স্বামী–স্ত্রীর দাম্পত্য সম্পর্কে সবচেয়ে বড় শত্রু কে?

13th September, 2023
49




দাম্পত্য সম্পর্কে সবচেয়ে বড় শত্রু কে?

একেকজনের ক্ষেত্রে এ প্রশ্নের উত্তর একেক রকম। তবে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বিয়েবিষয়ক ওয়েবসাইট ম্যারেজ ডটকম অনুসারে, এই প্রশ্নের সবচেয়ে যৌক্তিক ও গ্রহণযোগ্য উত্তর হলো—তুলনা। নিজের দাম্পত্য সঙ্গীকে অন্যের সঙ্গে তুলনা করা।

স্ত্রী হয়তো অনেক সাধ করে ইলিশের পাতুরি রান্না করে স্বামীর পাতে সবচেয়ে বড় টুকরাটা তুলে দিয়ে আগ্রহ নিয়ে জানতে চাইল, ‘কেমন হয়েছে বলো তো? তোমার পছন্দ বলে ইউটিউব দেখে আজই প্রথম করলাম।’ অমনি স্বামীর বিরস উত্তর, ‘খেতে মন্দ নয়। তবে মায়ের হাতের পাতুরির কাছে টিকবে না।’

এদিকে ফ্যাশনিস্তা শায়লার (ছদ্মনাম) উদ্যোক্তা স্বামী ঘরে–বাইরে সবখানে টি–শার্ট আর প্যান্ট পরে, এমনকি বেড়াতে গেলেও সেই টি–শার্ট আর প্যান্ট। অথচ শায়লার প্রাক্তনের বিজনেস ক্যাজুয়াল লুক, বোহো বা এলিগ্যান্ট ক্ল্যাসিক ফ্যাশন নিয়ে রীতিমতো আলোচনা চলত বান্ধবীমহলে। মুছে ফেলা ছবিগুলোয় কী যে সুন্দর লাগত দুজনকে! অথচ, স্টাইলিশ না হওয়ায় স্বামীর সঙ্গে ছবিই তুলতে ইচ্ছা করে না শায়লার। এ নিয়ে মনে মনে বেশ খেদও আছে।

ওপরের উদাহরণ দুটিকে তুচ্ছ ভেবে অবহেলা করবেন না। তুলনা থেকে তৈরি হয় এমন সব অসন্তুষ্টি, যা একসময় সম্পর্কে বড় ফারাক ডেকে আনে। আর সেই ফাঁকে তৃতীয় পক্ষ ঢুকে পড়তেই পারে। দাম্পত্য জীবনের এমন সব মোড় থেকে দুজনের জীবন দুদিকে বেঁকে যাওয়াটা অসম্ভব নয়।

দাম্পত্য জীবনে ‘পারফেক্ট’ শব্দটা একটা মিথ

আপনি হয়তো ভাবছেন, আপনার বিবাহিত জীবনে ঝামেলার শেষ নেই। অথচ ‘অমুক’ ‘অমুক’ কত সুখী! অনেক ক্ষেত্রেই সত্যিটা হলো, ওদের চেয়ে আপনার দাম্পত্য জীবনেই বরং জটিলতা কম। কেননা, আপনার জীবনের জটিলতা আপনি জানেন, আর আপনার চোখে ভাসছে দাম্পত্য জীবনের কিছু সুখী ছবি বা সুখী চিত্র। আসলে ফেসবুকে ঝাঁ–চকচকে পারফেক্ট কাপল ফটোর মতো পারফেক্ট দাম্পত্য জীবন বলে কিছু নেই। পৃথিবীর কোনো দাম্পত্য সম্পর্কই এক শতে এক শ নয়।

সবচেয়ে সহজে অসুখী হওয়ার রেসিপি, তুলনা

অসুখী হওয়া খুবই সহজ। আর সবচেয়ে সহজ উপায় হলো, তুলনা করতে থাকা। আপনার যদি এই বদঅভ্যাস থেকেই থাকে, সেটাকে ঝেটিয়ে বিদায় করুন। নতুবা আপনি সারা জীবনে জন্য অসুখী হওয়ার দুষ্ট চক্রে পা দিয়ে খেই হারিয়ে ক্রমেই অতল গহ্বরে পড়তে থাকবেন। পৃথিবীতে প্রত্যেক মানুষের মতো প্রতিটি দাম্পত্য সম্পর্কও অনন্য। কোনোটার সঙ্গে কোনোটার তুলনা হয় না। অন্যের দিকে তাকানোর চেয়ে আপনি বরং নিজের ভেতর ডুব দিন। অন্যের সঙ্গে নিজের স্বামী বা স্ত্রীর তুলনা করে কখনো ‘সুস্থ প্রতিযোগিতা’ তৈরি করা যায় না, সবকিছু কেবলই বিষাক্ত হতে থাকে।

