কষ্টের মাঝে রোমান্টিক গল্প.............

07th January, 2024
45




উহ....

 --- কিরে কিভাবে পড়ালা?

 আরে সেন্ডেলটা সিলিপ কেটে গেছে।

  -- দেখতো কত খানি কেটেছে!

 -- (চোখ বড় বড় করে) একটু হুস করে কাজ করা যায় না। বলেই জানাকে চেয়ারে বসিয়ে ওর রুমালটি দিয়ে কাঁটা জায়গায় চেপে ধরল সাফিন।

  নাহ, অনেক খানি কেটেছে, রক্ত ঝরছে।

  এক ঝাটাকায় ড্রয়ের থেকে ফার্স্ট এইড বক্সটা বের করলো সাফিন। তড়িঘড়ি করে রক্ত বন্ধ করার জেলটা ডলে দিলো পায়ে। আসতে আসতে কাঁটা জায়গার চারপাশ স্যাভলন দিয়ে পরিষ্কার করলো। ব্যেন্ডেজ করতে লাগলো আস্তে আস্তে সে।

  ... সাময়িকের জন্য পুরো ঘরে নিরবতা।

 জানার কষ্ট হচ্ছে, বুঝতে পেয়ে ওর চোখের দিকে তাকাতে সাহস করছে না সাফিন।

  খুব ইমোশনাল ছেলে সাফিন। কারো কষ্ট পাওয়া দেখলেই চোখে জল এসে যায়। আর জানা ত আপন মানুষ, ওর জীবন। ওকে কষ্ট পেতে দেখতে ওর সহ্য হয় কি করে!

  ... এই ত মাস খানেক হোল ওদের বিয়ে হয়েছে।

 ৬ বছরের প্রেম ছিলো ওদের, অনেক ঝড় ঝাঁপটা পেড়িয়ে, শেষে দুইজনের প্রবল আগ্রহ আর সবার সম্মতি ক্রমেই ফ্যামিলি গত ভাবে বিয়ে হয় ওদের। বেশ সুখেই কাটছে তাদের দিন গুলো, টোনাটুনির ছোট্ট সংসার।

  কি যে মিল ওদের বলে বুঝানো যাবে না। না দেখে মোবাইলে পরিচয়, কিছু দিনের মাঝেই বন্ধুত্ব। প্রায় টানা ১ বছর কথা বলার পর সাফিন প্রথম বুঝতে পারে, সে জানাকে ভালোবেসে ফেলেছে... এখন আর পিছনে ফিরে যাওয়ার সুযোগ নাই, যে কোন মূল্যে তাকে পেতে হবে।

  কিন্তু জানাও সাথে সাথে সাড়া দেয়নি, বাবা না থাকায় কিছুটা ফ্যামিলির জন্য পিছু টান ছিলো, অনেক বাধা বিপত্তি ছিলো। আস্তে আস্তে সাফিনের ভালোবাসার জোরেই সেও ভালোবাসতে শুরু করে সাফিনকে। পরবর্তিতে আল্লাহ ই সব কিছু ঠিক করে দিয়েছিলো।

  রক্ত পরা কমে গেছে। সাফিন ব্যান্ডেজ করতে লাগলো।

  জানাঃ জানো! তুমি ছুঁয়ে দিলে কেন জানি ব্যথা গুলো আর থাকেনা।

 -- সাফিন না, থাক অনেক হয়েছে... আর ব্যথা পাওনি ভাব করতে হবে না। আমি তুমাকে কষ্ট পেতে দেখতে চাইনা বলে, এভাবে বলার প্রয়োজন কি! যোগ করলো সাফিন।

  জানা হুহ... যাও তুমার সাথে কথা নাই।

 -- সাফিনঃ কই ও না কথা, আমার কি! মুচকি হাসি।

  হুম, কষ্টের মাঝেও রোমান্টিকতা। ভালোবাসার মানুষটি যদি হয় সারাজীবনের সঙ্গী, তাহলে ত কথা ই নাই প্রতিটা দিনকেই আলাদা আলাদা করে ভাবুন। সত্যি বলছি, বোরিং ফিল আসবে না, ভালবাসার মানুষকে পাবেন নতুনরুপে।

