পৃথিবীর যত সুখ..............,......

07th January, 2024
97




অ্যাই, শুনছো? অ্যাই! ঘুম ভাঙছে না বুঝি?

নীলার কানের কাছে প্রায় ফিসফিস

করে পাঁচ মিনিট ধরে ডেকে যাচ্ছে অনিক।

কিন্তু ভালোবাসা মাখা সেই ডাক যেন

কানেই যাচ্ছে না নীলার।

শরীরটা ভালো না তার। তাই হঠাৎ

করে তাকে ডেকে তুলতে চাচ্ছে না অনিক।

মাথায় হাত বুলাতে বুলাতে আরেকবার

ডাকায় আস্তে করে চোখ মেললো নীলা।

অনিকের মুখে হাসি ফুটলো। প্রতিদিন

সকালে নীলার ঘুম থেকে ওঠার

দৃশ্যটা সে কখনোই মিস করে না। কেন যেন

এই দৃশ্যের মাঝেও অনেক মানসিক

শান্তি খুঁজে পায় সে।

আমাকে যে অফিসে যেতে হবে! বলল

অনিক।

ওহ! কয়টা বাজে?

প্রায় সাতটা।

ও।

মনটা আবার খারাপ হয়ে গেল অনিকের।

নীলা কিছুই বললো না। ওর শরীরটা আসলেই

ভালো না। অন্যান্য দিন এমন সময়

নীলা ব্যস্ত

হয়ে দৌড়াদৌড়ি করে অনিকের জন্য

নাস্তা রেডি করে। অনিকও যতোটা সম্ভব

নীলাকে কাজে সাহায্য করে। কিন্তু আজ

নীলার শরীর খারাপ বলে তাকে আর

ডাকেনি অনিক। যাবার

মূহুর্তে বলে যাওয়ার জন্যই

ঘুমটা ভেঙ্গেছে নীলার।

আমার আজকে অফিসে যাওয়া একদমই উচিৎ

নয়, কিন্তু আজ এমনই কিছু কাজ

আছে যে না গিয়েও পারছি না, মন খারাপ

করে কৈফিয়তের সুরে নীলার কানের

কাছে বললো অনিক।

নীলা তার দিকে না তাকিয়েই ক্ষীণ

কণ্ঠে বললো, সমস্যা নেই, তুমি যাও।

তার দিকে কিছুক্ষণ

তাকিয়ে থাকলো অনিক। আর দুই-এক মিনিট,

তারপরই নীলা পুরোপুরি সজাগ হয়ে উঠবে।

সেই দুই মিনিট সময় পার করলো সে নীলার

মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে।

শোনো, আমি নাস্তা তৈরি করে গেছি,

তুমি ঠিক এক ঘণ্টা পর আটটায়

বিছানা থেকে উঠবে। ফ্রিজে ব্রেড

রাখা আছে। আমি জেলি দিয়ে রেখেছি,

তুমি খেয়ে নিও। আর খাওয়া শেষে পুরো দুই

গ্লাস পানি খাবে।

পানি খেয়ে সোজা বিছানায় যাবে।

কোনো কাজের বাহাদুরি দেখাতে হবে না,

বুঝেছো? প্রায় যেন আদুরে ধমক

দিলো অনিক।

তার এই আচরণের সঙ্গে পরিচিত নীলা।

সে একটু হেসে বললো, আচ্ছা ঠিক আছে।

অনিক বলে চললো, দুপুরের ভাতও

আমি রান্না করে রেখেছি। তরকারি কাল

রাতেরটাই আছে, আর রান্নার দরকার

হবে না। আমি ফোন

করে তোমাকে ডেকে দিবো যদি ঘুমিয়ে

থাকো। দুপুরে কিন্তু অবশ্যই

খেয়ে নিবে সোনা। তোমার

শরীরটা ভালো না। না খেলে কিন্তু শরীর

আরো খারাপ হবে।

খাওয়া নিয়ে বরাবরই নীলার উপর

জবরদস্তি করতে হয় অনিককে। আজ

সে বাসায় থাকতে পারছে না, নীলার

শরীরও খারাপ, তাই

নীলাকে বুঝিয়ে বলছে অনিক

যাতে মেয়েটা খাবার ফাঁকি না দেয়

কোনোভাবেই।

আর শোনো, তোমার ঘুম না আসলে টিভির

রিমোট তোমার কাছে রেখে গেলাম,

টিভি দেখো। গান

শুনতে ইচ্ছে করলে ল্যাপটপও

রেখেছি খাটের পাশেই। স্পিকারে লাইন

দেয়া আছে ল্যাপটপ থেকেই গান

চালাতে পারো। তবে কম্পিউটারের

সামনে বসে থাকবে না কিন্ত।

তাহলে শরীর আরও খারাপ করতে পারে।

আর কোনো কাজ করতে যাবে না।

এমনকি খাওয়ার পর

মাতব্বরি করে প্লেটটাও

ধুয়ে রাখতে হবে না।

নীলা বললো, আমাদের কি আর কাজের

লোক আছে নাকি যে সে এসে ধুয়ে রাখবে?

