৃষ্ট লাগছিল।আমিই একমাত্র অপদার্থ ছেলে। যে কি না..মায়ের শেষ ইচ্ছে পূরণ করতে পারলাম না। এলোমেলো পায়ে হেঁটে গিয়ে মায়ের পাশে বসলাম।মায়ের হাত দুটো আলতো করে ধরে, বিড়বিড় করে বললাম,
-'ও মা..ভাত খাবে না?উঠো..দেখো, তোমার জন্য ভাত এনেছি। উঠো না মা?
আমার আপা মাকে জড়িয়ে ধরে, হাউমাউ করে কাঁদলেও সেদিন আমি একটুও কাঁদতে পারিনি,জানেন?কি নিষ্ঠুর দু'চোখ !এক ফোঁটা জলও এলো না।শুধু বুকের ভেতর কি যেন কামড়ে ধরছিল।মনের ভেতর অস্থির অনুভূতি।আমি না.. নিজেকে কিছুতেই ক্ষমা করতে পারছিলাম না।আফসোস,মা'র অন্তীম সময়ে একমুঠো ভাত মুখে তুলে দিতে পারলাম না।
স্কলারশিপ পেয়ে,আর দেরী করিনি।আমার ভাগের জায়গা, জমি বেচে, এক স্যারের হেল্প নিয়ে বিদেশে পড়তে চলে গেছি।যে দেশে আমার মায়ের মুখে ভাত তুলে দিতে পারিনি।সে দেশে কেন জানি!আর থাকতে ইচ্ছে করেনি।
পড়াশোনা শেষ করে, আমি যে কোম্পানিতে মোটা বেতনে জব করতাম।আমার কাজের প্রতি একাগ্রতা আর সততা দেখে সেই কোম্পানির মালিকের   খুব পছন্দ হলো।তার তিন কূলে কেউ ছিল না।এক মেয়ে ছাড়া।এত এত অর্থ সম্পদ কে ভোগ করবে?তাই আমাকে তার মেয়ে জামাই করার প্রস্তাব রাখল।সাথে ৫০%প্রোপার্টি লিখে দেবে।একসময় আমাকে বিয়ে তো করতেই হতো। তাই আর অমত করিনি।

একটা সময় পর মনে হলো,অনেক দিন তো হলো।বিদেশ ভূয়ে পড়ে রইলাম।এবার দেশে যাওয়া দরকার।দেশের মানুষের জন্য কিছু করা দরকার। 
দেশে এসে, গাজীপুরের প্রায় পাঁচশো শতাংশ  জায়গা,জমি কিনেছি।বিদেশি বায়ারদের সাহায্যে ফ্যাক্টারি নির্মাণ করেছি।সেই ফ্যাক্টারিতে গেঞ্জি, শার্ট,প্যান্ট,থেকে শুরু করে অনেককিছুই তৈরী করা হয়।সেই সব প্রডাক্ট গুলো চড়ামূল্যে অন্যান্য দেশে রপ্তানি হয়। প্রথমে দেড় হাজার শ্রমিক নিয়ে আমাদের জার্নিটা শুরু করেছিলাম।এখন প্রায় সাড়ে পনেরো হাজার শ্রমিক কাজ করে।আমাদের ফ্যাক্টারির একজন এমপ্লয়ির সর্বনিম্ন বেতন সাড়ে আট হাজার টাকা।আর সবোর্চ্চ বেতন প্রায় লাখের উপরে।মূল ডিউটি টাইম,ন'ঘণ্টা।
সাথে দুপুরের লাঞ্চ ফ্রী।ওভারটাইম করলে হালকা নাস্তারও ব্যবস্থা আছে।

