বাবা

06th January, 2024
62




বাবার মৃ'তদে'হ সামনে রেখে বললাম " বাবার ঋণদার যারা আছেন,আপনাদের পাওনা টাকা আমাকে জানাবেন।বাবার ঋণ আমি শোধ করবো "

 

ছোট বোন আমার হাত চেপে ধরে বললো " ভাইয়া,তুই শোধ করবি কিভাবে? তুই নিজেই তো ৫ বছর ধরে কোনো চাকরি পাচ্ছিস না।বেকারত্বের শিকার হয়ে টাকা শোধ করবি কিভাবে? "

 

বোনকে অভয় দিয়ে বললাম " শত কষ্ট হলেও শোধ করবো বোন "

 

সারারাত আমার ঘুম হলো না।বোনের বিয়ের বয়স হয়ে গেছে।পরিবারের খরচ নাহয় কোনোরকম চালাবো,কিন্তু বোনের বিয়ে কিভাবে দিবো? 

 

পরেরদিনই ঋণদাতারা এসে বাড়িতে হাজির।বাইরে বেড় হয়ে এতো লোককে দেখে ঘামে আমার কপাল ভিজে উঠলো।মৃদু স্বরে বললাম 

 

" আপনারা বাবার কাছে কত টাকা পান বলুন।আমি চেষ্টা করবো শোধ করার "

 

ওদের মধ্যে থেকে একজন এগিয়ে এসে বললো " আমরা ব্যাংক থেকে এসছি।উনি তার ছেলে মেয়ের নামে ৭ লাখ টাকা সঞ্চয় করে রেখে গেছেন।কাইন্ডলি ব্যাংকে যোগাযোগ করুন "

 

একথা বলে তিনি চলে গেলেন।বাকি লোকগুলিও ছোট ছোট সমিতি থেকে এসছেন। ওরা জানালেন বাবা ওদের সমিতিতে প্রতিদিন ২০ টাকা করে সঞ্চয় রাখতেন।

 

রাতে সব মিলিয়ে হিসেব করে দেখলাম বাবা আমাদের জন্য মোট ১১ লাখ টাকা সঞ্চয় করে রেখে গেছেন।মনে পড়ে গেলো সেদিন রাতের কথা।যে রাতে আমি বাবাকে বলেছিলাম

 

" আপনি কেমন বাবা?আমার ভবিষ্যতের নিয়ে আপনার কোনো চিন্তা আছে?দরকার নেই আমার এমন বাবার "

 

বাবা তখন মৃদু হেসে বলেছিলেন " আমার সাধ্য মতো চেষ্টা করছি।সময় হলেই পেয়ে যাবে "

 

হ্যা সে সময়টা এখন এসে গেছে।কিন্তু বাবা চলে গেছে দূরে,ওই তারাদের কাছে।আমি আকাশের দিকে দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললাম 

 

" বাবা,আজ পর্যন্ত তোমায় কখনো বুঝতে পারলাম না।এখন বুঝতে পারছি,কেন তুমি এক শার্ট পড়েই একটা বছর কাটিয়ে দিতে "

 

#বাবা ❤️

জয়ন্ত কুমার জয়


আরো নিবন্ধন পড়ুন



সর্বোত্তম মূহুর্তের যেকোনো বিবেচনা মন থেকে আসে- Thursday, 30th November, 2023

বিবেচনার প্রেক্ষিতেঃ

কিছু শব্দ যখন ভাবনায় আটকে থাকে। তখন পর্যায়ক্রমে মানুষের চিন্তার খুব দ্রুত পরিবর্তন হয়। কিন্তু আবেগ থমকে থাকে। যার কারনে মানুষ অনুভব করা ভুলে যায়। এখন বিষয়টা হলো যে, এমনটা কখন হয়? সত্যিকার অর্থে যেই ব্যক্তিগুলো কোনো কিছুর প্রতি নিজের চেয়েও বেশি মূল্য দিয়ে থাকে। সেই বিষয়টার সামান্য আঘাতও ওই ব্যক্তিকে ভেতর দিয়ে অনুভব করায়। যার কারণে সেই বিষয়ের সাথে কেউ মানায় নিতে গেলে, মনঃস্তাত্বিক কষ্ট তাকে বিষয়টার প্রতি অভিমানের অনীহা তৈরি করায়। যার কারনে সবকিছুর পরিবর্তনের মাত্রা বাড়লেও সেই বিষয়ের নিস্তব্ধতা ওই মূহুর্তেই সবকিছুর পরিসমাপ্তি ঘটায়। নতুন করে বিষয়টা পুনরুজ্জীবিত হলেও হয়তো পূর্বের মতো কোনো কিছুই থাকে না। যার কারনে সেই বিষয় সম্পর্কিত যেকোনো কিছুই তার জীবনের প্রতি মূল্যহীনতা প্রকাশ করতে থাকে।