রিলেটেড পোস্ট


পরিস্থিতি কারোর প্রকৃতি নির্ধারণ করে থাকে-
পড়া হয়েছে: ১৮৫ বার

মানবিক মূল্যবোধ মানুষের ভেতরের লক্ষণ নির্ধারণ করে থাকে-
পড়া হয়েছে: ৩৪০ বার

মনঃস্তাত্বিক বিষয়গুলো যত্নের সহিত রাখা উচিত-
পড়া হয়েছে: ১৮৯ বার

মজবুত মূল্যবোধ তৈরি করতে চিন্তাশক্তির প্রভাব-
পড়া হয়েছে: ১৮১ বার

নিখুঁত চিন্তার চেয়ে নিজেকে নির্ভুল রাখা উত্তম-
পড়া হয়েছে: ১৮৩ বার

মানুষের স্পষ্টতা তাকে সবকিছুতে মানানসই করে তোলে-
পড়া হয়েছে: ২৯০ বার

মানুষ শুদ্ধতার শেষ স্তরের অনুভব করে থাকে নিজের জন্য-
পড়া হয়েছে: ৪৮৮ বার

মানুষ বাকহীন মূহুর্তে তার ভেতরের কষ্টগুলো কাউকে বোঝাতে পারে না-
পড়া হয়েছে: ২২২ বার

প্রকৃতির স্বচ্ছতা বর্ষায় আর মানুষের স্বচ্ছতা তার চরিত্রে-
পড়া হয়েছে: ১৮২ বার

চিরন্তন সত্য-
পড়া হয়েছে: ৩২১ বার


আরো নিবন্ধন পড়ুন



নিস্বার্থ প্রকৃতির মায়াবী রূপ- Tuesday, 17th October, 2023

নিস্বার্থ প্রকৃতিঃ

জন্মের পর তোমার মায়ের আর প্রকৃতির সাথে এমন একটা সম্পর্ক থাকবে যা তোমাকে নিস্বার্থভাবে পথ চলতে শেখাবে। প্রত্যকেই প্রকৃতি আর মায়ের সাথে আত্মিকভাবে জড়িত। যারা এই সম্পর্কটাকে বোঝে তারাই জানে নিজেকে কোথায় স্থাপন করলে জীবনের সফলতা আর শান্তি বজায় থাকে। কখনো তোমার কিছু চাইতে হবে না, যদি তুমি নিজেকে ভেতর থেকে সচ্ছ প্রকৃতির মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে পারো।

যখন তুমি সবকিছু থেকে হারতে থাকবে তখন ভেতর থেকে নিজেকে শক্ত রাখবা। কারন তোমার জীবনের সবকিছুই ক্ষণিকের। হয়তো এই হেরে যাওয়া তোমাকে অসম্ভব কষ্ট দেবে। কিন্তু এইটাই সেই সময় যখন নিজেকে শক্ত রাখতে পারলে জীবন সুন্দর। তোমার সবচেয়ে দুর্বল মূহূর্তগুলোতে নিজেকে নিরব প্রকৃতির মাঝে ছেড়ে দিবা। দেখবা প্রকৃতি তোমাকে ভালোবেসে আপন করে নেবে। মানুষ তোমাকে কষ্ট দেওয়ার জন্য বেশি সময় নিবে না। কিন্তু প্রকৃতির মাঝে একবার নিজের ভালোবাসা বিলীন করলে, তোমাকে জীবনের শেষ অবধি প্রকৃতি নিজের মায়ায় জরিয়ে রাখবে।

মানুষ তার এক চেহারায় হাজার রূপ দেখায় যায়। কিন্তু প্রকৃতি তার হাজার রূপের মধ্যেও তোমাকে একভাবে আপন করে যাবে। যদি তুমি প্রকৃতিকে বুঝতে পারো, তাহলে কোনো কিছুর জন্য তোমার নিজেকে থামিয়ে রাখার প্রয়োজন হবে না। মানুষ তোমাকে পেঁছোতে বাধ্য করবে আর প্রকৃতি তোমাকে চলতে শেখাবে। এখন সিদ্ধান্ত তোমার। অল্প সময়ের জীবনে চাওয়ার পরিমান বেশি হওয়ায় সামান্য জিনিসটা পেতেও প্রয়োজনের চেয়ে অতিরিক্ত সময় লেগে যায়। এইজন্য জীবনে নিজেকে জেতাতে নয় অর্জন করতে শেখাও। তাহলে না পাওয়া জিনিসটাও একসময় তোমার হয়ে যাবে।

তুমি তোমার জন্য নিজেকে রাখো, পুরো পৃথিবী তখন তোমার। যেকোনো মোহকে একবার ত্যাগ করে দেখো বাস্তবতা তোমার। অল্প সময়ের পৃথিবীতে একবার সৎ হয়ে দেখো পুরো পরিস্থিতি তোমার। নিজে নিজের ভরসা হও, হেরে গেলেও উঠে দাঁড়ানোর শক্তি পাবা। না পাওয়ার শব্দটা জীবন থেকে মুছে দেখো, তখন পাওয়ার অভাব হবে না। পেতে শুরু করলে নিজেকে স্বাভাবিক রেখো কোনো কিছু হারিয়ে যাবে না।

কষ্টের মাঝে রোমান্টিক গল্প............. Sunday, 07th January, 2024

উহ....