কাজের লোক থাকা লাগবে না। আমিই

এসে ধুয়ে রাখবো। তোমার শরীর খারাপ

তুমি এগুলো ছোঁবেও না। ঠিক আছে?

মাথা নাড়লো নীলা। অনিক বলে চললো,

তোমার খরগোশগুলোকে খাবার

দিয়ে রেখেছি। ওগুলো নিয়েও আপাতত

চিন্তা করতে হবে না। কেউ

এলে দরজা খোলার দরকার নেই। কেউ

আসবে না আজ। পরিচিত কেউ

আসলে দরজা না খুললে ফোনই করবে। ফোন

রিসিভ করলেই বুঝতে পারবে। বেল শুনেই

দরজার দিকে দৌড় দেবে না। বুঝেছো?

এবারও মাথা নাড়লো নীলা। তার ঠোঁটের

হাসিটা নজর এড়ালো না অনিকের। অনিক

নীলার গালে ছোট্ট একটা চুমু খেয়ে বললো,

এবার তাহলে আমি যাই সোনামণি।


তুমি কিন্তু ঠিক

যেভাবে বলেছি সেভাবে থাকবে।

কোনো কাজে হাত দেবে না। খুব

সাবধানে থাকবে। ঠিক আছে?

নীলার ঠোঁটটা নড়লো। কী বললো ঠিক

শুনতে পেলো না অনিক। তার ঠোঁটের

সামনে কান পেতে নীলাকে আবার

জিজ্ঞেস করতেই নীলা বললো, যাই না,

বলো আসি।

হাসলো অনিক। মেয়েটা সবসময়ই তার এই

ভুলটা ধরে। আচ্ছা জান আসি। এবার

হয়েছে?

হাসিমুখেই এবার মাথা নাড়লো নীলা।

অনিক তার কপালে একটা চুমু

খেয়ে উঠে দাঁড়ালো। তার সত্যিই আজ মন

সায়

দিচ্ছে না নীলাকে এভাবে একা রেখে

অফিসে যেতে। কিন্তু কিছু করার নেই, আজ

তাকে যেতেই হবে। ভয়াবহ

কোনো দুর্ঘটনা না ঘটলে আজকের অফিস

এড়ানোর কোনো সুযোগ নেই।

শেষবারের মতো নীলার

দিকে তাকিয়ে বিষণ্ন

মনে বাসা থেকে বের হলো অনিক।

*

সকাল ৮টা।

নীলার ফোনটা বাজছে। তিনবার

রিং হওয়ার পর রিসিভ করলো নীলা।

ওপাশ থেকে রাস্তার গাড়ি আর হর্নের শব্দ

ভেসে এলো প্রথমেই। তারপর

শোনা গেলো অনিকের গলা, নীলা,

উঠেছো সোনা?

উমম, স্পষ্ট করে কিছু বললো না নীলা।

তবে অনিকের

বুঝে নিতে অসুবিধা হলো না।

শোনো জান, এক্ষুণি উঠে পড়ো। মুখ

ধুয়ে ফ্রিজ থেকে ব্রেড খাও কয়েকটা।

তারপর দুগ্লাস পানি খাও। তারপর

ওষুধটা খেয়ে নেও। আমি তোমার বালিশের

নিচেই ওষুধের পাতাটা রেখে এসেছি।

আচ্ছা উঠছি, ঘুম জড়ানো কণ্ঠে বলল

নীলা।

আচ্ছা উঠছি না সোনা, এক্ষুণি উঠো।

ওষুধটা সময়মতো খেতে হবে না? উঠে পড়ো।

আমি থাকলে তো আমিই খাইয়ে দিতাম।

আমি নেই বলে কি একটু কষ্ট

করে ওষুধটা খাবে না?

আচ্ছা যাচ্ছি।

অনিকের খুশি হওয়াটাও যেন

শুনতে পেলো নীলা। খুব ছোট্ট ছোট্ট

ব্যাপারে অনিক খুব খুশি হয়। এগুলো নীলার

ভালো লাগে, অবাকও লাগে। তবে ভালোই

বোধহয় বেশি লাগে। তাই

খুশি হওয়াটা বুঝতে পেরেই যেন

শোয়া থেকে উঠলো নাস্তা করতে।

মুখ ধুয়ে ফ্রিজ

খুলে ব্রেডগুলো দেখতে পেলো নীলা।

হাতে নিয়ে আনমনেই হেসে উঠলো।

পাউরুটিগুলোর উপর

জেলি এতো মসৃণভাবে মাখিয়েছে অনিক

যেন কোনো মেশিন দিয়ে লাগানো। অথচ

নিজে খায় সময় যে কীভাবে জেলি লাগায়

অনিক!