মানুষ তার জীবনের কিছু সময়ে সবকিছুর চিন্তা ভুলে একটু শান্তির নিঃশ্বাস নিতে চায়। কিন্তু পরবর্তীর বাস্তবতার কথা চিন্তা করলেই তখন বিষয়টাকে স্বপ্নে বেঁধে ক্লান্তির নিঃশ্বাসে নতুন সময়ের পথচলা শুরু করে। যেখানে কোনো কিছুর মানে না থাকলেও প্রত্যেকটা জিনিসের কারন খুঁজে জীবন পরিচালনা করতে হয়। কিন্তু আত্মিক বিবেচনাগুলো সবসময় ভেতরে স্বপ্নের বাসা বেঁধে পূর্ণতার অপেক্ষায় থাকে। যা কাউকে অনুভবে ভালো থাকতে সহায়তা করে। তার স্বপ্নগুলো পূরণ হোক বা না হোক। তাই প্রত্যেকের উচিত সবার সাফল্যের অনুপ্রেরণা নিয়ে নিঃস্বার্থভাবে পরিশ্রমের সাথে সৎভাবে এগোতে চেষ্টা করা। তাহলে তার জন্য কোনো না কোনো সময় ভালো কিছু অবশ্যই থাকবে। যা কল্পনার বিষয়গুলো থেকে অতিরিক্ত সুন্দর হবে। তখন হয়তো তার জীবনের সরলতার জন্য বিষয়গুলোর অপব্যবহার করার চিন্তা-ভাবনা আসবে না জীবনে। যার কারনে কষ্ট হলেও আস্তে আস্তে নিজেকে বদলানোর চেষ্টা করা উচিত। যা পরিবর্তন করার ক্ষমতা একমাত্র সৃষ্টিকর্তার কাছে থাকবে।

প্রশ্ন মানুষ তখনই করে যখন কোনো বিষয়ের প্রতি সে সম্পূর্ণ অজ্ঞাত না হচ্ছে। কিন্তু প্রত্যেকেটা মানুষের জানার ধরণ আর ইচ্ছাশক্তি হয়তো একরকম হয় না। অনেকে আছে, দ্বিধাবোধের মাধ্যমে প্রশ্ন করে থাকে। আবার অনেকে সবাইকে দেখে প্রশ্ন করে। আর কিছু প্রকৃতি আছে, যারা অন্যকে প্রশ্ন করার জায়গায় নিজেকে ভেতর দিয়ে সবসময় প্রশ্ন করে। আর নিজেই নিজের প্রশ্নের উত্তর খুঁজে বের করে। প্রশ্ন/কৌতুহলের এমন অনেক ধরন আছে যা হয়তো লেখা বা বলায় সীমাবদ্ধ নয়। কিন্তু উল্লেখিত প্রশ্নের ধরনের মধ্যে বিভিন্ন পার্থক্য সময়ের সাথে ব্যক্তিগুলোকে পরিবর্তিত বা অপরিবর্তিত রাখে। যে ব্যক্তিগুলো দ্বিধাবোধে কোনো প্রশ্ন করে, সেই ব্যক্তিগুলো তার অজান্তে পরিস্থিতি আর সময়কে খুব ভয় করে। তখন তার পরিবর্তনের জন্য সময়ের সাথে নিজের দ্বিধাবোধের পরিসমাপ্তি ঘটানো শ্রেয়। আর যে ব্যক্তিগুলো সবাইকে দেখে প্রশ্ন করে, তারা অন্যের বিচার-বিশ্লেষণেও অপরিবর্তিত থাকে। যার জন্য সময়ের সাথে তাদের পরিবর্তন হলেও ব্যক্তিত্বের দুর্বলতায় বিবেচনা, চিন্তা-ভাবনা, বোধশক্তির কোনো প্রভাব থাকে না জীবনের প্রতি। আর যে প্রকৃতির ব্যক্তিগুলো নিজেই নিজেদের প্রশ্নের সমাধান করে থাকে, তারা সবসময় পরিস্থিতির চেয়ে অন্যের বিচার-বিশ্লষণকে এড়িয়ে চলার চেষ্টা করে। কারণ বাস্তবেও তাদের ভেতরে একটা আলাদা জায়গা থাকে নিজের জন্য। যেখানে দোষ ধরে অপমান করার মতো কেউ না থাকায় সঠিকভাবে যেকোনো কিছু বিবেচনা করতে সক্ষম হয়। সেখানে ভুল হলেও সংশোধনে কোনো বিষয়ের জন্য দ্বিধাগ্রস্ততার স্বীকার হতে হয় না।

