গল্পের নাম-ভাগ্য

07th January, 2024
49




গল্পের নাম - ভাগ্য
পর্ব 

জামাই ইঞ্জিনিয়ার অনেক টাকা রোজকার করবে, হয়তো জামাইয়ের টাকায় বসে খেতে পারবে, সেই আশায় আমার মায়ের মুখ ঝলমল করছে।
আমার মা বাবার রুপ পাল্টে গিয়েছে, আমাকে আর নিধিকে কি আদর, কোল থেকে নিধিকে নামাতেই চায়না। 
মনে মনে ভাবি স্বার্থের জন্য মানুষ কতটা বদলে যেতে পারে। 

মা ইমাকে ফোন করে জানালো আমি বিদেশ থেকে আসছি, আর সবার জন্য অনেককিছু নিয়ে এসেছি। ইমা তার স্বামীকে নিয়ে চলে আসল, আমি তো জানতাম না ইমার বিয়ে হয়েছে, তাই তার বরের জন্য কিছু আনিনি। ইমার হাতে তিন হাজার টাকা দিয়ে বললাম তোর বরকে এই টাকা গুলো দিয়ে বল শপিং করতে, ইমা খুব খুশী তার বরকে শপিং করতে টাকা দিয়েছি বলে।

আপু শুনলাম দুলাভাই ইঞ্জিনিয়ার, আর দেখতেও বেশ সুন্দর, তোর তো সেই কপাল রে, ভালোই করেছিস আদিব শয়তানকে ছেড়ে দিয়ে, এখন তুই ইঞ্জিনিয়ারের বউ, দুলাভাই অনেক টাকা ইনকাম করবে, সব টাকা তোরই হবে, তুই চাইলে মা বাবাকে আমাদেরকে সাহায্য করতে পারবি।

এখন বলছিস আদিব শয়তান ছিল, আমি তোদেরকে কতবার বলেছি আদিব আমাকে অত্যাচার করে, তোরা কি বলছিল, ওইরকম অত্যাচার সব স্বামীরাই করে।
ইংল্যান্ড যাবার আগে মাকে বলছিলাম, আমি ইংল্যান্ড যাবো না, সেদিন মা আমাকে অনেক কথা শুনিয়েছে, মনে ত্যাগ দিয়ে আদিবের সাথে ইংল্যান্ড গিয়েছিলাম, ভাবছি বাঁচলে বাঁঁচব মরলে মরব।
আদিব আমাকে অন্য পুরুষের হাতে তুলে দিতে চেয়েছিল, আমি সেদিন পালিয়ে গিয়েছি, আমার ভাগ্য ভালো হাসিবের মত মানুষের সাথে দেখা হয়েছিল, সে আমাকে আশ্রয় না দিতে এতদিনে হয়তো মরে যেতাম নয়তো কোনো পতিতালয়ের বাসিন্দা হয়ে থাকতাম।
আর সাহায্যের কথা বলছিস, আমি কি করে সাহায্য করব, টাকা ইনকাম করবে হাসিব সে যদি চায় মা বাবাকে তোদেরকে সাহায্য করতে করবে।
তার আদেশ ব্যতীত আমি কিছু করব না, কারণ সে আমার কাছে অনেক মূল্যবান একজন মানুষ।

ইমার মুখ কালো হয়ে গেল আমার কথা শুনে, সে আর কিছু বলল না।
মিলি নিধিকে কোল থেকে নামাতেই চায়না, অনেক আদর করছে মিলি নিধিকে।
নিধি বারবার পাপ্পা যাবো পাপ্পা যাবো বলছে, ভাবছি হাসিবকে ফোন দেবো কি না, সে তো তার বাসায় আছে এখন কি ফোন দেওয়া উচিত হবে, কিন্তু এইদিকে নিধি আর জন্য কান্না করছে। 
তখনি হাসিব ফোন দিয়ে বলল, 