খাওয়ার সময় খুব একা লাগলো নীলার।

প্রতিদিন সে আর অনিক

একসঙ্গে নাস্তা করে। প্রতিদিনই অনিক

একশো একটা বাহানা দেখিয়ে নিজের শেষ

পিসটা নীলাকে খাইয়ে দেয়।

ভাবটা দেখায় সে অনেক

ভালোবাসে বলে নীলাকে এভাবে খাওয়ায়।

কিন্তু নীলার মনে হয় অনিক

খাওয়া ফাঁকি দেয়ার জন্যই এটা করে।

অনেকবার প্রতিবাদ করেও কোনো লাভ

হয়নি। ছেলেটা এতো আদর করে সাধে,

না খেয়েও পারে না নীলা। অথচ অন্য

কারো সাথে এতোটা মিশে কথা বলতে পারে

না সে। যেন কেবল নীলার সাথেই

সে এতো দুষ্টুমি করে, অন্য কারো সঙ্গেই

পারে না।

ফোনের দিকে চোখ পড়তেই ভাবলো,

কী ঝামেলার মধ্যে থেকে ফোন

করেছে অনিক কে জানে।

হয়তো বাসে ঝুলে দাঁড়িয়ে ছিলো।

গাড়ি কেনার ইচ্ছে থাকলেও সামর্থ্য

হয়নি। তাই আর দশজন মানুষের মতোই

তাকে যাতায়াত করতে হয়।

তা যে কী ভয়াবহ অবস্থা সেটা নীলার

অজানা নয়। এতোকিছুর মাঝেও

কীভাবে অনিক ফোন করলো, কে জানে!

*

দুপুর ১টা।

এরই মাঝে আরও দুবার ফোন করেছে অনিক।

একবার নীলা ঘুমিয়ে ছিল। আরেকবার

টিভি দেখছিল। কিন্তু ঠিক ১টায় অনিক

ফোন করলো যখন নীলা রান্নাঘরে সিঙ্কের

সামনে দাঁড়িয়ে ভাবছে প্লেটগুলো ধুয়ে

ফেলবে কি না।

নীলার শরীরটা খারাপ লাগছিল

বলে রাতে খাওয়ার পর প্লেটগুলো আর

ধুয়ে রাখা হয়নি। নীলা না করলে অনিকই

সাধারণত এসব কাজ করে ফেলে। কিন্তু

নীলার শরীর রাতে আরও বেশি খারাপ

ছিল বলে অনিক অন্য কাজ বাদ

দিয়ে নীলার পাশেই বসে ছিল। কখন

ঘুমিয়েছে জানে না, মাঝরাতে কেবল

একবার ঘুম ভেঙ্গে নীলা দেখেছে অনিক

নীলার একটা হাত

জড়িয়ে ধরে ঘুমিয়ে আছে।

কী করছো নীলা?

কিছু না।

শুয়ে আছো?

না।

তাহলে কোথায়?

রান্নাঘরে।

খিদে পেয়েছে?

হ্যাঁ, আমি খেয়ে নিয়েছি। তুমি কিন্তু

ভাত নরম করে ফেলেছো।

ওহ তাই নাকি? সরি! খেতে পেরেছো?

নাকি বেশি নরম হয়ে গিয়েছিলো? আমিও

যে কেন ভাত

বসিয়ে ব্রেডে জেলি লাগাতে গিয়েছিলাম!

অনিককে অপ্রস্তুত

হতে দেখে হাসতে লাগলো নীলা।

আরে বোকা ভাত ঠিকই আছে।

আমি মজা করছিলাম তোমার সাথে। কিচ্ছু

বুঝে না। বুদ্ধু।

অনিকও লাজুক হাসি হাসলো।

নীলাকে হাসতে শুনে তার খুবই

ভালো লাগছে। মেয়েটার শরীরের অবস্থার

উন্নতি ঘটেছে তাহলে।

*

দুপুরের পর থেকে আরও পাঁচবার ফোন দেয়ার

পর ছয়বারের বেলায় নিজেই

ঘরে এসে উপস্থিত হলো অনিক।

দরজা খুলে দিলো নীলা। প্রথমেই

তাকে জিজ্ঞেস করলো অনিক, কেমন

আছো? তোমার শরীরটা কেমন এখন?

গায়ে হাত দিয়ে দেখলো জ্বর আছে কি না।

নীলা বললো, তুমি যা শুরু করেছো, রোগ

এসে শান্তি পায় নাকি? চলে গেছে।

হাসলো অনিক। বলল, ভালো হয়েছে। রোগ

দুনিয়ার আর মানুষ পেলো না, না? আমার

নীলামণিকেই ধরতে হবে? ঝেঁটিয়ে বিদায়

করে দিবো রোগকে!

তুমি আমাকে ঝেঁটিয়ে বিদায় করবে?

প্রায় কাঁদো কাঁদো ভঙ্গিতে বললো নীলা।

আরে না জান,

তোমাকে কি আমি ঝেঁটিয়ে বিদায়

করতে পারি? রোগকে বিদায় করবো।

তুমি তো আমার কাছেই থাকবে।

তুমি আবার কই যাবে?

