কিছু বিষয়ের দীর্ঘস্থায়ীত্ব মানুষের জীবনকে প্রভাবিত করে-

11th December, 2023
405




চিন্তার বিপরীতের পরিবর্তনঃ

কিছু পরিস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে থাকে অনেকের জীবনে। যখন বিষয়টার সাথে জড়িত যেকোনো কিছু চাইলেও কেউ তার ভেতর থেকে মুছে ফেলতে পারে না। কারণ যে বিষয়গুলো মানুষ নিজে থেকে অনুভব করতে পছন্দ করে। সেই বিষয়গুলোর মধ্যে যতোই জটিলতা থাকুক না কেন। আজীবন তারা বিষয়টার প্রতি আত্মিকভাবে জড়িত থাকে। যার জন্য বিষয়টা অপ্রকাশ্যেও সেইসব ব্যক্তির প্রকাশ্যের শক্তির কারণ হয়ে থাকে। হয়তো বিষয়গুলো অনেকের মধ্যেই অজানাভাবে থাকে। যার কারনে তারা খুঁজতে থাকা বিষয়গুলোকে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে গুলিয়ে ফেলে। কিন্তু মানুষের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো তার ভিতরে জমনো বিশেষ অনুভব। যা কাউকে যেকোনো পরিস্থিতির প্রভাব থেকে সবসময় মুক্ত রাখে।

বাস্তবতা কঠিন। তবে মানুষের থেকে বেশি নয়। কারণ যেকোনো কিছু নিয়ন্ত্রণমাফিক পরিচালিত হলেও মানুষের বেশিরভাগ বিষয় তার নিজের মতো করে পরিচালিত হয়। যার কারণে বাস্তবতা মানুষের জীবনের অংশবিশেষ। যা কাউকে সবসময় ঠিক-ভুলের পার্থক্য শেখাবে। কিন্তু সময়ের সাথে নিজের দিক দিয়ে কারোর আলাদাভাবে পথচলা শিখতে হয়। যখন সাবধানতার সাথে প্রত্যেকটা বিষয়ের মূল্যায়ন আবশ্যক হয়ে পড়ে জীবনের জন্য। তখন কঠিনের মাঝেও একান্তের জীবনগুলো পূর্ণতা অর্জনে সক্ষম হয়। কিন্তু যারা নিজেকে বুঝতে অসক্ষম রয়ে যায়। তারা কোনো কিছুর সমাপ্তিতেও নির্বোধ রয়ে যায় ভেতর থেকে। যখন সম্ভাবনার যেকোনো কিছু সেইসব ব্যক্তির জীবনে মূল্যহীনভাবে রয়ে যায়।

মানুষ শুরুর দিকে বিবেক পর্যালোচনা না করে যখন তার জীবনের জন্য বড় কোনো সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকে। তখন হয়তো অনেকের মাথায় এই চিন্তা আসে না যে, সেই পরিস্থিতিতে নিজেকে মানানসই করার জন্য তাকে কিসের সম্মুখীন হতে হবে। কিন্তু যখনই কেউ পরবর্তীর চিন্তা না করে ভলোলাগার মোহে কোনো সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলে। তখন সেইসব ব্যক্তির মধ্যে সমস্তকিছুর কঠিন বাস্তব রূপ, ধীরে ধীরে তার ভুলগুলো চোখে আঙুল দিয়ে দেখাতে থাকে। যখন বিষয়গুলো তার চোখে কাটার মতো বিদলেও মুখ বুজে সহ্য করা ছাড়া কোনো উপায় থাকে না। তাই সময়ের আগে কোনো সিদ্ধান্তই গ্রহণ করা উচিত নয়। যা কাউকে তার জীবনের শেষ অবধি ভোগায়। মানুষ হিসেবে সবকিছু মেনে নেওয়া গেলেও জীবনের সাথে জড়িত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের ক্ষেত্রে নিজ থেকে নেওয়া ভুল সিদ্ধান্তের প্রতি অনুশোচনার অনুভব থেকে কখনো মুক্তি পাওয়া সম্ভব নয়। আর এই বিষয়ের জন্য যেকোনো বিকল্প রাস্তার সন্ধান সমস্যা সমাধানের জায়গায় ধীরে ধীরে সেইসব ব্যক্তির জীবন নিঃশেষ করতে থাকে। আর পরিসমাপ্তিতে গল্পের পাতায় প্রবাদের মতো করে সেইসব ব্যক্তির জীবন উল্লেখিত থাকে। যা শুনেই সবাই শান্তনা নেয়, প্রয়োগে নয়।