আমি কাল সকালে আসব তোমাদের নিয়ে যেতে,
নিধি কেমন আছে, খুব মিস করছি নিধিকে।

সে তোমার জন্য খুব কান্না করছে এখনো ঠিকমত না খেয়ে ঘুমাইছে।

আচ্ছা আমি এখনি আসছি,
এই কথা বলেই হাসিব ফোন রেখে দিলো, আমি বললাম এতো রাতে আসার দরকার নেই সকালেই এসো, সে আমার কথা শুনলো না।
আধা ঘণ্টা পর হাসিব এসে দরজায় নক করছে, মা গিয়ে দরজা খুলে দিয়ে জানতে চাইলো, জামাই তুমি এতো রাতে কোন সমস্যা হয়েছে কি।

হাসিব মাকে বলল, না মা কোন সমস্যা না, ইসরাত বলল, নিধি আজ সারাদিন আমার জন্য কাঁদছে, রাতেও ঠিকমত খায়নি, তাই চলে আসলাম, সকালে ইসরাতকে আমার বাসায় নিয়ে যাবো।

হাসিবের মেয়ের প্রতি এমন টান দেখে মা বাবা বেজায় খুশী, বাবা বলে, ভাগ্য করে এমন স্বামী পেয়েছি, যার স্ত্রীর প্রতি সন্তানের প্রতি এত ভালোবাসা, সে মানুষ হিসেবে অবশ্যই অনেক ভালো। 
হাসিবকে বললাম, তুমি কি পাগল এতরাতে কেন আসলে, আসার সময় আম্মা আব্বাকে বলে আসছ, না হলে তো সকালে তোমাকে রুমে না পেয়ে খুঁজবে।

আম্মু ঘুমিয়ে গিয়েছে, আব্বু টিভি দেখছিল, বললাম, আব্বু নিধি আমার জন্য কাঁদছে, আমি এখন নিধির কাছে যাচ্ছি সকালে তাদেরকে নিয়ে চলে আসবো। 
আব্বু বলেছিল, সকালে যেতে পারতি এতো রাতে না যেয়ে, আমি চলে আসলাম। 

হাসিবের কাছে জানতে চাইলাম, আম্মা আব্বা আমাকে মেনে নিলো, এটা তো আমার বিশ্বাস হচ্ছেনা। 

প্রথমে তো খুব রাগারাগি শুরু করে আব্বু পরে সব বুঝিয়ে বললাম, বলছি ভুল করে ফেলছি ক্ষমা করে দাও, নিধির পিক দেখালাম তোমার পিক দেখালাম।
নিধির পিক দেখে আম্মু আব্বু শান্ত হয়ে গেল, আম্মু আব্বুকে বলল, দেখো হাসিব কিন্তু ছোট বেলা দেখতে এমন ছিল, হাসিবের মেয়ে হাসিবের মত হয়েছে, আর রাগ করে কি হবে, ছেলের বউ আর নাতীকে মেনে নাও।
ভাইয়া ভাবী একটু প্রতিবাদ করেছিল, আব্বু ধমকে দিয়েছে, পরে আর তারা কিছু বলেনি, আব্বু বলেছে কাল তোমাদেরকে বাসায় নিয়ে যেতে।

হাসিবের বাসায় আমাকে মেনে নিতে রাজী হয়েছে শুনে আমার বুকের উপর থেকে একটা পাথর নেমে গেল, আমি ভেবে নিয়েছিলাম, হাসিবের মা বাবা আমাকে মেনে নিবেনা।
আজ প্রথম আমি হাসিব এক বিছানায় শুয়েছি, এখন থেকে এক বিছানায় থাকতে হবে, না হলে তো সবাই বলবে স্বামী স্ত্রী হয়ে কেন আমরা এক বিছানায় ঘুমাই না।
নিধি মাঝখানে আমি আর হাসিব দুইজন দুই পাশে, হাসিব বলল, ইসরাত তোমার মনে হয় সংকোচ লাগছে আমার সঙ্গে ঘুমাতে।
আজ রাতটা কোনমতে কাটিয়ে দাও আমার বাসায় গেলে একসঙ্গে থাকা লাগবে না, আমার রুমে সোফা আছে আমি সেখানেই ঘুমাবো, তুমি নিধিকে নিয়ে খাটে ঘুমাবে।