যেমনি হঠাৎ করে কাঁদার ভঙ্গি করেছিল,

তেমনি হঠাৎ করেই হেসে নীলা বললো,

কোথাও না।

নীলার এই ছেলেমানুষী অনিকের অনেক

ভালো লাগে।

*

রাতে খাওয়ার পর।

বিছানায় এসে শুয়ে পড়েছে নীলা। অনিক

কিছুক্ষণ ল্যাপটপে কাজ করলো।

নীলা শুতেই সে ল্যাপটপ রেখে নীলার

দিকে মনোযোগ দিলো। জিজ্ঞেস করলো,

এখন তোমার শরীর কেমন? ভালো লাগছে?

হ্যাঁ, মনে হচ্ছে এখন আমি সুস্থ।

মনে হলেই চলবে না। ওষুধ

দিয়েছে ডাক্তার, কোর্স শেষ করতে হবে।

অ্যাঁ, আমি ওষুধ খাবো না।

খাবে সোনা, হাঁ করো।

না করবো না।

না করলে কিন্তু আজ আমি নিচে ঘুমাবো।

আমিও নিচে ঘুমোবো।

জ্বী না, তুমি আমার

সাথে শুতে পারবে না।

আমি ছাদে গিয়ে ঘুমাবো।

আমিও তোমার

সাথে ছাদে গিয়ে ঘুমাবো,

খুশি খুশি গলায় বললো নীলা।

ছাদে গেলে তোমাকে ভতে ধরবে।

ইশ, ধরবে না। ভত

ধরতে আসলে তুমি আছো না?

আমি কী করবো?

তুমি আমাকে ভত থেকে বাঁচাবে,

বলে অনিককে জড়িয়ে ধরলো নীলা।

সেটাই তো করছি। নাও ওষুধটা খাও।

হেরে গিয়ে চুপচাপ কিছুক্ষণ অনিকের

দিকে তাকিয়ে রইলো নীলা। চুপচাপ

ওষুধটা খেয়ে নিয়ে অনিকের

বুকে মাথা রাখলো। অনিক,

তুমি আমাকে এতো ভালোবাসো কেন?

কারণ, তুমি শুধু আমার।

তুমি এতো চিন্তা করো কেন

আমাকে নিয়ে?

তাহলে কাকে নিয়ে চিন্তা করবো? আমার

তুমি ছাড়া আর কেউ তো নেই। যারা আছে,

তারা তো আমাকে তোমার

মতো করে বুঝে না।

হুম।

আর তোমার শরীর খারাপ।

আমি তো অফিসে গিয়েছিই, কিন্তু

মনটা সারাদিন পড়ে ছিল তোমার কাছে।

কেবলই মনে হচ্ছিল কখন তোমাকে দেখবো।

নীলার চুলে বিলি কাটতে শুরু করলো অনিক।

নীলা বললো, আজ আমাদের বিয়ের

কতোদিন হয়ে গেছে, তাই না?

হুম। অনেক বছর।

তুমি কি আজও আমাকে আমাদের সেই

স্টুডেন্ট লাইফে যেমন ভালোবাসতে, তেমন

ভালোবাসো অনিক?

তোমার কী মনে হয়?