 --- কিরে কিভাবে পড়ালা?

 আরে সেন্ডেলটা সিলিপ কেটে গেছে।

  -- দেখতো কত খানি কেটেছে!

 -- (চোখ বড় বড় করে) একটু হুস করে কাজ করা যায় না। বলেই জানাকে চেয়ারে বসিয়ে ওর রুমালটি দিয়ে কাঁটা জায়গায় চেপে ধরল সাফিন।

  নাহ, অনেক খানি কেটেছে, রক্ত ঝরছে।

  এক ঝাটাকায় ড্রয়ের থেকে ফার্স্ট এইড বক্সটা বের করলো সাফিন। তড়িঘড়ি করে রক্ত বন্ধ করার জেলটা ডলে দিলো পায়ে। আসতে আসতে কাঁটা জায়গার চারপাশ স্যাভলন দিয়ে পরিষ্কার করলো। ব্যেন্ডেজ করতে লাগলো আস্তে আস্তে সে।

  ... সাময়িকের জন্য পুরো ঘরে নিরবতা।

 জানার কষ্ট হচ্ছে, বুঝতে পেয়ে ওর চোখের দিকে তাকাতে সাহস করছে না সাফিন।

  খুব ইমোশনাল ছেলে সাফিন। কারো কষ্ট পাওয়া দেখলেই চোখে জল এসে যায়। আর জানা ত আপন মানুষ, ওর জীবন। ওকে কষ্ট পেতে দেখতে ওর সহ্য হয় কি করে!

  ... এই ত মাস খানেক হোল ওদের বিয়ে হয়েছে।

 ৬ বছরের প্রেম ছিলো ওদের, অনেক ঝড় ঝাঁপটা পেড়িয়ে, শেষে দুইজনের প্রবল আগ্রহ আর সবার সম্মতি ক্রমেই ফ্যামিলি গত ভাবে বিয়ে হয় ওদের। বেশ সুখেই কাটছে তাদের দিন গুলো, টোনাটুনির ছোট্ট সংসার।

  কি যে মিল ওদের বলে বুঝানো যাবে না। না দেখে মোবাইলে পরিচয়, কিছু দিনের মাঝেই বন্ধুত্ব। প্রায় টানা ১ বছর কথা বলার পর সাফিন প্রথম বুঝতে পারে, সে জানাকে ভালোবেসে ফেলেছে... এখন আর পিছনে ফিরে যাওয়ার সুযোগ নাই, যে কোন মূল্যে তাকে পেতে হবে।

  কিন্তু জানাও সাথে সাথে সাড়া দেয়নি, বাবা না থাকায় কিছুটা ফ্যামিলির জন্য পিছু টান ছিলো, অনেক বাধা বিপত্তি ছিলো। আস্তে আস্তে সাফিনের ভালোবাসার জোরেই সেও ভালোবাসতে শুরু করে সাফিনকে। পরবর্তিতে আল্লাহ ই সব কিছু ঠিক করে দিয়েছিলো।

  রক্ত পরা কমে গেছে। সাফিন ব্যান্ডেজ করতে লাগলো।

  জানাঃ জানো! তুমি ছুঁয়ে দিলে কেন জানি ব্যথা গুলো আর থাকেনা।

 -- সাফিন না, থাক অনেক হয়েছে... আর ব্যথা পাওনি ভাব করতে হবে না। আমি তুমাকে কষ্ট পেতে দেখতে চাইনা বলে, এভাবে বলার প্রয়োজন কি! যোগ করলো সাফিন।

  জানা হুহ... যাও তুমার সাথে কথা নাই।

 -- সাফিনঃ কই ও না কথা, আমার কি! মুচকি হাসি।

  হুম, কষ্টের মাঝেও রোমান্টিকতা। ভালোবাসার মানুষটি যদি হয় সারাজীবনের সঙ্গী, তাহলে ত কথা ই নাই প্রতিটা দিনকেই আলাদা আলাদা করে ভাবুন। সত্যি বলছি, বোরিং ফিল আসবে না, ভালবাসার মানুষকে পাবেন নতুনরুপে।

  জীবন হবে সুন্দর।