মাঝখানে অনেকগুলো বছর কেটে গেছে।
এখন দু'হাত ভরে প্রচুর টাকা কামাই।কাঁচা চুলে পাক ধরেছে।গায়ের চামড়াও কেমন কুঁচকে গেছে।চোখে মোটা ফ্রেমের চশমা পরতে হয়।আমার ছেলেমেয়েরাও যার যার মতো প্রতিষ্ঠিত।যে আমি ছাত্র জীবনে মা কে একমুঠো ভাত খাওয়াতে পারিনি। সেই আমিই আজ প্রায় পনেরো হাজার মানুষের খাদ্যে, বস্ত্রের দায়িত্ব নিয়েছি।তারা যখন কাজ করতে করতে ক্লান্ত হয়ে, দুপুরে আয়েশ করে, ভাত খেতে বসে।আমি সি সি টিভি ফুটেজে তা মুগ্ধ চোখে দেখি।এই সাদা ফুলের মতো ভাতের প্রতি আমার প্রচুর দূর্বলতা থাকলেও কেন যে আজও ভাত খেতে পারি না।এখনো ভাতের প্লেট দেখলেই মায়ের মুখখানা চোখের সামনে ভেসে উঠে।

একটানা এতক্ষণ কথা বলে, এনামুল হক হাঁপিয়ে গেছেন।একরাশ মুগ্ধ জনতা পেছনে ফেলে সে আস্তে আস্তে স্টেজ থেকে নেমে গেলেন।এখন ঘড়িতে পাঁচটা বাজে।সন্ধ্যে ছ'টায় একটা পাচ তরা হোটেলে, বিদেশি ক্লায়েন্টদের সাথে গুরুত্বপূর্ণ মিটিং আছে।এখন না গেলে বড্ড দেরি হয়ে যাবে।চারপাশে পুলিশ, সিকিউরিটি এনামুল হক কে গাইড দিয়ে গাড়িতে তুলে দিলেন।
————————————————————★        
               ❣️❣️    সমাপ্ত   ❣️❣️
————————————————————★

বিবেকের স্বপ্নীল পর্যটন- Monday, 23rd October, 2023

সর্বোত্তম অনুভবের মুহূর্তঃ

নিজের প্রতিচ্ছবি প্রকৃতির মাঝে ফুটিয়ে তোলার ভালোলাগা তোমার ভিতরের প্রকৃত মানুষের পরিভাষা তৈরি করবে। প্রকৃতি তোমার ছোট হৃদয়ের সীমাহিন আকৃতি ধারণ করাবে, যদি নিজেকে ভালো রাখতে জানো। নিস্বার্থ প্রকৃতির বন্ধু হতে পারলে জীবনের মানে বুঝতে পারবা। যেকোনো কিছুর সঠিক পরিচর্যা অল্প সময়ে তোমাকে নতুন কিছুর অভিজ্ঞতা করাবে।

নিজের প্রতি সীমাহিন ভালোলাগা প্রত্যেককে সমানভাবে রেখে তাদের দিক থেকে নিজেকে বিবেচনা করা শেখাবে। কোনো পরিস্থিতিতে সঠিক বিবেচনার জন্য নিজের ভিতরে মনুষ্যত্ববোধ থাকা দরকার। বিষয়টা শিক্ষিত বা অশিক্ষিতর না। একটা মানুষের মনুষ্যত্ববোধ স্বচ্ছ কাঁচের মতো, যেখানে কেউ না বুঝে একটু আঘাত করলে তার অস্তিত্ব তোমার জীবনে গুড়ো কাঁচের মতো হয়ে যাবে। সেই কাঁচ হয়তো কখনো জোড়া লাগানো যাবে না। কিন্তু তার গলিত রূপ তোমাকে তার নতুন আকৃতির রূপ ধারণ করাতে সাহায্য করাবে।

মনুষ্যত্ববোধ সম্পন্ন মানুষ দেখতে সরল প্রকৃতির হলেও তারা কারোর অল্প পরিচিতিতেই তার বিশ্লেষিত রূপ বুঝতে পারে। তুমি যদি নিঃস্বার্থ মনুষ্যত্ববোধ সম্পন্ন মানুষ হও তাহলে তোমার সাধারণ প্রকৃতি একেক জনের কাছে একেক রকম। কারণ তুমি প্রত্যেকের কাছে তাদের মতো। তোমাকে সেই ব্যক্তিই বুঝবে, নিস্বার্থভাবে যে সবার কাছে নিজেকে প্রকাশ করতে জানে। কারণ তিনি জানেন, ক্ষণিকের পৃথিবীতে কর্ম ছাড়া সবকিছুই মরীচিকার মতো। মৃত্যুর পর প্রত্যেকে তার কর্ম ছাড়া কিছুই সাথে নিতে পারবে না।