জবাব দিলো না নীলা। সে জানে, অনিক

তাকে খুব ভালোবাসে। বিয়ের

এতোগুলো বছর পরও আজ তাদের

কোনো সন্তান নেই। ভবিষ্যতেও না হওয়ারই

সম্ভাবনা বেশি। অবশ্য আর ভবিষ্যত

কীসের। তাদের জীবনকালও প্রায় শেষই

হয়ে আসছে। অনিক সবসময়ই বলে, তার

জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি এই নীলা।

কথাটা যে সত্যি তা নীলা জানে।

হয়তো তার জীবনেরও শ্রেষ্ঠ প্রাপ্তি তার

স্বামী, অনিক। কিন্তু

সে কখনো এটা বলেনি। মেয়েরা কেন যেন

মনের কথা চেপে রাখতেই বেশি পছন্দ

করে।

নীলা জানে অনিক তাকে ভালোবাসে।

তারা বিবাহিত দম্পতি। এতোগুলো বছর পর

এখনো নীলার প্রায়ই মনে হয় যেন

তারা সবে প্রেমে পড়েছে। যেমনটা ঠিক

এখন তার মনে হচ্ছে। অনিকের মনের

কথা শুনতেই যেন তার বুকে নিজের কান

আরও চেপে ধরলো নীলা।

আর অনিক তখন

ভাবলো নীলা ঘুমিয়ে পড়েছে।

সে হেডফোন কানে লাগিয়ে তার প্রিয়

গানগুলোর একটা শুনতে শুরু করলো।

গানটা তার প্রিয়, কারণ কথাগুলো যেন

ঠিক তার মন থেকে আসা। নীলার মাথায়

হাত বুলাতে বুলাতে চোখ বন্ধ করে নিজের

মনের কথাগুলো নিজেই

শুনতে থাকলো অনিক।

পৃথিবীর যত সুখ, যত ভালোবাসা,

সবই যে তোমায় দেব, একটাই এই আশা,

তুমি ভুলে যেও না আমাকে,

আমি ভালোবাসি তোমাকে।

ভাবিনি কখনো, এ হৃদয়ে রাঙানো

ভালোবাসা নেবে তুমি,

দুয়ারে দাঁড়িয়ে, দুবাহু বাড়িয়ে,

সুখেতে জড়াবো আমি।

সেই সুখেরই ভেলায়

ভেসে স্বপ্ন ডানা মেলব হেসে,

এক পলকে পৌঁছে যাব,

রুপকথারই দেশে।

তুমি ভুলে যেও না আমাকে

আমি ভালবাসি তোমাকে ।।
 


আরো নিবন্ধন পড়ুন



উপেক্ষাকৃত চিন্তার পরিপ্রেক্ষিতে সাময়িক মূল্যায়ন পর্যালোচনা- Thursday, 28th December, 2023

বিশিষ্টতার সাময়িকীকরণঃ

একবারে হয়তো কোনো কিছু সম্ভব না। কিন্তু ধীরে ধীরে কোনো কিছুই অসম্ভব নয়। প্রত্যেকবার করা যেকোনো কর্মের উপরই ঠিক ভুলের পার্থক্য বোঝা যায়। যার কারণে ইতিবাচক এবং নেতিবাচক দিক দিয়ে যেকোনো কিছু যাচাই করা উচিত; সঠিক টা খুঁজে বের করার জন্য। যখনই কেউ অল্প করে সবকিছুর পার্থক্য করতে শিখবে। তার পরবর্তী মূহুর্তের শুরু থেকেই, যেকোনো কিছুর স্পষ্টতা সেইসব ব্যক্তির মধ্যে দৃষ্টান্ততা তৈরি করবে। যখন অটুট মস্তিষ্ক আর দৃঢ় মনোভাব তাকে প্রতিনিয়ত নতুনভাবে যেকোনো কিছুর মধ্যে মানানসই করে তুলবে। মানুষ নিজ থেকে সহজে ভুল করে না। পরিস্থিতির জড়তা কারোর মধ্যে চাপ সৃষ্টি করে তাকে বিভ্রান্ত অনুভবে যেকোনো কিছু গুলিয়ে ফেলায়। কিন্তু প্রত্যেকটা মূহুর্তে নিজেকে শান্ত রাখার চেষ্টা করা উচিত। যার সবচেয়ে সুন্দর সমাধান মেডিটেশন। কেউ যেকোনোভাবে মেডিটেশন করতে পারে। তবে তার জন্য সঠিক স্থান নির্বাচন নিজের দায়িত্ব। সঠিকভাবে মেডিটেশনের মাধ্যমে কেউ ধীরে ধীরে তার মধ্যে আবদ্ধ হতে থাকে। তখন যেকোনো মুহুর্তে সে ইচ্ছামতো নিজের মধ্যে পরিবর্তন আনতে পারে।

যেসব ব্যক্তি প্রচুর মানসিক চাপ নিয়ে থাকে কাজের জন্য। তারা যেকোনো পরিস্থিতিতে নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে একটু হিমসিম খেয়ে যায়। যা নিয়ন্ত্রণ করার সহজ কিছু পর্যায় আছে। যেমন- কখনো যদি এমন হয় যে, কাজের খুব চাপ সাথে পরিবারের। কিন্তু সময় নির্ধারণ করেও কাজের কারণে পরিবারের জন্য সময় বের করা অনেকটা কঠিন হয়ে যাচ্ছে। তখন তোমার নিজেকে নির্ধারণ করা উচিত পরিস্থিতিভেদে। কারণ কিছু মূহুর্তের সময়ের পরিকল্পনা ব্যর্থ হয়ে যায় ভেতরের অনীহার কারণে। তাই সর্বপ্রথম নিজের সাথে নিজেকে মানায় নেওয়ার চেষ্টা করা উচিত। কারণ তুলনামূলকভাবে যেকোনো পরিস্থিতির সবচেয়ে বড় সমাধান তুমি নিজে। তাই কোনো মাধ্যম ছাড়া নিজের ভালোলাগা-খারাপলাগা নির্ধারণ করার চেষ্টা কর। সবসময় সুন্দর চিন্তা করো। নিজের অনুভূতিগুলো খুঁজে বের করার চেষ্টা করো নিশ্চুপে। কিন্তু সবকিছু মধ্যের পবিত্রতা তোমার মধ্যে স্বচ্ছতা তৈরি করবে। যা তোমার বিভ্রান্তি নির্মূল করবে। যখন তুমি এই বিষয়গুলো নিজের অভ্যাসে পরিণত করতে পারবা। তখন তোমার কাছে কোনো কিছুই আর ছোট বড় মনে হবে না। যেকোনো কিছুই মানবিক অনুভবে সুন্দরভাবে মূল্যায়ন করতে পারবা নিজের স্বচ্ছতায়।