ক্ষুদ্র প্রতাপ সাময়িক সময়ে প্রভাব বিস্তার করে- Wednesday, 14th February, 2024

মনোস্তাত্বিক ইন্দ্রজালঃ

প্রেরণা সাধনার ফল। যা সবার জীবনে থাকে না। কারণ অনেকে মনে করে, প্রেরণা হয়তো ব্যক্তি বা পরিস্থিতির মাধ্যমে সময়ের সাথে তৈরি হয়। বর্তমান সমাজে এইটাই কারোর ভুল ধারণা। কারণ বিশ্বাসে মিলায় বস্তু তর্কে বহুদূর। তাই নিজের যোগ্যতায় অর্জিত যেকোনো কিছুই জীবনের অনুপ্রেরণা। যা কাউকে সম্মানের সাথে প্রাণ খুলে বাঁচতে শেখায়। যেজন্য শান্ত বিবেচনায় নিস্তবদ্ধতার মাধ্যমে অপর ব্যক্তিকে প্রতিঘাত করা সম্ভব। যখন কেউ উত্তেজিত মনোভাবে হার স্বীকার না করলেও; তোমার দিকে আঙুল তোলার সাহস পাবে না। যার মাধ্যমে তুমি নিজের ভেতরের প্রেরণা অনুভব করতে পারবা। আর ধীরে ধীরে যা তোমাকে নিজের জীবনের প্রতি অনুপ্রাণিত করে তুলবে।

বিচরণ মস্তিষ্কে এমন অনেক কিছুই সম্ভব, যা অনেক সময় কেউ বলে বোঝাতে পারে না। কারন কিছু ব্যক্তি সম্ভাব্য কোনো কিছু এড়ানোর চিন্তায় নিজেকে তার মস্তিষ্কে সাবলীল রাখতে পছন্দ করে। প্রতিশ্রুতি মানুষকে বদ্ধ করে। যার কারনে অনেকেই যেকোনো ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত নেওয়ার শুরুতে দায় অনুভব করে থাকে। তাই বেশিরভাগ ক্ষেত্রে কিছু ব্যক্তির সিদ্ধান্ত নিতে অতিরিক্ত সময়ের প্রয়োজন পড়ে। যখন কেউ তার ভিতরের জড়তা কাটাতে সবসময় বিভিন্ন মাধ্যমের প্রয়োগ করে থাকে তার জীবনে। কিন্তু সব মাধ্যম সবাইকে তুষ্ট করতে পারে না। যে কারনে জীবনের বিষন্নতায় অনেকে অল্প সময়েই ধৈর্য হারায় ফেলে। তাই সবার প্রথমে নিজের ভিতরে শান্ত মনোভাব পোষণ করা উচিত। যার মাধ্যমে কেউ ধীরে ধীরে নিজেকে শান্ত করতে পারবে। যখন সময়ের সাথে কেউ নিজেকে অনুভব করতে পারবে। নিজের প্রয়োজনকে সঠিকভাবে অনুধাবনের মাধ্যমে ইচ্ছাশক্তি পোষণ করতে সক্ষম হবে। তখন কারোর জড়তা দূর হওয়ার মাধ্যমে তার ভেতর সচ্ছতা তৈরি হতে থাকবে। যা কারোর চিন্তাশক্তির মাধ্যমে তার প্রত্যেকটা মূহুর্তকে সুন্দর করে তুলবে।

কখনো মানুষ যখন হঠাৎ করে মোহের রাজ্যে প্রবেশ করে, তখন কোনো ব্যক্তির আচমকা উপস্থিতি বা কথা তাকে অন্যরকমভাবে প্রভাবিত করে থাকে (অবশ্যই তার জীবনে ব্যক্তিটার মূল্যায়ন অনুযায়ী)। যখন কেউ না চাইতেও নিজেকে স্বাভাবিক রাখার জন্য ব্যস্ত হয়ে পড়ে। যেই মূহুর্তে হয়তো কারোর মধ্যে দ্বিধাগ্রস্ততা কাজ করে না। তবে সাময়িক ত্রুটিপূর্ণ সময়ের অনিচ্ছাকৃত মনোভাব কারোর মধ্যে দোটানা সৃষ্টির মাধ্যমে তাকে সবকিছু থেকে আলাদা করতে থাকে। কিন্তু পৃথিবীর সামনে তারা নিজেদেরকে কখনোই বদ্ধ রাখে না। যার কারনে না পাওয়া সময়ের অপূর্ণ কিছু ইচ্ছা জীবনে যত্নসহকারে আগলে রাখার মাধ্যমে তারা নিজেদেরকে মানবিকতার মাধ্যমে তুষ্ট করে থাকে।