প্রত্যেকের মধ্যেই আবেগ আর বিবেক থাকে। কিন্তু বেশিরভাগ মানুষই আবেগকে শুরুতে খুঁজে পায়। আবেগ থেকে পাওয়া অভিজ্ঞতাই একটা সময় তার বিবেককে জাগায়। শুরু থেকে খুব অল্প মানুষের জীবনে বিবেক কাজ করে। যারা সময়ের আগেই জীবনের পরিপূর্ণতা অর্জন করে। সবকিছুই বলা সহজ করা কঠিন বিষয়টা এইরকম না। যেকোনো কিছুর প্রতি অনুভবকে সামলাতে জানলে সবকিছুই সাধারণ। সর্বোত্তম হওয়া সম্ভব না। কারণ প্রত্যেকেই কিছু কমতি নিয়েই পৃথিবীতে ভূমিষ্ঠ হয়। কিন্তু নিজের সঠিক পরিচালনা তাকে পূর্ণতা দেয়।

কোনো কিছুর জন্য নিজেকে দোষ নয় সময় দাও। জীবনকে বুঝতে মোহ ত্যাগ করো মনুষ্যত্ববোধ নয়। 

স্মৃতির মাঝের বিষয়গুলো সবসময় শ্রেষ্ঠ হয়- Monday, 04th December, 2023

সময়ের স্মৃতিচারণঃ

কেউ যখন শৈশবের জীবন পার করে। সময় তখন তাকে নিজের সাথে পরিচয় করাতে থাকে। কিন্তু অনেকের কাছে শৈশবে প্রাপ্ত মায়ের ভালোবাসা সবসময় সোনার মূহুর্ত হয়ে তাদের জীবনের পাতায় বদ্ধ থাকে। শৈশবে যেকোনো শিশুর একমাত্র নিরাপদ স্থল মায়ের কোল। যেখানে প্রত্যেকটা শিশুই প্রকৃত শান্তি উপভোগ করে থাকে। হয়তো সময়ের সাথে অনেকে এই মূহুর্তগুলোকে আগের মতো করে অনুভব করে না। কিন্তু ব্যর্থতার কিছু মূহুর্তে এই অনুভবই কাউকে ভিতর থেকে পুনরুজ্জীবিত করে তোলে। কারোর জীবনে সবকিছু পরিবর্তন হলেও এই বিষয়টা সবসময় এক রকম থেকে যায়। শুধু অনুভবের মাধ্যমে বিয়টার অস্তিত্ব বজায় রাখা সম্ভব। যা সবার ক্ষেত্রে কিছু সময় বজায় রাখা সম্ভব হয় না। কিন্তু বিষয়টার স্মৃতিচারণই কারোর মধ্যে মনুষ্যত্ববোধ বজায় রেখে পথচলতে সহায়তা করে।

মানুষের জীবনে কোনো কিছুই যেমন সহজে পূর্ণতা পায় না। তেমনি অল্পেই কোনো কিছুর প্রাপ্তি তাকে দেরিতে সেই বিষয়ের প্রতি অনুগত করায়। কারণ সবকিছু দুর্লভ হওয়ায় যেকোনো বিষয়ের বোধশক্তি কারোর মধ্যে দেরিতে কাজ করে। কিন্তু অনুধাবন মাত্রই বিষয়টার স্থায়িত্ব নিশ্চিত হয় অনেকের জীবনে। যার কারনে শত ভুলের মাঝেও মানুষ পৃথিবীতে তার শ্রেষ্ঠত্ব প্রকাশ করে যায়। সূর্য যেমন চাঁদের আলোর কারণ। তেমনি কোনো শিশুর জীবনের মূল্যবোধ তৈরিতে পরিবারের নিঃস্বার্থ ভালোবাসা, তার ভবিষ্যতের সফলতার কারণ। প্রত্যেকটা বিষয়ের সাথেই মানুষের জীবন ওতপ্রোতভাবে জড়িত। যার কারণে একটাকে বাদ দিয়ে আরেকটা চিন্তা করা সম্ভব নয়। তাই জীবনে সবকিছু নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে প্রত্যেকটা বিষয়ের প্রতি সমান গুরুত্ব বজায় রাখা উচিত।