মানুষ নিজের পবিত্রতায় সবকিছুর চেয়ে বেশি মূল্যবান। কিন্তু সঠিক পর্যালোচনা ছাড়া যেকোনো কিছুই মরীচিকার মতো। জীবনে সময়ের আগে আসবে আবার চলে যাবে। তাই ব্যক্তিগত সব বিষয়ের সাথে ব্যক্তিত্ব জড়িয়ে রাখা উচিত। কিন্তু ব্যক্তিগত বিষয়গুলোর মধ্যে কাউকে না জড়ানোই ভালো। কারণ মানুষের আশা সবক্ষেত্রে তাকে নিরাশ করবে। কিন্তু একমাত্র কোনো মানুষই নিজের জন্য নিজের সাফল্যের সর্বোত্তম পর্যায় হয়ে থাকবে ক্ষণস্থায়ি এবং চিরস্থায়ীভাবে। জীবনের ভুলগুলো শোধরানো সম্ভব। যদি কেউ প্রত্যেকটা মানুষকে ভেতর থেকে সম্মান করে। আর নিজের জন্য নিজের বাঁধিত করতে পারে।

‌শিশুর যত্ন প্রায়ই দেখি, Thursday, 23rd November, 2023
প্রায়ই দেখি, কারো ছোট্ট বাচ্চাকে কেউ কোলে নিয়ে চুমাচুমি শুরু করে দেয়, যেটা এক ধরনের বিশ্রী রকমের অভদ্রতা। হতে পারে, চুমু দেয়া মানুষটি মুখের হাইজিন ঠিকমত মেইনটেইন করেন না, অথবা বাইরে থেকে এসে মুখটুখ না পরিষ্কার করেননি অথবা পান বিড়ি সিগারেট খান। যা থে কে বাচ্চার জন্য হতে পারে নিদারুণ ক্ষতি। আবার চুমু দিতে না দিলেও মনে হয় না জানি কি পাপ করে ফেললেন। শিশুর এমনিতেই রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকে, এর মধ্যে এইসব হলে তার দায়ভার কি তিনি নিবেন?? না বাবা/মা পারবে তাকে ব্লেম করতে, না তিনি নিজে ব্লেম নিবেন। ভালো হয়, এইসকল চুম্মাওয়ালা মানুষের কোলেই বাচ্চাকে না দেয়া। কোলে দেয়া পর্যন্ত মেনে নেয়া গেলেও, বাকিটা নয়। সেটা বাচ্চাকে কোলে দেয়ার সময়ই তাকে বলে দেয়াটাও বাবা/মা এর দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। শিশুদের যত্ন নিন ভালো থাকুন.
প্রত্যেকের জীবনে সত্যতার তাৎপর্য কতটুকু- Wednesday, 15th November, 2023

সত্য মিথ্যার পার্থক্যঃ

প্রত্যেকেই পূর্ব বিবেচনায় চলতে থাকে, প্রয়োজনীয় গন্ত্যব্যে না পৌঁছানো অবধি। কিন্তু সময় নির্ধারণ করে গন্তব্যে পৌঁছানোর পর তাকে কোন পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হবে। আবার কেউ যদি সবসময় সবার সাথে মিলেমিশে থাকে। কিন্তু প্রয়োজনে অপ্রয়োজনে মিথ্যার আশ্রয় নেয়। হয়তো সময়ের সাথে অনেকের কাছে অপ্রকাশ্যেই তার পরিচিতি আবছা হয়ে যাবে। এককথায় সবার মাঝেও থেকে অস্তিত্বহীন জীবনযাপন করা। মিথ্যা সাময়িকের সঙ্গী। কিন্তু সত্য পর্যায়ক্রমে কঠিন হলেও চিরস্থায়ী। মানুষ ক্ষণিকের সুখে আকৃষ্ট হয় বেশি। তাই সময়ের সাথে তারা মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে থাকে। যার কারনে কখনো সত্য বলতে গেলেও তাদের ভেতরে জড়তা কাজ করতে থাকে।

জীবনের শুরু থেকে যেমন কেউ স্থির হতে পারে না। তেমনি কিছু সময়ের দুর্বলতা না চাইতেও কাউকে একসময় শান্ত করে দেয়। তখন যেকোনো কিছু অস্বাভাবিক লাগলেও আস্তে আস্তে সবকিছুই অভ্যসে পরিণত হয়। পৃথিবীতে অনুসরণকারী ব্যক্তির সংখ্যা বেশি। যেজন্য কারোর জীবনের বেশিরভাগ সময় অনুসরণ করতে গিয়েই চলে যায়। কিছু জিনিস যেমন চাইলেও কখনো পুরোনো হয় না। তেমনি নতুন কোন কিছু হয়তো আকৃষ্টহীনতার কারণে শুরু থেকেই পুরোনো অনুভব হয় কারোর কাছে। অনেক সময় কিছু জিনিসের মূল্য দেরিতে আসলেও সেটা চিরস্থায়ী। কারণ সময় বদলালেও বিষয়টা সবসময় এক রকম থেকে যায়। যার কারনে বিয়টার স্থায়িত্বের ওপর কোনো সন্দেহ থাকে না।