রিলেটেড পোস্ট


মানুষ বাকহীন মূহুর্তে তার ভেতরের কষ্টগুলো কাউকে বোঝাতে পারে না-
পড়া হয়েছে: ৩১৭ বার

মানুষ নির্ভীক মনোভাবে যেকোনো কিছু শক্তভাবে অনুধাবন করে-
পড়া হয়েছে: ৯৩০ বার

জীবনের সান্নিধ্যে সবকিছুর নির্ধারিত মাত্রা বজায় রাখা উচিত-
পড়া হয়েছে: ৮৩৩ বার

নিস্বার্থ প্রকৃতির মায়াবী রূপ-
পড়া হয়েছে: ২৬৬ বার

অর্জিত আস্থাই মানুষের মনে বিশ্বাস তৈরি করে-
পড়া হয়েছে: ৩৭৪ বার

শান্তি মানুষকে শক্তিশালী করে জীবনভোগ শেখায়-
পড়া হয়েছে: ৬৯০ বার

কিছুটা সুন্দর মুহূর্ত-
পড়া হয়েছে: ২৫৪ বার

চিরন্তন সত্য-
পড়া হয়েছে: ৩৮৩ বার

কারোর জীবনে না চাইতেও পাওয়া কিছু বিশেষ উপহার-
পড়া হয়েছে: ৩২৩ বার

শুরু থেকে শেষের অপেক্ষায় থাকা জীবন-
পড়া হয়েছে: ২২৪ বার


আরো নিবন্ধন পড়ুন



স্মৃতির মাঝের বিষয়গুলো সবসময় শ্রেষ্ঠ হয়- Monday, 04th December, 2023

সময়ের স্মৃতিচারণঃ

কেউ যখন শৈশবের জীবন পার করে। সময় তখন তাকে নিজের সাথে পরিচয় করাতে থাকে। কিন্তু অনেকের কাছে শৈশবে প্রাপ্ত মায়ের ভালোবাসা সবসময় সোনার মূহুর্ত হয়ে তাদের জীবনের পাতায় বদ্ধ থাকে। শৈশবে যেকোনো শিশুর একমাত্র নিরাপদ স্থল মায়ের কোল। যেখানে প্রত্যেকটা শিশুই প্রকৃত শান্তি উপভোগ করে থাকে। হয়তো সময়ের সাথে অনেকে এই মূহুর্তগুলোকে আগের মতো করে অনুভব করে না। কিন্তু ব্যর্থতার কিছু মূহুর্তে এই অনুভবই কাউকে ভিতর থেকে পুনরুজ্জীবিত করে তোলে। কারোর জীবনে সবকিছু পরিবর্তন হলেও এই বিষয়টা সবসময় এক রকম থেকে যায়। শুধু অনুভবের মাধ্যমে বিয়টার অস্তিত্ব বজায় রাখা সম্ভব। যা সবার ক্ষেত্রে কিছু সময় বজায় রাখা সম্ভব হয় না। কিন্তু বিষয়টার স্মৃতিচারণই কারোর মধ্যে মনুষ্যত্ববোধ বজায় রেখে পথচলতে সহায়তা করে।

মানুষের জীবনে কোনো কিছুই যেমন সহজে পূর্ণতা পায় না। তেমনি অল্পেই কোনো কিছুর প্রাপ্তি তাকে দেরিতে সেই বিষয়ের প্রতি অনুগত করায়। কারণ সবকিছু দুর্লভ হওয়ায় যেকোনো বিষয়ের বোধশক্তি কারোর মধ্যে দেরিতে কাজ করে। কিন্তু অনুধাবন মাত্রই বিষয়টার স্থায়িত্ব নিশ্চিত হয় অনেকের জীবনে। যার কারনে শত ভুলের মাঝেও মানুষ পৃথিবীতে তার শ্রেষ্ঠত্ব প্রকাশ করে যায়। সূর্য যেমন চাঁদের আলোর কারণ। তেমনি কোনো শিশুর জীবনের মূল্যবোধ তৈরিতে পরিবারের নিঃস্বার্থ ভালোবাসা, তার ভবিষ্যতের সফলতার কারণ। প্রত্যেকটা বিষয়ের সাথেই মানুষের জীবন ওতপ্রোতভাবে জড়িত। যার কারণে একটাকে বাদ দিয়ে আরেকটা চিন্তা করা সম্ভব নয়। তাই জীবনে সবকিছু নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে প্রত্যেকটা বিষয়ের প্রতি সমান গুরুত্ব বজায় রাখা উচিত।