তুমি এতটাই সাধুপুরুষ নিজের স্ত্রীকে দূরে সরিয়ে রাখতে চাও, আমাকে কি তুমি ভালোবাসো না, কেন দূরে সরে থাকতে চাও, বিয়ে করছ কিন্তু স্ত্রীর অধিকার এখনো দাও না, আমি কি এতটাই নগন্য যে তোমার স্পর্শ পাওয়ার যোগ্যতা আমার নেই।
হাসিব আমার মুখে হাত চাপা দিয়ে ধরে ফেলে বলল, আর লজ্জিত কর না আমাকে, এখানে না, আমার বাসায় যাই সব হবে।

হাসিব নিধিকে তার বুকের উপর তুলে নিলো নিধি হাসিবের বুকের উপর ঘুমাচ্ছে, হাসিব একটা হাত আমার গলার নিচে দিয়ে আমাকে জড়িয়ে ধরলো। আমি তার আরেকটা হাতে আমার হাত রেখে ঘুমিয়ে গেলাম।

সকালে নাস্তা করে হাসিব আমাদেরকে নিয়ে তার বাসায় গেল, পল্লবীতে তার বাসা, বাসার ভিতরে অনেক সুন্দর, অনেক ফুল ফলের গাছ লাগানো চারদিকে। 
বাসার ভিতর ঢুকতেই হাসিবের আম্মু এসে নিধিকে কোলে নিলো, শ্বশুর শাশুড়ীকে সালাম করলাম, হাসিবের ভাবী হাসিবকে বলল, এমন মেয়ে বিয়ে করেছ পছন্দ করে, কি রুচি তোমার। 
হাসিব তার ভাবীকে বলল, আপনার গায়ের রঙ ফর্সা বলেই কি আপনি নিজেকে সুন্দরী ভাবেন, একবার ইসরাতের সাথে আয়নার সামনে গিয়ে দাঁড়িয়ে দেখেন কে সুন্দরী, ইসরাতের গায়ের রঙ আপনার চেয়ে একটু কালো কিন্তু ফেস আপনার চেয়ে সুন্দর।

আচ্ছা থাকো তোমার সুন্দরী বউ নিয়ে আর কখনো কিছু বলব না,  এই কথা বলে হাসিবের ভাবী রুমে চলে গেল।
ভালোই যাচ্ছে আমাদের সংসার, এখন আমার শ্বশুর শাশুড়ী আমার প্রতি দারুণ খুশী, কারণ আমি সংসারের দায়িত্বগুলো নিজ হাতে তুলে দিয়েছি। 
কাজের মেয়ে থাকা সত্বেও রান্না আমি করি, সকালে বিকালে চা করে দেই শ্বশুর শাশুড়ীকে তাদের সেবাযত্ন করি।
ভাবী কোনো কাজ করে না, খাবার সময় খায় আর সারাদিন টিভি দেখে মোবাইল নিয়ে পড়ে থাকে, তার একটা বেবি আছে ছয় বছর, নাম ইফাত, তার দেখাশোনা আমার শাশুড়ী করে। আমি যখন নিধিকে খাওয়াই তখন ইফাদকেও খাইয়ে দেয়, ইফাদ আমাকে ছোট আম্মু বলে ডাকে।

হাসিব সরকারি চাকরি পেয়েছে আইটি সেক্টরে, সে সংসারের সমস্ত খরচ দেয়, আগে আমার ভাসুর সব খরচ দিতো।
এখন আমার ভাসুর, শ্বশুরকে বলে, তোমার ছেলেকে বিদেশে লেখাপড়া করিয়ে ইঞ্জিনিয়ার বানাইছ, সে এখন, সরকারি চাকরি করে, অনেক ভালো বেতন পায়, তাকে বল সব খরচ চালাতে।