প্রত্যেকের জীবনেই সময়ের সাথে আড়ালের বিষয়গুলো বাড়তে থাকে। যার কারনে তারা সবকিছু বুঝেও দ্বিধার কারনে প্রত্যেকটা বিষয়কে গুলিয়ে ফেলে। কিন্তু একটা সময়ের পর তারাই নিজেকে সবচেয়ে বেশি পরিবর্তন করে থাকে। জীবনে সত্যতার চেয়ে মিথ্যার প্রভাব বেশি। যার কারনে সময়ের সাথে তারা মিথ্যার আশ্রয় নিতে নিতে জীবনের সত্যতা হারিয়ে ফেলে। কখনো সত্যতা ফিরে পেলেও তার জীবনের মিথ্যার প্রভাবকে কখনো কাটিয়ে উঠতে পারে না। সময় মানুষকে কোন কিছু পরিবর্তনে সাহায্য করলেও বিষয়গুলোর পরিচালনা যার যার নিজের করতে হয়। মানুষের ভাবনার শেষ নেই। কিন্তু সীমাবদ্ধতা আছে। যার কারণে সমাপ্তিতেও নতুনের প্রাদুর্ভাব দেখা যায়।

মানুষের ছোট জীবনেরও প্রভাব অনেক বেশি। যার কারনে প্রত্যেকেরই সময়ের সাথে বিবেচনা করে চলা উচিত। তাহলে হয়তো তার জীবনে আক্ষেপের অবশিষ্ট কোনো রূপ থাকে না। নদীর কিনার যেমন অসীমের সংক্ষিপ্ততা প্রকাশ করে। তেমনি কারোর জীবনের প্রতি বিবেচনা তার সংক্ষিপ্ত সময়ের অসীম প্রভাব বিস্তার করে পৃথিবীতে। যা কারোর জীবনের সমাপ্তিতেও তার অস্তিত্ব বজায় রাখে সময়ের প্রতি। সঠিক ভুলের মধ্যেই প্রত্যেকের জীবন অতিবাহিত হয়। কারোর জীবনের পার্থক্য থাকলেও সময়ের উপর সবকিছু নির্ভর করে। যেজন্য আত্মরক্ষার্থে মায়ার জালেও সবাইকে ছুটতে হয় মোহ কাটিয়ে। নিজেকে বাদ দিয়ে যেকোনো বিষয় মেনে নেওয়া ভালো জীবনের জন্য। কিন্তু কিছু সময় অতিবাহিত জীবনকেও নিয়ন্ত্রণ করা দরকার। ভুলের প্রভাব কাটিয়ে ওঠার জন্য।

জীবন সংক্ষিপ্ত কিন্তু কারোর কর্মের প্রভাব তার জীবনের বিস্তারিত রূপ প্রকাশ করে। তেমনি কোনো কিছু পরিচালনা সহজ কিন্তু ব্যাবস্থাপনা সবকিছুর পূর্ণতা আনে। শেষের সীমাবদ্ধতায়ও অসীম কিছু অপেক্ষা করে। যা সময়ের সাথে কাউকে চাওয়ার অতিরিক্ত পেতে সাহায্য করে।

মানুষ বাকহীন মূহুর্তে তার ভেতরের কষ্টগুলো কাউকে বোঝাতে পারে না- Tuesday, 28th November, 2023

জীবনের অসম্পূর্ণতা সবকিছুর মাঝেও মানুষকে নিঃশেষ করে যায়ঃ

একটা মানুষের জীবনের পূর্ণতা তখনই আসে, যখন সে নিজের প্রত্যেকটা বিষয়েই সন্তুষ্ট থাকে। কারণ প্রত্যেকটা ব্যক্তির আত্মিক সন্তুষ্টি কোনো কিছুর অপূর্ণতায়ও তাকে সুখী করে। তাই জীবনে পাওয়া, না পাওয়ার হিসাব বাদ দিয়ে, প্রত্যেকের তার জীবনের সাথে মানায় নেওয়ার চেষ্টা করা উচিত। কারণ একদিনে কোনো কিছু করা সম্ভব নয়। আর সময়ের সাথে মানুষের ব্যক্তিত্বের গঠিত রূপ কখনো তাকে বিব্রত বোধ করায় না। আর সবসময় তার ভেতরের শান্তি ধরে রাখে। যার কারনে যেকোনো পরিস্থিতিতে তার আত্মবিশ্বাস অটুট থাকে। একটা মানুষের কাছে আরেকটা মানুষের কিছু দিক ভালো লাগতে পারে। তখন বিষয়টাকে কপি না করে, সেখান থেকে কিছুটা অনুভব তৈরি করা উচিত। যা কাউকে নিজের গুরুত্ব বজায় রেখে তার প্রবাহিত জীবনের সরলতা বজায় রাখতে সহায়তা করবে।