কোনো ঘরে মানুষ না থাকলে যেমন সেই বাড়ির অস্তিত্ব ফুরায়। তেমনি পরিবার ছাড়া কোনো জীবন অস্তিত্বহীনতায় নিঃশেষ হয়। তারা হয়তো সময়ের আগে সফলতা অর্জন করে থাকে। যার কারনে ক্ষমতার জোরে হয়তো পুরো পৃথিবীকে তার পাশে পায়। তবুও আবছা মূল্যবোধে জীবনের নিঃসঙ্গতা সবসময় তাকে অস্তিত্বহীনতা অনুভব করায়। যাদের পরিবার আছে তাদের হয়তো এই বিষয়টা কখনো অনুভব হয় না। যার কারণে একটা সময়ের পর সফলতা অর্জনে কিছু ব্যক্তির মূল্যবোধ আবছা হয়। যেজন্য এই ধরনের ব্যক্তিগুলো সীমিত ক্ষমতার্জনে সবসময় পাশে থাকা পরিবারের মূল্য দিতে ভুলে যায়। তেমনি পরিবার পাশে না পাওয়া ব্যক্তিগুলো প্রয়োজনাতিরিক্ত ধন-সম্পদের মালিক হওয়া স্বত্ত্বেও চিরজীবন পরিবারের নিঃসঙ্গতায় সবকিছুর মাঝেও অস্তিত্বহীন জীবন অনুভব করে। তখন হয়তো একটা পরিবার তার জীবনকে পূর্ণতা দান করে থাকে।

একটি করুণ প্রেমের গল্প............................. একটি সম্পর্ক শুধুমাত্র ভালোবাসার ওপর না বরং এটি নির্ভর করে একে অপরের মধ্যে বিশ্বাসের উপর..✨️???????????? Sunday, 07th January, 2024

আমাদের মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী নয়। সবার কাছে আমাদের একটাই অনুরোধ। আমাদের দেহগুলো দয়া করে কাটতে দেবেন না। পাশাপাশিই আমাদের কবর দেবেন। আর সবাই আমাদের ক্ষমা করে দেবেন। আমরা একজন আরেকজনকে ছাড়া বাঁচতে পারব না। তাই পৃথিবী ছেড়ে চলে গেলাম।.... বেঁচে থাকতে তো কেউ আমাদের এই সম্পর্ক মেনে নেবে না। বাবা-মায়ের অবাধ্য হয়ে তাদের মনেও কষ্ট দিতে পারব না। তাই এই পথ বেঁচে নিতে বাধ্য হলাম দুজন। ইতি: রমজান + সুখী।’

 পাঠক, এটি একটি সুইসাইড নোট। দুই তরুণ-তরুণীর আত্মহননের আগে এই চিরকুট লিখে গেছেন। চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার নোয়াপাড়ার চৌধুরীহাটে ১৯ সেপ্টেম্বর গভীর রাতে এ ঘটনা ঘটে। মৃত্যুর আগে অভিভাবকেরা তাঁদের সম্পর্ক মেনে না নিলেও পাশাপাশি হয়েছে শেষ আশ্রয়। বাড়ির পাশের পুকুরপাড়ে শুয়ে আছে এই জুটি। এখনো তাজা কবর। কবরে গুঁজে দেওয়া খেজুর গাছের ডাল দুটিও সতেজ।

 রমজান আলী (২০) ও সুখী আকতার (১৬)। চৌধুরীহাটের বারইপাড়া গ্রামে সামনাসামনি দুজনের বাড়ি। দূরত্ব বড়জোর ৫০ গজ। সম্পর্কে বেয়াই-বেয়াইনও (তালতো ভাই-তালতো বোন)। রমজান নোয়াপাড়া কলেজের উচ্চমাধ্যমিকের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র। সুখী নোয়াপাড়া মুসলিম উচ্চবিদ্যালয়ের দশম শ্রেণীর ছাত্রী। পাশাপাশি থাকার সুবাদে কাছাকাছি আসে একে অপরের। একসময় দুটি তরুণ মন স্বপ্ন দেখে ঘর বাঁধার। কিন্তু বাধা হয়ে দাঁড়ায় দুই পরিবারের দ্বন্দ্ব। এই দ্বন্দ্বও আরেকটি প্রেমের সম্পর্ক ঘিরে। তিন বছর আগে রমজানের বড় ভাই আজগর আর সুখীর বড় বোন লাকী ভালোবেসে বিয়ে করেছেন। এ সম্পর্ক এখনো মেনে নেয়নি দুই পরিবার। এই বিষয়টি বারবার ঘুরপাক খেতে থাকে দুজনের মাথায়। কী করবেন তাঁরা। পরিবার, না সম্পর্ক—এই টানাপোড়েনে মুষড়ে পড়েন রমজান ও সুখী। শেষ পর্যন্ত জীবনকে ছুটি দিয়ে দিলেন এই দুই তরুণ-তরুণী। মরণেও দুজন দুজনকে ছাড়া ভাবতে পারেননি কোনো কিছু। সেখানেও সহমরণ। সুখীদের বাড়ির পেছনের পুকুরপাড়ে একটি জামগাছের ডালে ফাঁসিতে ঝুলে আত্মহত্যা করেন দুজন একসঙ্গে। একে অপরকে কোমরে বাঁধা অবস্থায় পাওয়া যায় তাঁদের মরদেহ। নিশ্চিত হওয়া গেছে, সুইসাইড নোটটি সুখীর হাতের লেখা।