হাসিব তার বেতনের বেশির ভাগ টাকা তার বাবার হাতে তুলে দেয়, আর বাদবাকি টাকা আমার কাছে রাখে।
আমি টাকা আমার কাছে রাখতে চাইনি, হাসিব বলে আমার টাকা মানে তোমার টাকা, যখন ইচ্ছা করবে খরচ করবে।
সে বলেছে খরচ করতে, কিন্তু আমার খরচ করার প্রয়োজন পড়ে, না চাইতেই সবকিছু পেয়ে যাই।

আজ শুক্রবার ছুটির দিন, হাসিব আমাকে রেডি হতে বলল।
কেন জানতে চাইলাম,
সে বলল, নামাযের পর নুহাশ পল্লী ঘুরতে যাবে।
বিকালে নুহাশ পল্লীর উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিলাম, নিজেদের গাড়ি করে। সাথে ইফাদকে নিয়ে গেলাম।
নুহাশ পল্লী থেকে ঘুরে আসতে রাত আটটা বেজে গেছে, এসেই হাসিব বিছানায় শুয়ে পড়ল, নিধিও ঘুমিয়ে পড়ছে।
আমি শাড়ি চেঞ্জ করে আসতেই হাসিব আমাকে টান মেরে তার বুকের উপর নিয়ে নিলো, বললাম কি করছ দরজা লক করা হয়নি।
হাসিব বলল, তাতে কি আমার বউকে আমি আদর করব, কে আসবে আমার রুমে।
আমি জোর করে ছাড়িয়ে দরজা লক করে আসলাম।

চলবে,,,

গল্পটি আপনাদের কাছে কেমন লেগেছে অবশ্যই 
লাইক কমেন্ট করে জানাবেন


আরো নিবন্ধন পড়ুন



” আপনার সেই আবেগগুলি আপনাকে কষ্ট দেয় যেগুলি একান্তই আপনার মনে হয় ।” Monday, 12th February, 2024

আবেগি মন স্ট্যাটাস দিয়ে এই পোস্ট টি করা হয়েছে । আমাদের এই সাইটে হাজার হাজার বাংলা স্ট্যাটাস ও এসএমএস পাবেন । তবে এখানে কিছু কষ্টের স্ট্যাটাস বা আবেগি মন স্ট্যাটাস পাবেন । অনেকেই এই ধরনের স্ট্যাটাস অনেক লাইক করে । তাই আমরা এখানে কিছু সুন্দর সুন্দর স্ট্যাটাস দিয়েছি । আশাকরি আপনাদের কাছে এগুলো অনেক ভালো লাগবে । তো চলুন দেখা যাক সেই সেরা স্ট্যাটাস গুলোঃ

আবেগি মন স্ট্যাটাস :

” আপনার সেই আবেগগুলি আপনাকে কষ্ট দেয় যেগুলি একান্তই আপনার মনে হয় ।”

” প্রেম একটি শক্তিশালী আবেগ । প্রেম অন্য সব কিছুকে গুরুত্বহীন করে দেয়, কারণ অন্যসব আবেগ এত বেশী শক্তিশালী নয় ।”

” আপনি যখন কষ্ট পাবেন, তখন সেই কস্টকে প্রেরণায় রূপান্তরিত করার চেষ্টা করুন, হাল ছাড়ার কারণ হিসাবে নয়।”

” আমার ইচ্ছে হয় আমি তোমাকে ক্ষমা করে দেই, কিন্তু আমার আবেগ তা করতে দেয় না, কারণ তুমি সত্যিই অনেক বেশী কষ্ট দিয়েছো আমায় ।”

” তুমি হয়তো মরতে চাও, কিন্তু বাস্তব টা হলো তুমি নিজেকে সেভ করতে চাও ।”

” মরে যাওয়া কোন সমস্যার সমাধান নয়, বরং বেঁচে থেকে সমস্যা সমাধানের লড়াই করে যাওয়াই হলো জীবন ।”

????কিছু আরবি শব্দের বাংলা অর্থ : আসুন আমরা জেনে নি ???? Sunday, 07th January, 2024