কোনো ঘরে মানুষ না থাকলে যেমন সেই বাড়ির অস্তিত্ব ফুরায়। তেমনি পরিবার ছাড়া কোনো জীবন অস্তিত্বহীনতায় নিঃশেষ হয়। তারা হয়তো সময়ের আগে সফলতা অর্জন করে থাকে। যার কারনে ক্ষমতার জোরে হয়তো পুরো পৃথিবীকে তার পাশে পায়। তবুও আবছা মূল্যবোধে জীবনের নিঃসঙ্গতা সবসময় তাকে অস্তিত্বহীনতা অনুভব করায়। যাদের পরিবার আছে তাদের হয়তো এই বিষয়টা কখনো অনুভব হয় না। যার কারণে একটা সময়ের পর সফলতা অর্জনে কিছু ব্যক্তির মূল্যবোধ আবছা হয়। যেজন্য এই ধরনের ব্যক্তিগুলো সীমিত ক্ষমতার্জনে সবসময় পাশে থাকা পরিবারের মূল্য দিতে ভুলে যায়। তেমনি পরিবার পাশে না পাওয়া ব্যক্তিগুলো প্রয়োজনাতিরিক্ত ধন-সম্পদের মালিক হওয়া স্বত্ত্বেও চিরজীবন পরিবারের নিঃসঙ্গতায় সবকিছুর মাঝেও অস্তিত্বহীন জীবন অনুভব করে। তখন হয়তো একটা পরিবার তার জীবনকে পূর্ণতা দান করে থাকে।

সময়ের সাথে বদলে যাওয়া মূহুর্তের অনুভব- Sunday, 12th November, 2023

উপেক্ষাকৃত জীবনঃ

কিছু মানুষ শুরু থেকেই খুব সাধারণ হয়। যাদের সবকিছুর মাঝেও নিজের মধ্যে সরলতা কাজ করে। হয়তো কেউ শুরু থেকে দায় অনুভবের জন্য তার ব্যক্তিত্ব মজবুত হয়। কিন্তু সেইসব ব্যক্তির জীবনের প্রতি বিশেষ কোনো চাওয়া পাওয়া থাকে না। যার কারনে তারা সাধারণের মধ্যেও অসাধারন হয়ে থাকে। এককথায় পরিষ্কার চরিত্রের ব্যক্তি যাকে বলে। একটা সময়ের পর কেউ হয়তো কোনো কিছু উপেক্ষা করতে পারে না। কিন্তু তাদের কোনো কিছুর প্রতি পিছুটান একটু কম থাকে। যার কারনে তারা সবসময় একটু দুরত্ব বজায় রেখে চলতে পছন্দ করে। পর্যায়ক্রমে পরিবর্তনশীল পরিস্থিতির সাধারণ কিছু বৈশিষ্ট্য কোনো কিছুর ধারন ক্ষমতা বদলে দেয়। কিন্তু সময় সবকিছুকে নিয়ন্ত্রণ করে অতিবাহিত হতে থাকে।