 গত মঙ্গলবার চৌধুরীহাটে সুখীদের বাড়িতে গিয়ে দেখা গেছে, ঘরের দাওয়ায় বসে আছেন মা জোবেদা খাতুন। মুখে কথা নেই। শুধু এদিক-ওদিক তাকাচ্ছেন। মেয়ের জন্য এখনো বিলাপ করে চলেছেন বাবা মোহাম্মদ ইদ্রিস। বাড়ির ভেতরে সুখীর কক্ষে পড়ার টেবিলে থরে থরে সাজানো পাঠ্যবই রসায়ন, বাংলা...। খাতাও পড়ে আছে টেবিলের ওপর। শুধু সুখী নেই।

 তিন ভাই তিন বোনের মধ্যে সবার ছোট সুখী। ভাইদের বড় আদরের ছিল সে। বোনের মৃত্যুসংবাদ শুনে ওমানের মাসকাটে থাকা দুই ভাই ছুটে এসেছেন এক নজর শেষ দেখা দেখতে। ভাইদের জন্য মরদেহের গাড়িতে লাশ রেখে দেওয়া হয় দুদিন। তাঁরা আসার পর দাফন করা হয়।

 বাবা ইদ্রিস বলেন, ‘আমরা ঘুণাক্ষরেও টের পাইনি ও (সুখী) এ কাজ করবে। শান্তশিষ্ট, পড়ালেখায়ও ছিল ভালো। ছেলেটিও (রমজান) ছিল শান্ত। আমাদের মাথায় ছিল না তারা দুজন এমন করবে।’ মাসকাট থেকে আসা সুখীর ভাই মোহাম্মদ হাসান বলেন, ‘আমাদের ইচ্ছা ছিল তাঁকে ডাক্তারি পড়াব। এখন সব শেষ।’ রমজানের বাড়িতেও শোকের মাতম। ছয় ভাই একবোনের সবার ছোট রমজান। তিনি চলে গেলেন সবার আগে। বাবা সালেহ আহমেদ থাকেন সৌদি আরবে। ছেলের মৃত্যুসংবাদ শুনে তিনিও মুষড়ে পড়েছেন।

 এ ঘটনা মানতে পারছেন না সুখীর বিদ্যালয়ের শিক্ষকেরাও। কথা বলার সময় শ্রেণী শিক্ষক ফণী ধর দাশের গলা ধরে আসছিল। বললেন, ‘সে ষষ্ঠ শ্রেণী থেকে নবম শ্রেণী পর্যন্ত প্রথম অথবা দ্বিতীয় হয়ে এসেছে। কিন্তু নবম শ্রেণীর শেষ দিকে এসে সে প্রায়ই বিষণ্ন থাকত। যার প্রভাব পড়ে বার্ষিক পরীক্ষার ফলাফলে। রোল নম্বর হয় ১১। আমি নানাভাবে তার কাছ থেকে জানার চেষ্টা করেছি কি হয়েছে। কিন্তু কিছু বলেনি।’

 বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জিয়া উদ্দিন বলেন, ‘এ ঘটনার পর আমরা প্রতিটি শ্রেণীতে কাউন্সেলিং করেছি। শিক্ষার্থীদের বলেছি, এ ধরনের ঘটনা হলে পারিবারে বলতে না পারলেও যেন শিক্ষককে জানায়। আর অভিভাবকদেরও সচেতন হতে হবে।’ রমজানের বন্ধুরা জানান, তিনি প্রায় সময় তাঁদের সম্পর্ক নিয়ে হতাশ থাকত। বলত, ‘দেখিস, একদিন সব ছেড়ে চলে যাব।’ এ যাওয়া যে শেষ যাওয়া হবে, তা বোঝেননি বন্ধুরাও।