 
১. #বিসমিল্লাহ (بِسْمِ اللّهِ)
বিসমিল্লাহ অর্থ: আল্লাহর নামে শুরু।
তাৎপর্য: আল্লাহর বারাকাহ ও নিরাপত্তা অর্জন।    

২. #আলহামদুলিল্লাহ (الْحَمْدُ لِلّٰهِ)
আলহামদুলিল্লাহ অর্থ: সকল প্রশংসা আল্লাহর।
তাৎপর্য: আল্লাহর প্রশংসা ও শুকরিয়া আদায় করা।        

৩. #সুবহানাল্লাহ (سُبْحَانَ اللّٰهِ)
সুবহানাল্লাহ অর্থ: আল্লাহ পবিত্র।
তাৎপর্য: মহান আল্লাহর পবিত্রতা ঘোষণা করা।       

৪. #আল্লাহু_আকবার (اللّٰهُ أَكْبَرُ) 
আল্লাহু আকবার অর্থ: আল্লাহ সবচেয়ে বড়।
তাৎপর্য: আল্লাহর বড়ত্ব ঘোষণা ও সবকিছুর উপরে আল্লাহকে স্থান দেয়া।       

৫. #লা_ইলাহা_ইল্লাল্লাহ (لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللّٰه)
লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ অর্থ: আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ (মাবুদ) নেই।   
তাৎপর্য: আল্লাহর এককত্ব ঘোষণা করা এবং তার সাথে অন্য কাউকে শরীক না করা।       

৬. #জাজাকাল্লাহু_খাইরান   
(ﺟَﺰَﺍﻙَ ﺍﻟﻠّٓﻪُ ﺧَﻴْﺮًﺍ)
জাযাকাল্লাহু খাইরান অর্থ: আল্লাহ আপনাকে উত্তম প্রতিদান দিন।       
তাৎপর্য: অন্যের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা।

৭. #মাশাআল্লাহ (ما شاء الله)
মাশাআল্লাহ অর্থ: আল্লাহ যেমন চেয়েছেন।
 তাৎপর্য: আল্লাহর প্রশংসা করা। 

৮. #ইনশাআল্লাহ (ان شاء الله)
ইনশাআল্লাহ অর্থ: যদি আল্লাহ চান।
তাৎপর্য: আল্লাহর উপর ভরসা কর। 

৯. #আস্তাগফিরুল্লাহ (ﺃﺳﺘﻐﻔﺮ ﺍﻟﻠﻪ)
আস্তাগফিরুল্লাহ অর্থ: আমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাই।
তাৎপর্য: আল্লাহর নিকট ক্ষমা চাওয়া ও তাওবাহ করা।  

১০.  #ফি_আমানিল্লাহ্ (في أمان الله)
ফি আমানিল্লাহ অর্থ: আল্লাহর নিরাপত্তায় সোপর্দ করলাম।
তাৎপর্য: আল্লাহর নিকট নিরাপত্তা চাওয়া, ভরসা করা।

১১. #নাউযুবিল্লাহ (نعوذ بالله)
নাউজুবিল্লাহ অর্থ: আল্লাহর কাছে এথেকে আশ্রয় চাই।
তাৎপর্য: মন্দ কিছু শুনলে কিংবা দেখলে এথেকে আশ্রয় প্রার্থনা করা।

১২. #লা_হাওলা_ওয়ালা_কুওয়াতা_ইল্লা_বিল্লাহ  
(لَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللَّهِ)
অর্থ: আল্লাহর সাহায্য ও সহায়তা ব্যতীত আর কোন আশ্রয় ও সাহায্য নেই।
তাৎপর্য: আল্লাহর এককত্ব ও বড়ত্ব প্রকাশ।  

১৩. #ইন্নালিল্লাহি_ওয়া_ইন্না_ইলাইহি_র_জিউন 
(إِنَّا لِلّهِ وَإِنَّـا إِلَيْهِ رَاجِعونَ) 
অর্থ: নিশ্চয়ই আমরা মহান আল্লাহর জন্য এবং আমরা তার দিকেই ফিরে যাবো। 
তাৎপর্য: মৃত্যু ও পরকালের স্মরণ।