প্রকাশ্যের কোনো কিছু অপ্রকাশ্যে রাখা যায়। কিন্তু অপ্রকাশ্যের যেকোন কিছু কখনো প্রকাশ করা যায় না। কারণ অপ্রকাশ্যের বিষয়গুলো দুর্বলের চেয়ে একটু বেশি হয়ে থাকে। যার কারনে কারোর মধ্যে সবসময় বিষয়টার সংবেদনশীলতা কাজ করতে থাকে। কোনো কিছু এড়িয়ে গেলে সাময়িকভাবে বিষয়টার চাপ কমানো যায়। কিন্তু পরবর্তীতে বিষয়টা থেকে অরিকল্পিত চাপ সৃষ্টি হতে থাকে সময়ের সাথে। যা কাউকে ভেতর থেকে ধীরে ধীরে সম্পূর্ণরূপে গ্রাস করতে থাকে। সময়ের সাথে কোনো কিছু থেকে সৃষ্ট মানসিক চাপের ভারসাম্য বজায় রাখা যায়। কিন্তু ফিরে আসা বিষয়ের চাপের সম্মুখীন হওয়া যায় না। মানুষ বদলাতে জানে। তবে ছেড়ে আসা জিনিসের বদলানো রূপ মেনে নিতে পারে না।

অপরিকল্পিত কোনো কিছুর ইতিবাচকতা যেমন কাউকে ভেতর থেকে আত্মবিশ্বাসী করে। তেমনি পরিকল্পিত কোনো বিষয়ের নেতিবাচকতা কাউকে ভেতর থেকে অপরিকল্পিতভাবে নির্বিশেষে বিভাজ্য করতে থাকে। যা কাউকে মেনে নেওয়া শেখালেও কোনো কিছুতে এগোনোর বিষয়ে অবিশ্বাসী করে গড়ে তোলে। যা কাউকে জীবনে এগোনোর চেয়ে বেশি পিছিয়ে রাখে। অনেকেই হয়তো সময়ের শূন্যতায় একসাথে অনেক কাজ করতে পারে। তবে কোনো কাজের মধ্যে তারা নিজের দুনিয়া তৈরি করে কাজটা সম্পাদন করে। যার কারনে সেই মূহুর্তে কাজবিহীন যেকোনো কিছুই তার বিবেচনার বাইরে থাকে। পরবর্তীতে বিষয়টার পদক্ষেপহীনতা তাকে দ্বিধাগ্রস্ত করতে থাকে। যা কাউকে কিছু মূহুর্তের জন্য অপ্রকাশ্যে রাখে। কিন্তু বিষয়টার সমাধান না হওয়া অবধি যেকোনো মূহুর্তে তার মধ্যে বিষন্নতা তৈরি হতে থাকে। যা তাকে বাজে ভাবে ধীরে ধীরে গ্রাস করে।

মানুষ যেমন কোথাও চাইলেও নিজের মতো স্থির হতে পারে না। তেমনি না চাইতেও কোনো কিছুর স্থায়িত্ব তাকে অল্প সময়ে জীবনের নতুন ধাপে অতিবাহিত করায়। যা তাকে সম্পূর্ণরূপে বদলে নতুন কিছুর জন্য তৈরি করে। তখন বিষয়টা ধীরে ধীরে তার জীবনের পুরো পরিচিতি বদলে দেয় সময়ের সাথে। কারোর ইচ্ছা পূরণ তাকে জীবনের শেষ অবধি স্বর্গীয় অনুভবে রাখে। কিন্তু জোর পূর্বক যেকোনো কিছু নীরবে মানায় নেওয়া শেখালেও জীবনের শেষ পর্যায়ে বিষয়টা তাকে মারাত্মকভাবে অনুশোচনা অনুভব করায়। মানুষ শিখতেও জানে শেখাতেও জানে। কিন্তু জীবনে কোনো কিছুর প্রয়োগ খুব কম মানুষ করে। যার কারণে কেউ সবকিছু বুঝেও দ্বিধার কারনে নিজেকে নির্বোধের মতো মনে করে। তখন যেকোনো কিছুই কারোর কাছে শুরুতে ধোয়াসার মতো অনুভব হয়।

কারোর ইচ্ছা পূরণে সাধের চেয়ে সাধ্যের গুরুত্ব বেশি। কাউকে বুঝতে ইতিবাচক মনোভাব সবকিছুর সহজ সমাধান দেবে। তাই কোনো কিছুর প্রতি ভাবনার জায়গায় বিবেচনার মূল্যায়ন করা উচিত।