  জীবন হবে সুন্দর।


আরো নিবন্ধন পড়ুন



অবেলার সামান্য ইচ্ছা প্রকাশের আবদার- Saturday, 11th November, 2023

সাময়িক সময়ের আত্মপ্রকাশঃ

কারোর কোনো কিছুতেই নির্ধারিত চিন্তাধারা রাখা সম্ভব না। কেউ কোনো বিষয়ের জন্য আগে থেকে যেই সিদ্ধান্ত নেবে- বিষয়টা সম্পাদনা হওয়া না পর্যন্ত সিদ্ধান্তের পরিবর্তন হতে থাকবে। চিন্তা মানুষকে সময়ের সাথে পুরো বদলে দেয়। এইজন্য ভালো-খারাপ প্রত্যেকটা বিষয়ের জন্যই সময় দেওয়া উচিত। কিন্তু সময়ের চিন্তাশক্তি সবসময় রাগের ক্ষেত্রে ব্যবহার করা উচিত। কারন তখন কারোর মধ্যে বিবেচনা শক্তি দুর্বল থাকে। আর কোনো ভালো কাজের জন্য সেই কাজের মূহুর্তে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত। এইসময়টাতে কোনো ব্যক্তির চিন্তাশক্তি খুব প্রখর থাকে। যা তাকে অল্প সময়ে যেকোনো সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করে।

মানুষের জীবনের একটা সাধারণ বিষয় হলো- কষ্ট ছাড়া যেকোনো কিছুর ফল ভোগ করা। যা অসম্ভব হলেও এই ধরনের মানসিকতা কাউকে হালকা অলসতা অনুভব করায় কিছু মূহুর্তে। কিন্তু এই চিন্তার পরিবর্তনে কেউ হয়তো প্রয়োজনের চেয়েও অতিরিক্ত পেতে পারে সময় থেকে। কিছু ক্ষেত্রে অনেকেই বলে থাকে মানুষ সাধারন/অসাধারন। বিষয়টা আসলে এরকম না। প্রত্যেকটা ব্যক্তিই তার নিজের মতো। হয়তো কেউ কাউকে অনুসরণ করে চলে। আবার কেউ হয়তো নিজের খেয়ালে চলতে পছন্দ করে। পার্থক্য হচ্ছে মানসিকতায়। যার কারনে প্রত্যেকেই তার নিজের মতো।

মানুষ ৪টা জিনিস থেকে সবসময় শিখতে থাকে- পরিবার, সমাজ, সময়, প্রকৃতি। পরিবার মানুষকে কারোর করুন অবস্থায় তার পাশে থাকা শেখায়, পরিস্থিতি যেমনই হোক না কেন। সমাজ তোমার ব্যবহার আর কাজের উপর বিচার বিশ্লেষণ করতে থাকবে। যা কাউকে সময়ের সাথে পূর্ণতা অর্জন শেখাবে। সময় কাউকে জীবনের মূল্য বোঝাতে থাকবে, যতক্ষণ না বোধশক্তির উদ্ভব হয়। আর প্রকৃতি প্রত্যেককে জীবনের শুরু থেকে শেখাতে থাকবে। কারন প্রত্যেকটা মানুষই প্রকৃতির উপর নির্ভরশীল। প্রকৃতি পুরো পৃথিবী জুড়ে মানুষকে আগলে রাখে। একটা ব্যক্তির অনুভবও পরিবর্তন হয় প্রকৃতির রূপ/আবহাওয়া পরিবর্তনে। প্রকৃতি কাউকে শুরু থেকে শেষ অবধি নিজের মাঝে জরিয়ে রাখে। যা প্রত্যেকের অনুভবে থাকার কারনে সবসময় অপ্রকাশ্যে থেকে যায়।