১৪. #সুবহানাল্লাহি_ওয়া_বিহামদিহি  
(سُبْحَانَ اللَّهِ وَبِحَمْدِه)
অর্থ: মহাপবিত্র আল্লাহ এবং সকল প্রশংসা তাঁর জন্য।
তাৎপর্য: আল্লাহর পবিত্রতা ও প্রশংসা ঘোষণা করা। 

১৫. #সুবহানাল্লাহিল_আযীম 
(سبحان الله العظيم)
অর্থ: মহপবিত্র আল্লাহ, যিনি মহান।
তাৎপর্য: আল্লাহর পবিত্রতা ও বড়ত্ব ঘোষণা।

 Alhamdulillah

ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ ব্যক্তি ছিঁড়ছে সম্পর্কের পাতা- Friday, 08th December, 2023

সম্প্রদায়ের শক্তিঃ

​​​​​​মানুষের তাগিদের অতিরিক্ততায় কেউ অনেক সময় রক্তের সম্পর্ককে অস্বীকার করে ফেলে। যখন কেউ সেই ব্যক্তির পরিস্থিতি বোঝার জায়গায় সবসময় তাকে দোষারোপ করে থাকে। মানুষ নিজের তাগিদে করতে পারে না, এমন কিছু নাই। কিন্তু যখন মানুষ পরিবারের তাগিদে কোনো কিছু অস্বিকার করে। তখন সেই ব্যক্তিকে তার পরিবারের সদস্যরাই অতিরিক্ত ভুল বোঝে। যখন তার পাশে সবথেকে বেশি দরকার ছিল তার পরিবারের। কিন্তু মাঝে মাঝে পরিবারের জন্য পরিবারের কিছু ত্যাগই তাকে সবথেকে বেশি দুর্বল করে থাকে। যার কারনে এই ধরনের ব্যক্তিগুলো কখনোই নিজের দায় কমাতে পারে না। কিন্তু সামনে থেকে সবার সামনে সে স্বার্থবাদী ব্যক্তি হিসেবে উপস্থিত হয়। কিন্তু তার জীবনে মানুষের ভালোর জন্য ত্যাগের পরিমাণ বেশি হয়ে থাকে। হয়তো এই কারণে সমাজে তার মূল্য থাকলেও পরিবারের কাছে থেকেও সম্পর্কের দূরত্ব বজায় রেখে চলতে হয়।

সমাজে যে তোমাকে বেশি আপন মনে করাবে। বুঝে নিও সেই ব্যক্তি না চাইতেও তোমার হালকা কষ্টের কারণ হবে। কারণ বেশি মূল্যায়িত ব্যক্তিগুলোর সামান্য কিছু বিষয়ও অতিরিক্ত অনুভবের কারণ হয়। যখন সেই বিষয়ে কিছু প্রকাশ না করতে পারার পরিস্থিতিতে ব্যক্তিগুলোর কষ্ট একটু বেশি হয়। তখন বিষয়টার প্রতি অপ্রকাশ্যে হয়তো কেউ প্রয়োজনের চেয়ে বেশি জড়িত থাকে। যার কারনে অপ্রকাশ্যে অনুভবকৃত মানুষগুলো সাধারনের মাঝেও নিজেদের ব্যক্ত করে যায়। কিন্তু বাস্তবতা সবসময় মানুষকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ শেখায়। যার কারণে মানুষ ত্যাগেও তাদের শান্তি খুঁজে নেয়। তাই কোনো কিছু হয়তো মানুষকে দুর্বল করে। কিন্তু সেই মূহুর্তের দুর্বলতাগুলোই একসময়ে কারোর ভিতরের চিরস্থায়ী শক্তিতে রূপান্তরিত হয়। যখন ব্যর্থাতায়ও কেউ নিজেকে মানসিকভাবে শক্ত রাখতে পারে।