অনেকের কাছে যেকোনো কিছুর চেয়ে তার অনুভবের গুরুত্ব বেশি। যেজন্য তার জীবনের সাথে জড়িত যেকোনো কিছুর চেয়ে নিজের গুরুত্ব বেশি থাকে। সমাজের প্রতি ভদ্রতা বজায় রাখতে সবসময় কারোর একান্তের বিষয়গুলো অপ্রকাশ্যে রয়ে যায়। কিন্তু দৃষ্টিভঙ্গির ক্ষেত্রে বেশিক্ষণ বিষয়টা অপ্রকাশ্যে রাখা সম্ভব হয় না। কারণ একটা ব্যক্তির আচার-আচরণ, দৃষ্টিভঙ্গি তার প্রকৃতির সাথে জড়িত থাকে। যে কারণে মানুষ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে মাঝে মাঝেই ভেতরের দুর্বলতা কারণে, অল্পেই সেই স্থানে থেকে তার অবস্থান ত্যাগ করতে বাধ্য হয়। বিষয়টা অনেকের চোখে অনেক রকম লাগলেও যখন অন্যের দিক থেকে তার বিষয়গুলো বিবেচনা করবে। তখন প্রত্যেকটা ব্যক্তির যেকোনো আচার-আচরণই তার কাছে দিনের আলোর মতো পরিষ্কার হতে থাকবে। যখন কারোর কোনো কিছুর জন্য অতিরিক্ত প্রচেষ্টা চালানোর দরকার হবে না।

অনেকে নিজের মানসিক দুর্বলতা নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন বিষয়ের অবলম্বন করে থাকে। কিন্তু বিষয়টা ভবিষ্যতের চিন্তাশক্তির উপর কেমন প্রভাব বিস্তার করবে তা সেই মূহুর্তে তার চিন্তার বাইরে থাকে। যার কারণে কিছু বিষয় কারোর সাময়িকের চিন্তা দূর করলেও ভবিষ্যতের ভোগান্তির কারণ হয়। এইজন্য কিছু বিষয়ে আমাদের সাময়িকের জায়গায় ভবিষ্যতের চিন্তা করা উচিত। কিন্তু ব্যক্তিভেদে প্রতিরক্ষার্থী মনোভাব বজায় রেখে। আবার কখনো এমন দেখা যায় যে, মানুষ ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করতে গিয়ে বর্তমানকে হারিয়ে ফেলে। ভবিষ্যতের চিন্তা করা জরুরি। তবে বর্তমানকে বাদ দিয়ে নয়। সীমিত জীবনের প্রত্যেকটা সময়ের সঠিক নিয়ন্ত্রণই কাউকে মানুষ হিসেবে স্বার্থকতা অর্জন করায়। তাই কিছু ক্ষেত্রে একটু কম-বেশি করে হলেও প্রত্যেকটা সময়েরই মূল্যায়ন করা উচিত। যাতে কোনো কিছুর জন্য পরবর্তীতে কারোর অনুশোচনায় না ভুগতে হয়।

কিছু পরিস্থিতি এমন হয় যে, কেউ চাইলেও কোনো কিছু মুখের উপর প্রকাশ করতে পারে না। যার কারনে তার কিছু বিব্রতকর পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হয়। যা হয়তো কেউ সবসময় তার জীবন থেকে বাদ দেওয়ার চেষ্টা করতো। পরিস্থিতি হাতের বাইরে থাকা একরকম। কিন্তু সবকিছু বলার ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও কোনো কিছুতে জড়ানোর ভয়ে নিজেকে গুটিয়ে নেওয়ার মতো কষ্টের কিছু হয় না। হয়তো এই অনুভব কাউকে মানসিক চাপ অনুভব করায় না। কিন্তু ভেতর থেকে কাউকে অসীম ভার অনুভব করায়। যেজন্য নিজের কাজ আর কথার নির্দিষ্টতা বজায় রেখে চলার চেষ্টা করা উচিত। যাতে জীবনের প্রতি ভেতরের বোঝার দায় গ্রহণ করতে না হয়। মানুষ পরিবর্তনশীল। তবে ব্যক্তিত্বের দুর্বলতায় কেউ নিজেকে পরিবর্তনের জায়গায় অন্যের অনুসারে নিজেকে পরিচালনা করে থাকে। যা কারোর পরিচিতির মিশ্রতার কারনে তার ব্যক্তিত্বকে জড়তার মাধ্যমে আবছা করে দেয়। তখন তার বিবেচনা শক্তি কাজ না করায়, আজীবন একটা ব্যক্তিত্বহীন মানুষ হিসেবে জীবন-যাপন করে যায়।

পরিস্থিতি কখনোই কারোর হাতে থাকে না। তবে কেউ চাইলেই নিজের পরিস্থিতিগুলোকে সময়ের সাথে পরিবর্তন করতে পারে। যদি তার বিবেক মজবুত আর চিন্তাধারা পরিষ্কার হয়। কিন্তু শুরুতে নিজের ভুলগুলোকে বুঝে কাউকে দোষারোপ না করার মনোভাব জীবনের জন্য শ্রেয়।