সাময়িক সময়ের কিছু আবদার হয়তো অর্থহীন হয়। কিন্তু বাস্তবতা লুকিয়ে কখনো কোন আবদার পূরণ করলেও তার সাময়িকীকরণ কাউকে সবসময় দ্বিধাগ্রস্ত করতে থাকে। কোনো কিছুর নির্দিষ্টতা যেমন কাউকে শৃঙ্খলা শেখায়। তেমনি দীর্ঘসময়ের না পাওয়া কিছু তাকে জীবনের প্রতি ঠিক ততটাই অনুগত করায়। যা তাকে ভোগানোর জায়গায় শেখাতে থাকে। জীবনের স্বার্থকতা পরিবারের প্রতি, সমাজের স্বার্থকতা শিক্ষালয়ে আর সৃষ্টিকর্তার স্বার্থকতা পরিচালনায়। যা পুরাতনে যোগ হলেও সবসময় অপরিবর্তিত থাকবে। পরিবর্তনশীল পৃথিবীর এই ধরনের অপরিবর্তিত বিষয়গুলো এখনো সবকিছুর ভারসাম্য বজায় রেখে চলেছে। যা কারোর সীমিত জীবনকেও অসীম চাওয়ায় বদ্ধ করে রাখে।

কোনো কিছুর নেতিবাচকতা একসময় ইতিবাচক প্রভাব বিস্তার করে অনেকের জীবনে। কারণ এই নেতিবাচকতাই কাউকে শক্ত হয়ে সময়ের সাথে সফলতা অর্জনে সহায়তা করে। যা তাকে সম্পূর্ণরূপে বদলে নতুন জীবন দান করে। তখন অসফলতার খাতায় সফলতার অধ্যায় তৈরি হতে থাকে। যা পৃথিবীর বুকে দৃষ্টান্ত রূপ স্থাপন করে।

#ছোট পদক্ষেপ Saturday, 06th January, 2024

ছোট পদক্ষেপ, বৃদ্ধি আনে বৃদ্ধি। আমরা সবাই অপরিসীম, শক্তিশালী পরিবর্তন চাইতে থাকি, কিন্তু আমাদের জীবনের মৌলিক পরিবর্তন আসতে হলে সেটি ছোট পদক্ষেপের মাধ্যমেই হতে পারে।

 

আমরা অনেকগুলি ছোট পদক্ষেপের মাধ্যমে পরিবর্তন ঘটাতে পারি, যেগুলি সম্ভবত আমরা সাধারণভাবে উপেক্ষা করি। উদাহরণস্বরূপ, দিনটি শুরু হতেই আপনি কেটে এসেছেন একটি গুলি প্লাস্টিক বোতলের বৃষ্টির জোড়ো সাথে, এটি আপনার মৌলিক পরিবর্তনের শুরু হতে পারে! আমরা সকলে এই প্রকারের ছোট পদক্ষেপগুলি নেওয়ার মাধ্যমে প্রকৃতির দিকে আমাদের অবদান বাড়িয়ে দিতে পারি।

 

এই ছোট পদক্ষেপগুলি সামাজিক পরিবর্তনেও কৌশল আসতে পারে, যেটি সমাজের মাধ্যমে একজন ব্যক্তির ভিত্তিতে শুরু হতে পারে। এই পদক্ষেপগুলি একটি সুস্থ, সহজলভ্য ও বিশ্ববাসী সমাজ সৃষ্টি করতে সাহায্য করতে পারে, যাতে আমরা সমস্ত প্রকারের পরিবর্তন ঘটাতে সক্ষম হতে পারি।

 

আসুন সবাই মিলে ছোট পদক্ষেপ নেয়ার প্রতিশ্রুতি নেই এবং একসঙ্গে এই পৃথিবীকে একটি উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ দেয়ার লক্ষ্যে এগিয়ে যাই।

প্রবর্তনের সাংক্ষেপিক রুপ কারোর জীবনকে অনেকটা বদলে দেয়- Tuesday, 16th January, 2024

কিছুটা প্রত্যাবর্তনঃ

কখনো যদি কিছু বিষয় কারোর জীবনে থমকে দাড়ায়। হয়তো বেশিরভাগ মানুষ জীবনের তাগিদে সবকিছু ত্যাগ করে সামনের দিকে এগোতে বাধ্য হবে। কারণ জীবনটা ক্ষনিকের হলেও কোনো কিছু আঁকড়ে পড়ে থাকলে সবকিছু সীমাহীন মাত্রা প্রকাশ করতে থাকে। যা সময়ের সাথে কাউকে নিঃশেষ করে দেয়। তাই বোধসম্পন্ন মানুষ কখনোই কোনো বিষয়ের জন্য নিজের জীবনের সাথে পার্থক্য করবে না। পৃথিবীতে মানুষের শেখার শ্রেষ্ঠ মাধ্যম সে নিজে। কারন কোনো মানুষ নিজের জন্য কখনোই স্বার্থবাদী হয় না। প্রত্যেকেই তার নিজের মাঝে নিঃস্বার্থ, যদি জীবনের মূল্যায়ন করতে জানে! কোনো কিছুই পরিপূর্ণ নয়। যার কারণে একটা সময়ের পর সবকিছু পূর্ণতা পায়। অনেকেই সমান্য না পাওয়ায় নিজের জীবনকে দোষারোপ করতে থাকে। কিন্তু কিছু সংখ্যক মানুষই দোষের জায়গায় নিজের কর্মের হিসাব করে। কারন কর্মেই কারোর ভাগ্য নির্ধারিত বা পরিবর্তিত হয়।

জীবনের সান্নিধ্যে কেউ বিশেষ কিছু বিষয় আবদ্ধ করে রাখে। যা তাকে শেষ নিঃশ্বাস অবধি কোনো কিছুর কমতি অনুভব হতে দেয় না। যেজন্য কোনো কিছু খোঁজার জায়গায় অনুধাবন করতে পারলে সবকিছু সহজ। অনেকেই শূন্য জীবনে নিজের সৃজনশীলতায় পুরো পৃথিবীতে বিরাজ করে। যেখানে ত্যাগ করা, মানায় নেওয়া, একান্তে সবকিছু পর্যালোচনা করা সেইসব ব্যক্তির সাধারণ বৈশিষ্ট্য হয়ে থাকে। বিষয়গুলো লেখায় সাধারণ। কিন্তু এইগুলো পর্যালোচনার মাধ্যমে কারোর জীবন একবার বদলে গেলে সবসময় তা পরিবর্তিত হতে থাকে। যখন কোনো কিছুর মোহ সেইসব ব্যক্তিকে আটকাতে পারে না। কারণ ভালো মানুষ দেখতে সরল হয়। কিন্তু তাদের ব্যক্তিত্বের কারণ খুঁজলে চিন্তাশক্তির নিঃশেষেও তার পরিসমাপ্তি পাওয়া সম্ভব না।

অর্থ মানুষের সাময়িক শান্তি যা কারোর অস্তিত্ব তৈরি করে। কিন্তু চরিত্র প্রত্যেকের পরিচিতি যা কারোর মূল্যবোধ তৈরি করে। সীমিত অর্থেও জীবন পরিচালনা করা যায়। কিন্তু হালকা চরিত্রে সবকিছুর অতিরিক্ততায়ও জীবন মূল্যহীন হয়ে যায়। যা হয়তো কেউ বুঝতে পারে না। কিন্তু সেইসব ব্যক্তি কখনোই জীবনের পবিত্রতা উপভোগ করতে না। কিন্তু জীবনের পবিত্রতাই কাউকে পৃথিবীর অশেষ কষ্টের মাঝেও স্বর্গানুভব করায়। যখন কোনো কিছুর জন্য আত্মবিশ্বাস সেইসব ব্যক্তির সবচেয়ে বড় শক্তি। যা কাউকে তার জীবনে অটুট বন্ধনে আবদ্ধ করে রাখে। তাই জীবনে পাওয়ার আশায় কোনো কিছুর জন্য নিজের সাথে তুলনা করা উচিত নয়।